জুনায়েদ বাবুনগরী: হেফাজতে ইসলামের আমীর মারা গেছেন

জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজত নেতা। (ফাইল ফটো)

ছবির উৎস, MOHAMMED SALIM

ছবির ক্যাপশান, জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজত নেতা। (ফাইল ফটো)

হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদি।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই জুনায়েদ বাবুনগরী অসুস্থ বোধ করছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে স্ট্রোক করলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

হেফাজতে ইসলাম আলোচনায় এসেছিল ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সমাবেশে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হেফাজতে ইসলাম আলোচনায় এসেছিল ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে নানা সময়ে আলোচিত হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের এই নেতা। তিনি সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর।

মি. শফী নেতৃত্বে থাকার সময় হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচী নিয়ে আলোচনায় আসে।

তখন মি. বাবুনগরী সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন। সেসময় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

সম্পর্কিত খবর:

এরপর এক পর্যায়ে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে সরকারের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল এবং তা অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমানও হয়েছিল।

মি. শফীর মৃত্যুর ঘটনা এবং তারপর জুনায়েদ বাবুনগরীর সংগঠনটির নেতৃত্বের আসা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের একটি অংশ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়।

আহমদ শফীর পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ এনে একপর্যায়ে মামলাও করা হয়েছে।

আহমদ শফী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনটির নেতৃত্বে আসেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

অন্যদিকে জুনায়েদ বাবুনগরী যখন নেতৃত্বে আসেন তখন সরকারের সাথে হেফাজতে ইসলামের একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়।

সংগঠনটির নেতাদের অনেকের বক্তব্যে বিভিন্ন সময় তা উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর ভাস্কর্য বিরোধী যে আন্দোলন ছিল, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম জুনায়েদ বাবুনগরী।

এই ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানেরও একটি ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করা হয়েছিল।

এবছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন যায়গায় ব্যাপক সহিংসতা হওয়ার পর সংগঠনটি সরকারের চাপের মুখে পড়ে।

নানা আলোচনা-বিতর্ক এবং সরকারের চাপের মুখে, হেফাজতের কমিটি একবার ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি করেছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

এর মাস দুয়েক পর তিনি নিজে আমীর হয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন।

অন্যান্য খবর: