বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার বিতর্কে বিএনপি: "সবাই মিলে কমন ফর্মুলা দেব"

আসছে নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

ছবির উৎস, Probal Rashid

ছবির ক্যাপশান, পরবর্তী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
    • Author, আবুল কালাম আজাদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে শিগগিরই নিরপেক্ষ সরকারের একটি রূপরেখা প্রস্তাব তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

প্রায় দেড় বছর পর ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে আলোচনার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ সরকার গঠনসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শেষে আলোচনার ভিত্তিতে রূপরেখা তুলে ধরা হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা একটা রূপরেখা দেব।

"এখন আমরা যেহেতু এককভাবে দিতে পারছি না। আমরা যেহেতু জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। সুতরাং যারা এই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন, আমরা সবাই মিলে একটা কমন ফর্মুলা দেব। যে নিরপেক্ষ সরকার বলতে আমরা কী বোঝাই। খুব শিগগিরই দেব।"

কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার কোন সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

মাহাবুব উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ছবির ক্যাপশান, মাহাবুব উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, "আমরা বারবারই বলেছি যে আমাদের দেশে সংবিধান নিয়ে অনেক কাঁটা-ছেড়া হয়েছে। বিনা কারণে সংবিধান নিয়ে টানা-হেচঁড়ার কোন প্রয়োজন নেই। এখন সংবিধান সংশোধনীর কোন যৌক্তিকতা নেই কোন সুযোগও নেই। আমরা এই সংবিধানের গাইডলাইন অনুযায়ী একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবো।"

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে চাপের মধ্যে রয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, "সংবিধান সংশোধন করতে তো সরকার রাজী হবে না। রাজী না হলেও সমঝোতা তো হতে পারে। সমঝোতার ওপর ভিত্তিতে একটা নির্দলীয় সরকার হতে পারে। তারপরে সেই সরকারের বৈধতা আগামী সংসদে সংবিধান সংশোধন করে দেয়া যেতে পারে।"

"নির্বাচনকালীন যেহেতু আমরা একটি দল আরেকটি দলকে বিশ্বাস করি না, যেহেতু আমরা নির্বাচনে দাঁড়ালে আমরা যারা সরকারের আছি আমরা নিজেরা জয়ী হওয়ার চেষ্টা করি, সেজন্য আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার করি, আমরা পুলিশ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করি। প্রশাসন যাতে আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে সেটার জন্য চেষ্টা করি। এগুলো আমাদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।"

মওদুদ আহমেদ, বিএনপি নেতা।
ছবির ক্যাপশান, মওদুদ আহমেদ, বিএনপি নেতা।

আরো পড়তে পারেন:

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিতর্ক। ১৯৯৬ সালে আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়। ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও ২০০৬ সালে আবার নির্বাচনকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান দেশে জরুরী অবস্থা নিয়ে আসে।

২০১৪ সালে ভোট বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান বলেন, "সংকট আমাদের সবসময়ই যেটা ছিল দুই দল দুই দলকে না বোঝা। সমঝোতার পথে না যাওয়া। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখেছি, কখনোই সংলাপের মাধ্যমে সুফল বয়ে আনে না। কিংবা একটা সফল সংলাপ হয়েছে এরকম উদাহরণ আমরা টানতে পারি না আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।

"সেই জায়গায় যতক্ষণ পর্যন্ত দুই দলের একটা সমঝোতার জায়গা না আসবে, দুই দল এক যায়গায় একমত না হবে নির্বাচনকে ঘিরে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংকটটা থেকে যাবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাবন খুব কম।"

রাশেদা রওনক খান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
ছবির ক্যাপশান, রাশেদা রওনক খান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক