নাটোরে ছাত্রকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

মরদেহ

ছবির উৎস, Getty Images

বাংলাদেশে নাটোর জেলায় ছাত্রকে বিয়ে করে আলোচনার ঝড় তোলা কলেজ শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হয়েছে। তার স্বামী মামুন হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর মামুন হোসাইনের বরাত দিয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানিয়েছেন, নাটোর সদরের বালারিপাড়ায় তাদের ভাড়া করা বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

"রাতে স্বামী স্ত্রী দুজনে একসাথেই ছিলেন। গভীর রাত দুইটার দিকে ছেলেটি বাড়ির বাইরে যায়। দারওয়ানও সেটা জানিয়েছে। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে সে দেখে যে ঘরের দরজা খোলা এবং খায়রুন নাহার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছেন। সেসময় হাতের কাছে ধারালো কিছু না পেয়ে ছেলেটি লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ওড়না পুড়িয়ে তাকে নিচে নামিয়েছে বলে জানিয়েছে।", বিবিসিকে বলেন মি. সাহা।

তিনি জানিয়েছেন, "তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। ছেলেটা তখন বের হয়ে যায়। সে ধূমপান করতে বের হয়েছিল বলে জানিয়েছে।"

কিন্তু কি নিয়ে বাদানুবাদ হয়েছে সেটি জানা যায়নি।

মৃত খায়রুন নাহারের গলায় দাগ রয়েছে তবে শরীরে অন্য কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিয়ে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বয়সের ব্যবধানের কারণে সমালোচনা ভয়ে বিয়ের বিষয়টি গোপন করেছিলেন এই দম্পতি। (প্রতীকী ছবি)

এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড সেটি বোঝার জন্য কাজ চলছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।

মরদেহটি এখনো তাদের ভাড়া বাড়িতেই রয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তার প্রাথমিক কাজ শেষ করলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

গত মাসের শেষের দিকে একজন কলেজ শিক্ষিকা ও এক কলেজ ছাত্রের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশিত হলে তখন ব্যাপক আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সী খায়রুন নাহার এবং ২২ বছর বয়সী মামুন হোসাইন।

গত বছর জুন মাসে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় একই এলাকার ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন হোসাইনের।

তাদের মধ্যে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ তৈরি হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত বছরে ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন।

তবে সামাজিক চাপের ভয়ে বিষয়টি প্রথমে গোপন করেছিলেন।

এই দম্পতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে তাদের সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর তারা সাধুবাদ যেমন পেয়েছেন তেমনি ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েন।

এরই সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় খায়রুন নাহারের মরদেহ পাওয়া গেল।

খায়রুন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের পর এই ঘটনা নিয়ে রবিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।