এডিটার'স মেইলবক্স: গার্ডার দুর্ঘটনা, নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম আর সালমান রুশদি নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, MONIR HOSSAIN JIBON
- Author, মানসী বড়ুয়া
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
ঢাকার ব্যস্ত একটি রাস্তায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কংক্রিটের বিশাল গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলার সময় চলন্ত গাড়ির ওপর পড়ে পাঁচ জন নিহত হবার মর্মান্তিক একটি ঘটনা ছিল এ সপ্তাহের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত একটি খবর।
এই প্রসঙ্গে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসপ্তাহে লিখেছেন বেশ অনেক শ্রোতা। দুর্ঘটনার দায় কার এনিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে মোহাম্মদ রাজিব হুসাইন রাজু:
"নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় প্রাইভেট কারে পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের নির্মম মৃত্যু ঘটলো। প্রশ্ন হলো এই ধরনের ব্যস্ততম মহাসড়কে জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে নির্মাণ কাজ চালানো এবং এই ধরনের দুর্ঘটনার দায়ভার কি কোনভাবেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে? তাদের চরম গাফিলতি,অব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিকল্পনাহীনতার ফলে সাধারণ মানুষ আর কত খেসারত দিবে? দেশের নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, সড়ক ও মহাসড়কে মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিতকরনে আরো জনবান্ধব ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করুন।"
বড় কোন নির্মাণকাজে এ ধরনের গার্ডার বসানোর সময় জন নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা হবে এমনটা আশা করাই স্বাভাবিক। কাজ চলাকালীন সড়ক বন্ধ রাখা, ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্থানটি ঘিরে রাখা, যাতে কাজ চলাকালীন মানুষ ও গাড়ি সেখানে চলাচল না করে এবং চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প পথ তৈরি করা এসবেরই দায়িত্ব যারা প্রকল্প পরিচালনা করছেন তাদের এবং সেটা নজরদারিরও একটা দায়িত্ব রয়েছে প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। বাংলাদেশে গার্ডার ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, প্রাণহানিও হয়েছে। যারা এধরনের প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন তাদের দায়বদ্ধ করতে না পারলে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

ছবির উৎস, Getty Images
'প্রকল্প সাময়িক বন্ধ কি সমাধান?'
দুর্ঘটনার পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়ে সমস্যার সমাধান কতটা সম্ভব সে প্রশ্ন তুলেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''এ ঘটনার পর ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের কাজ পরিচালনায় নূন্যতম কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তাই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, জন-দুর্ভোগ বাড়ছে। এভাবে কাজ চলতে দেওয়া যায় না। তাই সাময়িক ভাবে সব কাজ বন্ধ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, পাঁচজন মানুষের প্রাণ যাওয়ার পর কি মনে হলো এ প্রকল্পের কাজ পরিচালনায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই? এতোদিন কেন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? আর কাজ বন্ধ করে রাখলে কি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে? আমার কিন্তু তেমনটা মনে হয় না। কোনো একটা ঘটনার পর কিছুদিন হৈচৈ হবে তারপর সব আগের মতোই চলবে।"
আপনি ঠিক কথাই বলেছেন। একটা দুর্ঘটনার পর কিছুদিন তা নিয়ে নানা কথাবার্তা হয়, হৈচৈ হয়, কিন্তু তার কিছুদিন পর আবার দেখা যায় অন্যত্র একইভাবে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। কী করা দরকার তা হয়ত সকলেই জানেন, কিন্তু বাস্তবে তা করা হচ্ছে কি না সে দিকে কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর নজর রাখছেন সেটাই হল বড় প্রশ্ন। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের সাবধানতা নেয়া উচিত, সে সম্পর্কে যারা কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা কতটা সচেতন সেদিকেও নজর দেয়ার হয়ত দরকার রয়েছে।
'দুর্ঘটনা না হত্যাকাণ্ড?'
বাংলাদেশে এধরনের দুর্ঘটনাগুলোর সংজ্ঞা কি হওয়া উচিত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লালবাগ, রংপুর থেকে মোহাম্মদ মহসিন আলী:
"গতানুগতিক ধারায় আবারও তদন্ত কমিটি গঠন। এঘটনার জন্য আসলে দায়ী কে? মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কোথায়? রাস্তায় চলতে গিয়ে জীবনের নিশ্চয়তা কোথায়? এর আগে হোটেল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে চকবাজার এলাকায় প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু হলো। বিবিসির মত দায়িত্বশীল একটি গণমাধ্যম এই ঘটনাগুলোকে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে কী করে? এগুলো কি আসলে দুর্ঘটনা নাকি লুটপাট করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা জনিত হত্যাকান্ড?"
এসব ঘটনা যে কারণেই ঘটে থাকুক না কেন এগুলো যে দুর্ঘটনা সে বিষয়ে তো কোন সন্দেহ থাকতে পারে না মি. আলী। আর দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা তো বলতেই হবে। প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে সেগুলো ছাড়া অন্য সব দুর্ঘটনার পেছনেই সাধারণত মানুষের কোন না কোন ভূমিকা থাকে। এখন কী সেই কারণ, সেই দুর্ঘটনা কার অবহেলায় ঘটল সেটা অবশ্যই তদন্ত করে দেখার বিষয় আছে। আর মানুষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটলে তার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান তো আইনে আছে।

