চুরি করতে আসা লোকটিকে কেন ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য নিতে হলো

চুরি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে। (প্রতীকী ছবি)
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

চুরি করতে এসে যে কেউই পুলিশকে এড়িয়ে যাবেন - সেটাই সাধারণত হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বরিশালে এক ব্যক্তি একটি দোকানে চুরি করতে এসে নিজেই পুলিশকে ফোন দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে এআর খান বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

ওই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজনের কাছে তা ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ।

ভোররাতে হঠা জরুরি নম্বরে ফোন

ঘড়িতে তখন ভোর পাঁচটার একটু বেশি বেজেছে। বরিশালের বন্দর থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এসআই শহীদুল ইসলাম।

হঠাৎ জরুরী নম্বর ৯৯৯ থেকে তার সরকারি নম্বরে একটি ফোন এলো।

"ওপাশ থেকে আমাকে জানানো হল সম্মানিত একজন নাগরিক বড় বিপদে পড়েছে। বিপদ থেকে বাঁচতে সে পুলিশের সাহায্য চেয়েছে। তার সাথে একটু কথা বলেন। এই ভাষাতেই বলা হয়েছে। তখনও কি ধরনের সমস্যায় সে পড়েছে সেটা আমি বুঝতে পারিনি।", বলছিলেন শহীদুল ইসলাম।

ফোনে সংযোগ দেয়া হলে ওপাশ থেকে একজন জানালেন - তিনি একটি দোকানের ভেতরে আটকে পড়েছেন, অনেকক্ষণ হলো বের হতে পারছেন না। তাকে যেন বের হতে সাহায্য করে পুলিশ।

"আমি তার কাছে জানতে চাইলাম কোন এলাকায় সেই দোকান। কিন্তু সে বিস্তারিত জানাতে পারছিল না। জায়গাটা সম্পর্কে ভাসাভাসা বলতে পারছিল। তখন আমি বললাম আশপাশে কেউ আছে? থাকলে তাদের কাউকে ফোনটা দিতে। কিন্তু সে সেটা করবে না।ৱ

"তখন সে বাধ্য হয়ে জানালো আসলে সে দোকানে চুরি করতে এসেছিল। আশপাশের মানুষজন টের পেয়ে গেছে। বেশ মানুষজন জড়ো হয়ে গেছে। এখন সে বের হলে তাকে ধোলাই দেয়া হবে এই ভয়ে পুলিশে ফোন দিয়েছে"- বললেন মি.ইসলাম।

গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতে পুলিশকে ফোন

এসআই শহীদুল ইসলাম বলছিলেন, "কারণ তাহলে সে গণপিটুনি থেকে বেঁচে যাবে, যেহেতু গণপিটুনিতে তার প্রাণের ঝুঁকি আছে।"

চুরি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নিজেকে বাঁচাতে পুলিশে ফোন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। (প্রতীকী ছবি)

শহীদুল ইসলাম বলছিলেন, পেশাগত কারণে বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য তিনি বহুবার করেছেন। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা তার কোনদিন হয়নি।

তিনি বলছেন, ঘটনা জানতে পেরে তিনি অবাক হয়েছেন এবং সে নিয়ে হাসিও পেয়েছে তার। ফোন রেখে তিনি ওই এলাকায় যে টহল দল ছিল তাদেরকে বিষয়টা জানান। তারা এলাকাটি খুঁজে বের করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা। চরকাউয়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। বুধবার ভোররাতে তালা ভেঙে ঢুকেছিলেন একটি মুদি দোকানে।

দোকানের মালিক ঝন্টু হাওলাদার জানিয়েছেন, "আমি দোকানের পাশেই থাকি। একটু খুটখুট শব্দ পেলাম দোকানের ভেতর থেকে। যখন বুঝলাম যে দোকানে কেউ ঢুকেছে, টের পেয়ে গিয়ে দেখি বাইরে তালা ভাঙা। তখন বাইরে থেকে আর একটা তালা লাগিয়ে দিলাম।

"আর চোরও ভেতর থেকে আটকে দিল - যাতে আমরা ঢুকতে না পারি। এরপরই মনে হয় সে পুলিশে খবর দিয়েছে। পরে দেখি পুলিশ আসছে। লোকটাকে নিয়ে গেল থানায়।", বলছিলেন ঝন্টু হাওলাদার।

তিনি জানান, দোকানের মালপত্র নিয়েছিল অল্প কিন্তু টাকাগুলো সব নিয়ে নিয়েছিল। তবে তিনি এই বিষয়ে কোন মামলা করেননি। টাকা এবং মালপত্র হারাননি তাতেই তিনি খুশি।

"কারণ মামলা করলে ঝামেলায় পড়তে হবে। একা দোকান চালাই। দোকান ফেলে বারবার থানায় যেতে হবে। এইটা আমার জন্য লোকসান।", বলছিলেন তিনি।

কিন্তু পুলিশকে ফোন করেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি অভিযুক্ত ব্যক্তির। কারাগারেই জায়গা হয়েছে তার।

"এর আগেই তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকের মামলা ছিল। আমরা সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে", জানিয়েছেন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান।