কোভিড: শিথিল লকডাউনে গণপরিবহন চলবে যেভাবে

লকডাউন শিথিলের খবরে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লকডাউন শিথিলের খবরে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে, ঢাকার রাস্তায় আজ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন বুধবার মধ্যরাত থেকে শিথিল করা হয়েছে।

সরকার বলছে, ঈদ উদযাপনের জন্য ১৫ থেকে ২২শে জুলাই মানে ঈদের পরদিন পর্যন্ত শিথিল থাকবে চলাচলে বিধিনিষেধ।

লকডাউন শিথিল হবার ঘোষণায় ইতিমধ্যে বাস-লঞ্চ-ট্রেন চলাচলের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

দুইদিন পরই শুরু হচ্ছে গরুর হাট, যার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।

এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন বা হাট পরিচালনা কতটা সম্ভব হবে?

দূরপাল্লার বাস চলবে যেভাবে

বুধবার রাত ১২টার পর থেকে চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল হবে বলে অনেক পরিবহন মালিক প্রস্তুতি নিয়েছেন, মধ্যরাত থেকেই বাস চালানোর।

আরো পড়তে পারেন:

সেজন্য মহাখালী, গাবতলী, সায়দাবাদসহ দূরপাল্লার বাস ছাড়ে এমন টার্মিনালগুলোতে লকডাউনের মধ্যেই টিকেট বিক্রি, বাস ধোয়ামোছার কাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাস মালিকেরা।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বিবিসিকে বলেছেন, অনেক মালিক বুধবার রাত থেকেই বাস চালাবেন, কেউ ১৫ই জুলাই সকাল থেকে বাস চালু করবেন।

তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অর্ধেক আসন খালি রেখে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি।

কিন্তু যাত্রাকালে স্বাস্থ্যবিধি মানে মাস্ক পড়া, ছয়ফুট দূরত্ব রাখার বিষয়টি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা মনিটরের কী ব্যবস্থা?

জবাবে মি. এনায়েতুল্লাহ স্বীকার বলছেন, এমন কোন মেকানিজম দূরপাল্লার গাড়িতে করা সম্ভব নয়।

''টার্মিনাল থেকে যাত্রী তুলে দেয়ার পর যদি মাঝপথে যাত্রী উঠে বা অনিয়ম করে তাহলে, তাহলে হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন পয়েন্ট আছে তারা দেখবে।"

ফেরিতে চড়ে বাড়ি ফিরছেন বহু মানুষ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে চড়ে বাড়ি ফিরছেন বহু মানুষ

সেক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নজরদারি করার কোন পরিকল্পনা আছে কী?

তিনি বলেন, "আমাদের নজরদারি আমরা টার্মিনাল থেকে করব, আর দুয়েকটা পয়েন্টে আমরা নজরদারি করব। তার বাইরে তো পারবো না।"

তবে, নজরদারি বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব, দূরপাল্লায় যাতায়াত করে এমন ছোট কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সেটা প্রায়শই সম্ভব হয় না, কারণ তাদের লোকবলও কম থাকে।

'নৌপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা যাবে না'

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে চলবে নৌপরিবহনও। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রতি বছর ঈদের সময়ে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, লঞ্চে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ঠেকাতে টার্মিনালের পন্টুন ও গ্যাঙওয়ের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যাত্রী এবং লঞ্চ মালিক উভয়ের জরিমানা করা হবে।

তবে ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে চলাচল অসম্ভব একটি ব্যাপার বলে মনে করেন ঢাকা-বরিশাল ও মাদারীপুর রুটে চলাচলকারী এমভি পারাবত লঞ্চের মালিক শহীদ ভুঁইয়া।

তিনি বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি যাত্রী চলে তাহলে মানা হবে, না হলে তাদের পক্ষে সেটা মানানো সম্ভব না।

''ঈদের সময়, লোকে স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, আমরাও তাদের মানাতে পারবো না। ঈদের সময় না হলে একটা কথা ছিলো।

মি. ভুঁইয়া বলছেন, "এখন যদি লোকে লঞ্চে না ওঠে, আমাদের কিছু করার নাই। কিন্তু লোক উঠলে আমি তাদের পরিবহন করবো।"

সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লকডাউনে সায়দাবাদে বাস টার্মিনালে পার্ক করে রাখা দূরপাল্লার বাস

তিনি জানিয়েছেন, তার রুটে কেবল নয়, ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চেই একই ব্যাপার ঘটবে।

গরুর হাটে নজরদারি কিভাবে হবে?

শনিবার অর্থাৎ ১৭ই জুলাই থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে গরুর হাট। হাটের ইজারাদারেরা বলছেন তারা নিয়ম মেনে হাট চালাবেন।

কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে হাট বসানোর ইজারা পেয়েছেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

তিনি বলছেন তার হাটে আনুমানিক ৫ হাজারের মত গরু তোলা হবে।

হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা দেখতে ১২জনের একটি নজরদারি দল গঠন করেছেন তিনি।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

তবে সেটি হাটের গরু, বেপারি ও বিক্রেতার সম্ভাব্য সংখ্যার জন্য যে অপ্রতুল তা তিনি মানতে চান না।

"১২ জনের তো একটা টিম আমার, তারপর নগরভবন সিটি কর্পোরেশনের টিম আছে না? তারাও তো দেখবে,'' তিনি বলেন।

''এইটা তো আমার ব্যক্তিগত বানানো টিম। আর সিটি কর্পোরেশন আছে, অন্যান্য সংস্থা আছে, তারাও তো দেখবে।

''ঝুঁকিপূর্ণ যাতে না হয়, সেজন্য আমার টিম কাজ করবে।"

সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে দেশে এই মূহুর্তে করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশের বেশি।

টানা চারদিন ধরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০'র ওপরে থাকছে।

যদিও গত ১৪দিন ধরে দেশে সর্বাত্মক একটা লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।

এমন অবস্থায় হঠাৎ করে গণপরিবহনসহ দোকানপাট সব খুলে দেয়ার ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতির ঊর্ধ্বগতি আটকানো কঠিন হয় পড়বে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।