নড়াইলে 'ধর্মীয় অবমাননার' পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

ভাঙচুর হওয়া মন্দির

ছবির উৎস, Dipankar Roy

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টের জের ধরে শুক্রবার নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরের হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নড়াইলের লোহাগড়ায় যে তরুণের বিরুদ্ধে ফেসবুকে 'ধর্মীয় অবমাননার' পোস্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে, আকাশ সাহা নামের সেই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তুলে একদল লোক শুক্রবার লোহাগড়ায় সহিংসতা চালিয়েছিল।

লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন বিবিসি বাংলাকে জানান, ''শনিবার রাতে খুলনা থেকে আকাশ সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 'ধর্মীয় অনুভূতিতে' আঘাত দেয়ার অভিযোগে গতকাল যে মামলা হয়েছে, তাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।''

ওই কলেজ ছাত্রের ফেসবুক আইডি থেকে কথিত একটি পোস্টের জের ধরে শুক্রবার নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলাসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় একজন ব্যক্তি আকাশ সাহাকে আসামি করে 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত' দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আকাশ সাহা স্থানীয় নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের স্নাতকের ছাত্র।

এর আগে শুক্রবার তার বাবাকে আটক করেছিল পুলিশ।

ভিডিওর ক্যাপশান, ধর্ম নিয়ে সহিংসতা উস্কে দেয়া এতো সহজ কেন?

ফেসবুকের কথিত ওই পোস্টের জের ধরে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। তার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করে স্থানীয় লোকজন।

পুলিশ বলছে, সন্ধ্যার পর দিঘলিয়া বাজারের কয়েকটি দোকানে ও ১০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। সেখানে একটি মন্দির এবং আরো কয়েকটি পারিবারিক মন্দিরেও হামলা চালানো হয়।

এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

ওসি শেখ আবু হেনা মিলন জানিয়েছেন, এখন সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা টহল দিচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গত মাসেই নড়াইলে আরেকটি কলেজের একজন ছাত্রের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কলেজের অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে সারা দেশে ক্ষোভের তৈরি হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: