শ্রীলঙ্কার সাথে শেষ ম্যাচে কেন পারলো না বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল, এই ছবিটি আজকের ম্যাচের নয়, ফাইল ফটো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তামিম ইকবাল, এই ছবিটি আজকের ম্যাচের নয়, ফাইল ফটো

ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সাথে লড়াই করতে পারলো না। পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমলো।

সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ চেষ্টা করে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার এড়ানো সম্ভব হলো না।

আজকের এই ম্যাচে জিততে পারলে বাংলাদেশের জন্যে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো।

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছিলো ৯০ রানে। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচটি। আর তৃতীয় তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৭০ রানে হেরে যাওয়ায় ওয়ানডে সিরিজটি অমীমাংসিতভাবেই শেষ হলো।

প্রথম ম্যাচের তুলনায় আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ যতো রানে শ্রীলঙ্কাকে বেঁধে ফেলেছিলো তাতে মনে হয়েছিলো সফরকারিরা হয়তো এই রান তুলেও ফেলতে পারে।

প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিলো ৯ উইকেটে ২৮০।

কিন্তু খেলা দেখার পর ঢাকার ক্রিকেট সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবু বিবিসিকে বলেছেন, আজ কলম্বোর এসএসসি মাঠে যে খেলা হয়েছে সেটির উইকেট ডাম্বুলার রণবেরি স্টেডিয়ামের উইকেটের চেয়ে আলাদা ছিলো।

তিনি বলেন, "এই উইকেট একটু স্লো। শুরুতে কিছুক্ষণ ভালো থাকলেও দু'ঘণ্টা পর থেকে উইকেট আরো স্লো হতে শুরু করে।"

অর্থাৎ বলটা মাটিতে ড্রপ হওয়ার পর সেটার গতি কমে যায় এবং ব্যাটে আসে একটু দেরিতে। ফলে ব্যাটসম্যানদের বলের অবস্থান ঠিকমতো আন্দাজ করতে অসুবিধা হয়।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এটা বুঝতে পারেনি। বলের জন্যে একটু অপেক্ষা না করে তাড়া শুরু থেকেই তেড়ে মেরে খেলতে শুরু করেন।"

তাই খেলতে নেমেই মাত্র ৪ রানে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

বাংলাদেশ দল, এই ছবিটি আজকের ম্যাচের নয়, ফাইল ফটো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ দল, এই ছবিটি আজকের ম্যাচের নয়, ফাইল ফটো

তিনি বলেন, "টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বুঝে শুনে খেললে খেলাটা আরো জমতে পারতো। কিন্তু তারা মনে করেছিলেন এটা ডাম্বুলার রণবেরি স্টেডিয়ামের উইকেট যেখানে ৩১১ কিম্বা ৩২৪ রান সংগ্রহ করা যায়।"

বাংলাদেশের প্রথম তিনটি উইকেট খুব দ্রুত পরে গেলে পরের ব্যাটসম্যানরা পার্টনারশিপ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

দলীয় ১১ রানের মধ্যেই তিনজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান তামিম, সাব্বির এবং মুশফিকের আউট হয়ে যাওয়ার পরেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় যে এই ম্যাচ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

"তারপরও সৌম্য ও সাকিব শুরুর ক্ষত সারিয়ে বেশ ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু সাকিব ৫৪ এবং সৌম্য ৩৮ রান করে আউট হয়ে যান।"

আরিফুর রহমান বলেন, "এই জুটিটা যদি আরো ৫০ রান করতে পারতো তাহলে বাংলাদেশের এই ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা থাকতো।"

"প্রথম তিনটি উইকেটের পতনের পর সৌম্য-সাকিবের জুটি যখন ৭৭ রান যোগ করে ভেঙে গেলো তখনই বাংলাদেশের সম্ভাবনা একরকম শেষ হয়ে যায়।"

তিনি বলেন, "সকালে মাশরাফি টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন। আমি নিশ্চিত মাশরাফি ধারণা করেছিলেন এটা বোধ হয় রণবীরের উইকেট হবে যেখানে তিনশোরও বেশি রান উঠতে পারে।"

"আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও মাশরাফি বলেছিলেন যে তার লক্ষ্য শ্রীলঙ্কাকে ২৮০ রানের মধ্যে থামিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেট বুঝতে না পারার কারণেই বাংলাদেশের এই হার।"

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার বোলাররা স্লো উইকেট বুঝতে পেরেই সেটার সুবিধা নিয়েছেন।