ছবির উৎস, BANGLADESH FIRE SERVICE
শাস্তির অভাব আর মামলার ধীরগতি
কিন্তু সেই আইন প্রয়োগে একটা অনীহা রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''মূলত সরকারের তদারকি সংস্থার চরম গাফিলতি ও যথাযথ নিরাপত্তার অভাবে এ ধরনের একের পর এক বড় বড় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ কোন দায়দায়িত্ব স্বীকার করে না। এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই সরকারের টনক নড়ে এবং দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। গঠন করা হয় বড় বড় তদন্ত কমিটি। দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয় কিন্তু মামলায় গতি আসে না এবং দায়ীদের যথাযথ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না।''
এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না বলেই মনে হয়। তবে যারা এসব প্রকল্প পরিচালনা করেন, সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিয়ে তাদের সচেতন করে তোলাটাও জরুরি, যাতে এসব কাজের সময় জননিরাপত্তার দিকটা তারা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়।
এ বিষয় নিয়ে আরও অনেক শ্রোতাই এ সপ্তাহে লিখেছেন, একইধরনের বক্তব্য পাঠিয়েছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে-মেনহাজুল ইসলাম তারেক আর খটখটিয়া, রংপুর থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন।

ছবির উৎস, Getty Images
পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য
গার্ডার দুর্ঘটনা থেকে আসি বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়া প্রসঙ্গে। এনিয়ে লিখেছেন কপিলমুনি খুলনার মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক কাদির কল্লোল তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি কীভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগী,মুরগীর ডিম,তেলাপিয়া মাছ,পাঙ্গাস মাছ আমার জানামতে- আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষ এই ধরনের খাবার সংসার চালানোর জন্য ক্রয় করে থাকেন। গত কয়েক দিন ডিম সহ সকল কিছুর দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম উঠা নামা করে। তবে খুব বেশিদিন একভাবে স্থায়ী হয় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম কম হবার সম্ভাবনা কি আছে?"
বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনের খরচ বেড়েছে এবং তার একটা প্রভাব পড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আশা করছেন এই পরিস্থিতি ক্ষণস্থায়ী হবে। কিন্তু কতদিন তা স্থায়ী হবে, কখন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম আবার নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আসবে তা বলা মুশকিল।

ছবির উৎস, Getty Images
ডিম বয়কটের প্রচারণা
ডিমের দাম বাড়া নিয়ে পরের চিঠি লিখেছেন রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:
"দেশে বর্তমানে সকল প্রকার দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। হয়তো এমন কিছু নাই যেটার দাম বাড়েনি। ডিম ও মুরগির দামও এর বাইরে নয়। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে- ডিম পচনশীল দ্রব্য। এটি কিছুদিন না খেলে আমাদের সমস্যা হবে না। ফলে দাম কমে যাবে! এমন কী দেশের একজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নায়কও এই ক্ষতিকর প্রচারণার বাইরে নন। কিন্তু আজকে ডিম খাওয়া ছেড়ে দিলে আগামীতে দেশের খামারীরা ধ্বংস হবে। পরিণামে ডিমও আমদানি করে খেতে হবে।
''বাস্তবে দেশের প্রায় সকল কৃষিপণ্যই পচনশীল। তাছাড়া যখন দেশে তেল, ডিজেল, গ্যাস, রড, সিমেন্ট, আমদানিকৃত প্রসাধনী ইত্যাদি সামগ্রীর দাম বেড়ে যায় তখন কিন্তু কেউই বয়কটের ডাক দেয়নি।"
আসলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে কে কীভাবে খরচ সামাল দেবেন সেটা একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যেটা না খেলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না, যে সামগ্রী আপনার জন্য বাহুল্য সেটা আপনিই ঠিক করবেন এবং প্রয়োজনে খরচ কমাতে সেটার ব্যবহার আপনি সাময়িকভাবে বাদ দেবেন কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন আপনিই। আর পণ্যসামগ্রী বয়কট করলেই যে সেসবের দাম কমে যাবে তা তো নয়। তার সুদূরপ্রসারী একটা অর্থনৈতিক প্রভাবও থেকে যাবে।

ছবির উৎস, FARJANA K. GODHULY/Getty Images
অর্থনীতি প্রসঙ্গে লিখেছেন ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:
"নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রী ক্রয় করা খুব কঠিন হচ্ছে। মাছ,মাংস ও ডিমের দাম বাড়ায় গরীব মানুষ এগুলো ঠিকমতো কিনতে পারছে না। ফলে আমিষের অভাবে আগামীতে দেশের মানুষ চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগবে বলে পুষ্টিবিদরা মতামত প্রকাশ করছেন। শুনেছি বাংলাদেশ নাকি মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যেখানে ঠিকমতো বাজার করতে পারছে না, পরিবারের শিশু সন্তানসহ সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার যোগান দিতে পারছে না, এমতাবস্থায় আমরা কি এখন মধ্যম আয়ের কাতারে অবস্থান করছি, না খুব দ্রুত চরম দারিদ্র্য সীমার নীচের দিকে ধাবিত হচ্ছি?"
এটা নির্ভর করবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কোন দিকে যায় তার ওপর। প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় অনুসারে দেশগুলোকে চারটি আয় গ্রুপে ভাগ করে। মধ্যম আয়ের কাতারে থাকার যে সুনির্দিষ্ট সূচক বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক, সেই মাপকাঠিতে বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় রয়েছে। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের সূচকে বাংলাদেশ তার স্থান ধরে রাখতে পারলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না বলেই ধারণা করা যায়।
'মানুষ মৃত্যুর মহড়া'
সমাজ ও জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রসাদপুর, সাতক্ষীরা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:
"ইদানিং মানুষ মৃত্যুর যেন মহড়া চলছে। সড়ক দুর্ঘটনার রকমফের, অগ্নদগ্ধতা, নৌকাডুবি, গার্ডার পড়া, হত্যা, খুন, ছিনতাই করতে গিয়ে খুন ইত্যাদির সাথে যোগ হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আত্মহত্যা। সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনার সাথে লাইভে এসে আত্মহত্যা, আবার কখনও আত্মহত্যার হুমকির ঘটনাগুলো ফিরে দেখার সময় এসেছে। আমাদের সমাজ ও জীবন কোথায় যাচ্ছে?"
আপনার এই উদ্বেগ অমূলক নয়। এসব মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সামাজিক প্রেক্ষাপট জড়িয়ে আছে সেখানে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা অবশ্যই প্রয়োজন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের রাস্তা খোঁজাও যে জরুরি সে বিষয়ে আপনার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে বলে মনে হয় না।

