বিএনপি: নারায়ণগঞ্জে যুবদল কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন হত্যা মামলা দায়ের করবে দলটি

ছবির উৎস, MARZIA RAHMAN
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে বিএনপির যুব সংগঠনের একজন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার পরদিন শুক্রবার দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা ঐ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করবেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বেআইনীভাবে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে স্থানীয় যুবদল কর্মী শাওন প্রধান নিহত হয়।
কিছুদিন আগেই ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপির দু'জন কর্মী নিহত হয়েছে।
পুলিশ বলছে, আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন:
বিএনপি কেন মামলা করবে?
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শাওন প্রধানের বড় ভাই মিলন হোসেনের স্বাক্ষরে স্থানীয় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
সেই মামলায় ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু এই মামলা নিয়ে নিহত শাওন প্রধানের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি।
তারা পুলিশ প্রশাসন থেকে চাপে রয়েছেন বলে দৃশ্যত মনে হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন দলের পক্ষ থেকেই তারা পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করবেন।
"আমরা ভোলার ঘটনায় মামলা করেছি। আমরা এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটলেই মামলা করবো," জানান মি: আলমগীর।
পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলির অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ বেআইনীভাবে সরাসরি গুলি চালাচ্ছে।
"কয়েকটি জায়গায় লক্ষ্য করছি, অতি উৎসাহী হয়ে প্রথমেই তারা (পুলিশ) গুলি বর্ষণ করছে। কোন কারণ বা কোন উস্কানি ছাড়াই তারা গুলি করছে," বলছেন মি: আলমগীর।
তিনি আরও বলেন, "নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় কোন উস্কানি ছিল না। কিন্তু পত্রিকায় ছবি দেখেছেন, সেখানে কিভাবে কর্মীদের দিকে তাক করে সরাসরি গুলি করেছে।"
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য হচ্ছে, জবাবদিহিতা না থাকায় এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে।

ছবির উৎস, MARZIA RAHMAN
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
নিহত শাওন প্রধানের মৃতদেহ বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের কড়া পাহারায় দাফন করা হয়েছে এবং জানাজায় পরিবারের সদস্যদেরও অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে।
দলটির পক্ষ থেকে শুক্রবার ঢাকায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, কিছুদিন ধরে পুলিশ আবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মারমুখী আচরণ করছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও তার আগে ভোলায় বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ সরাসরি গুলি চালিয়েছে।
জবাবদিহিতার অভাব
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এর সমালোচনা করছে।
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, জবাবদিহিতার অভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, "রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অনেক সময় সরকারি বাহিনী বানিয়ে ফেলা হয়। সেজন্য জবাবদিহিতা থাকে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, বিরোধীদলের কর্মসূচি নিয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল এখন বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তার প্রভাবে পুলিশ মারমুখী আচরণ করছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে শুক্রবার ঢাকায় মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত যুবলীগ। সংগঠনটি এখন থেকে মাঠ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

'ক্ষমতাসীনরা মাঠ দখলে রাখতে চায়'
রাজনৈতিক কলামিস্ট ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, নির্বাচন আসছে এবং সেকারণে ক্ষমতাসীন দল এবং পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসছে।
"নির্বাচনের আবহাওয়াটা শুরু হয়ে গেছে। সেটা যতই এগিয়ে আসবে, ততই এগুলো বাড়তে থাকবে।"
এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "একদিকে সরকার প্রধান বলছেন যে মিটিং মিছিলে বাধা দেয়া হবে না। একইসাথে দেখছি, মন্ত্রীরা বলছেন, রাজপথ দখলে রাখব। তারা হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।
"ফলে বিরোধীদলের কর্মসূচিতে বাধা দিতে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মীরাও নামছে," মি: আহমদ বলেন, "পুরো বিষয়টা হচ্ছে, বিএনপিকে তারা মাঠে নামতে দেবে না।"
মহিউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, "প্রশাসন এবং পুলিশে এতই দলীয়করণ হয়েছে যে পুলিশ এখন সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের মতো হয়েছে।"
অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের
পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, পুলিশ আক্রান্ত হলে তখনই কেবল আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, "কয়েকটি জায়গা ছাড়া সারাদেশেই কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবেই সবাই তাদের প্রোগ্রাম করছে। পুলিশ আইন অনুযায়ীই যা করার সেটাই করছে। কোথাও ঝামেলা হচ্ছে না।
"কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভেবে যদি কেউ পুলিশের ওপর আক্রমণ করে, তাহলে পুলিশকে অবশ্যই তার সুরক্ষায় ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে," বলেন মি. কামরুজ্জামান।
একইসাথে তার বক্তব্য হচ্ছে, "যদি আমরা মনে করি যে কোথাও অতিরিক্ত কিছু করা হচ্ছে, তাহলে সেগুলো আমরা খেয়াল রাখি। সেগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থাও নেয়া হয়।"
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশ যদি আক্রমণ করা হয়, তখনই পুলিশ নিজেকে রক্ষায় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।








