ঢাকার গণ-পরিবহন: শৃঙ্খলা আনতে একটি রুটে একক মালিকানায় যে নিয়মে বাস চালানো শুরু হলো

ছবির উৎস, DTCA
ঢাকার গণ-পরিবহন খাতে, বিশেষ করে বাস মিনিবাস চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি প্রাথমিকভাবে একটি রুটে চালু হলেও ক্রমে ঢাকার সব কয়টি রুটেই এই ব্যবস্থা চালু হবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বিবিসিকে বলেছেন, ২৬শে ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৫০টি বাসের মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগে একটি রুটে সব গাড়ি চলবে একটি পরিবহন কোম্পানির নামে।
ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে 'ঢাকা নগর পরিবহন' নামে বাস-মিনিবাস চলবে। আপাতত কিছুদিন এ রুটে অন্য কোম্পানির বাসও চলবে, কিন্তু ৩১শে জানুয়ারির পর অন্য বাস থাকবে না।
কিভাবে চলবে নতুন এই ব্যবস্থা
ডিটিসিএর কর্মকর্তা মি. আলম বলেছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল কোন একটি রুটে যতগুলো কোম্পানি বাস-মিনিবাস চালায় তাদের সকলকে একসঙ্গে একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করে একটি যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি করা হবে।
কিন্তু বাস মালিকরা তাতে সাড়া দেয়নি।
আরো পড়তে পারেন:
তিনি বলছেন, "এরপর আমরা বিষয়টি ওপেন করে দেই যাতে, যে কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি এখানে আসতে পারবে এবং তাদের সবার বাস একটি কোম্পানির অধীনে চলবে। এতে একটি জয়েন্ট-ভেনচার সমঝোতা করা হয়েছে। একে পরবর্তীতে একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করা হবে।"
এর মানে হচ্ছে, একই রুটে চালানোর জন্য অনুমতি পাওয়া সব কটি বাস-মিনিবাস এই ব্যবস্থায় চালাতে হবে। এই ব্যবস্থার বাইরে কোন পরিবহন চলবে না।
মি. আলম বলেছেন, রাস্তায় প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তোলা, যেখানে সেখানে পরিবহন থামিয়ে যাত্রী তোলা, মুনাফার জন্য সড়কের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।
বাস মালিকের আয় কিভাবে হবে
এ ব্যবস্থায় যাত্রীদের ই-টিকেট কেটে বাস উঠতে হবে এবং দিন শেষে কর্তৃপক্ষ জানতে পারবেন সব মিলে কত টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এরপর যে মালিকের যে কয়টি বাস সে অনুযায়ী তার রেভেনিউ বা আয় ভাগ হবে।
এই মূহুর্তে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত রুটে বাসের টিকেট কাটতে ২৫টি কাউন্টার থাকবে, ফিরতি পথেও একইভাবে ২৫টি জায়গায় কাউন্টার থাকবে।
ফলে কোন চালক বা সহকারী যাত্রী তোলা-নামানো নিয়ে রাস্তায় হুড়োহুড়ি বা নিয়ম ভেঙ্গে যেকোন স্থানে গাড়ি থামাতে পারবে না।
মি. আলম বলেছেন, বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারের জন্য দুই টাকা ১৫ পয়সা করে আদায় করা হবে। এছাড়া যেকোন গন্তব্যে যেতে হলে যত কম দূরত্বই হোক, সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা দিতে হবে।
তবে পরে এই ভাড়া পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বাস আসবে কোথা থেকে
মি আলম জানিয়েছেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুটে ২৬শে ডিসেম্বর প্রাথমিকভাবে ৫০টি একতলা বাস চলাচল করবে। কিন্তু পরিবহনের এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
এ বাসগুলো হবে নতুন কিংবা দুই থেকে তিন বছরের পুরনো, তার চেয়ে পুরনো হলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না এ ব্যবস্থায়।
ঢাকা নগর পরিবহন নামে রোববার যে ৫০টি বাস নেমেছে, তার মধ্যে ২০টি বাস বেসরকারি এবং ৩০টি বিআরটিসির বাস।
ড্রাইভার এবং চালকদের প্রশিক্ষিত হতে হবে, লাইসেন্স হালনাগাদ হতে হবে।
বৈধতার কাগজপত্র ইতিমধ্যে যাচাই করে রাস্তায় নামার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মি, আলম।