ছবির উৎস, Getty Images
পুলিশের আচরণ
পুলিশের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে লিখেছেন ফকিরহাট,বাগেরহাট থেকে তন্ময় কুমার:
"যে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সম্প্রতি ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে, বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাংচুরকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জের যে ঘটনা ঘটেছে সেটিকে কি পুলিশের পেশাদারী আচরণ বলা যায়?
''কারণ কোন স্থানে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হামলা চালাতে পারে। তার বিপরীতে পুলিশের নির্দিষ্ট অপরাধীকে শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিবর্তে এভাবে গণ মারপিট এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার সংসদ সদস্যের সাথে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলা কি শোভনীয়?"
পুলিশের দায়িত্ব যে অপরাধীকে বা অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আইনই অপরাধীদের বিচার করবে ও শাস্তি দেবে।
সালমান রুশদি কি 'বিতর্কিত' লেখক?
সালমান রুশদিকে বিতর্কিত লেখক বলা উচিত কিনা জানতে চেয়ে লিখেছেন চরফ্যাশন, ভোলা থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
"১২ই আগস্ট বিবিসি বাংলার খবরে দেখলাম বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সময় হামলা হয়েছে। সালমান রুশদি একজন বিতর্কিত লেখক এবং তার 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটি প্রকাশের পর থেকেই অনেক মুসলিম এই বইটিতে তাদের ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন। তবে আমি লক্ষ্য করেছি বিবিসি অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে "বিতর্কিত" শব্দটি ব্যবহার করে। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে সালমান রুশদির ক্ষেত্রে "বিতর্কিত" শব্দটি ব্যবহার করেনি, এর কারণ কী? বিবিসি কি তার বিতর্কিত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে?"
প্রথমত বিবিসি সব মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেই সমর্থন করে। দ্বিতীয়ত সালমান রুশদী যে একজন বিতর্কিত লেখক সে বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার কোন কারণই নেই। বিবিসি বাংলার সব রিপোর্টে তার নামের ক্ষেত্রে বিতর্কিত শব্দটি ব্যবহার না করা হয়ে থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে তিনি বিতর্কিত নন। বিবিসি বাংলার বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানে এবং অনেক অনলাইন রিপোর্টে আমরা তাকে বিতর্কিত লেখক বলেই উল্লেখ করেছি।

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসির খবর
সবশেষে বিবিসিকে নিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন মিঠাপুকুর, রংপুর থেকে মোহাম্মদ মোস্তাফিজার রহমান:
"আমি সেই ছোট্ট বয়স থেকে বিবিসি বাংলা শুনি। বলা যায় বিবিসি বাংলা শোনা আমার এক প্রকার নেশা হয়ে গেছে। ১০/০৮/২২ তারিখে অফিস থেকে ফেরার পথে দেখি খুবই ভিড়ের মধ্যেও ষাটোর্ধ্ব একজন ব্যক্তি কানের কাছে মোবাইল নিয়ে বিবিসির প্রবাহ অনুষ্ঠান মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। এর আগেও এটিএম বুথে দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডকে নিয়মিত বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান শুনতে দেখছি। বুঝাই যায় বিবিসি বাংলা এখনো শতভাগ শ্রোতাদের বিশ্বাসের জায়গা ধরে রেখেছে।"
আমরাও আশা করব শ্রোতাদের বিশ্বাসের জায়গাটা যেন আমরা আরও দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারি। প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।
গাজী মোমিন উদ্দীন, ডেস্টিনি ওয়ার্ল্ড রেডিও ক্লাব, সাতক্ষীরা
মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু, রামগতি, লক্ষ্মীপুর
সিফাত রাব্বানী, জাজিরা, শরীয়তপুর
মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বাহাদিয়া, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ
মোহাম্মদ মিলন খন্দকার খালেক, কান্দি-নিজপাড়া, পীরগাছা, রংপুর
দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।








