পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: রায়হানের মায়ের অনশন ভাঙলেন সিটি মেয়র, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসা রায়হান আহমদের মা-কে শরবত খাইয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশেনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়র আশ্বাস দেন যে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শিগগিরই তদন্তে কোন অগ্রগতি না হলে তারা পুনরায় অনশন শুরু করবেন।

আজ বেলা ১১টা থেকে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হওয়া রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম, পরিবারের কয়েকজন সদস্যদের নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছিলেন।

এর আগে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি তুলে আকবর হোসেনসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি।

এই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় মাথায় প্রতীকী কাফনের কাপড় বেধে এবং ব্যানার তিনি অনশন শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে যোগ দেন সিলেট হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীসহ আখালিয়া এলাকার বাসিন্দারা।

অনশনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন সালমা বেগম। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রায়হানের মামা মেহরাজ আহমেদ রুহেল বিবিসি বাংলাকে বলেন যে, মেয়রের আশ্বাসে তারা অনশন স্থগিত করেছেন ঠিকই তবে তাদের আন্দোলন চলবে।

এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামীর মধ্যে একজন টিটু চন্দ্র দাসের ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আরও তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার অপর আসামী হারুনুর রশিদকে শনিবার ৫ দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত আকবর হোসেনকে ধরতে প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগ ও মেট্রোপলিটন পিবিআইয়ের এসএসপি মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান।

অভিযুক্ত আকবর হোসেন ১২ অক্টোবর থেকেই পলাতক থাকায় তিনি যাতে বিদেশে পালাতে না পারেন সেজন্য সব ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের তদন্ত কমিটি রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এরইমধ্যে পুলিশের তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আকবরসহ ৭ জনকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয়।

আরো পড়তে পারেন:

কী ঘটেছিল রায়হানের সাথে?

গত ১০ই অক্টোবর সিলেটের কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হান আহমেদকে আটক করে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

এরপর ভোররাতের দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মামাতো ভাইকে ফোন করে টাকা নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসতে বলেন।

সকালে রায়হানের বাবা ফাঁড়িতে গেলে সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তিনি।

ওই রাতেই নিহতের স্ত্রী পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর পর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন শুরু করে সাধারণ মানুষ।

১৫ দিনের মধ্যেও আইনের মানুষেরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কেন গ্রেফতার করতে পারছে না। এবং প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন জবানবন্দি দেয়ার একদিন পর কিভাবে পালিয়ে গেল সেটা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

ঐ ঘটনার পর একদফা ময়নাতদন্ত শেষে রায়হানকে কবর দিয়ে দেয়া হলেও পরে কবর থেকে তুলে লাশ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

ময়নাতদন্তে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার কথা জানায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা।

যদিও, রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ শুরুতে দাবি করেছিল যে ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করেছে। পরে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কোন গণপিটুনির আলামত পাওয়া না যাওয়ায় ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।