মগবাজার: ভবনের ভেতরে মিললো হাইড্রোকার্বন গ্যাস, নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ

ঢাকার মগবাজারে রবিবার সন্ধ্যায় যে ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে হাইড্রোকার্বন গ্যাসের অস্তিত্ব পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। এদিকে এই বিস্ফোরণের পেছনে কোন নাশকতা থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পুলিশের প্রধান।

বাংলাদেশের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''আমাদের গ্যাস পরীক্ষা করার একটি যন্ত্র রয়েছে। সেটি আমরা ওই স্থানে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাইড্রোকার্বন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।''

''তবে এই কারণে বিস্ফোরণ কিনা, সেটা বলতে আরও সময় লাগবে। কারণ এই ধরনের গ্যাসে যেমন বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, আবার বিস্ফোরণের ফলেও গ্যাসের পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হতে পারে।''

পেট্রোলিয়াম জাতীয় জৈব জ্বালানি, যেমন এলপিজি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়।

আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিস্ফোরক পরিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাতদিনের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই কমিটির প্রতিবেদনেই বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলছেন নাশকতা নয়:

এর আগে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ''এই বছর এই ধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। একটা শনির আখড়ায় হয়েছে, একটা নারায়ণগঞ্জে হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও আমরা একটা তদন্ত কমিটি করব কারণ অনুসন্ধানের জন্য। আমরা চাই, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।''

একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ''এই পর্যায়ে দেখে মনে হচ্ছে একটা ভয়াবহ শকওয়েভের তৈরি হয়েছে, যেটা একমুখী হয়েছে। সাধারণত বিস্ফোরক হলে সেটার বহুমুখী, তিন চারদিকে যাওয়ার কথা। গ্লাসের ভাঙ্গা টুকরো ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। ভেতরেও মিথেন গ্যাসের গন্ধ আছে। আমরা এই পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে আমি মনে করি, ওই চিন্তা করে (নাশকতার) শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে তদন্ত ছাড়া এই পর্যায়ে কারণ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।''

যে ভবনে বিস্ফোরণ হয়েছে, মৌচাক-মগবাজার সড়কের ৭৯ আউটার সার্কুলার রোডের সেই তিনতলা পুরনো ভবনটি আংশিক ধসে পড়েছে। সেই সঙ্গে আশেপাশের অন্তত এক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনের এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

ভবনের নিচতলায় একটি খাবারের দোকান ও একটি মাংস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দোকান ছিল, যার অস্তিত্ব বোঝার কোন উপায় নেই। উপরে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির একটি শো-রুম ছিল, সেটির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। ভবনটির অনেকগুলো পিলার ভেঙ্গে উপরের তলাগুলো ধসে পড়েছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: