'সিলেটের হামলাকারীরা বড়হাটে আশ্রয় নিয়েছিলো'

সিলেটে আতিয়া মহলের কাছে যেসব জঙ্গি বোমা হামলা চালিয়েছিলো তারাই মৌলভীবাজার শহরে এসে বড়হাটের বাড়িটিতে আশ্রয় নিয়েছিলো বলে পুলিশ বলছে।
দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালেই এই হামলা চালানো হয়েছিলো যাতে মোট সাতজন নিহত হয়। তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ এবং একজন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, "বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি আমরা প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখেছি যে হামলাকারী ওখান থেকে আবার এখানে ফেরত আসতে পেরেছে।"
তিনি জানান, সে কারণে পুলিশ ধরে নিয়েছিলো যে এখানে শক্তিশালী বোমাসহ বেশকিছু বিস্ফোরক এবং এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একজন জঙ্গিও এখানে অবস্থান করছে।
"আমরা আগেই জানতে পেরেছিলাম এই বাড়িতে তিনজন অবস্থান করছে। দু'জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। এখান থেকে সিলেটে গিয়ে যে হামলা চালিয়েছিলো এই বাড়িতে তার উপস্থিতিও আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছিলাম," বলেন মি. ইসলাম।
তিনি জানান, সিলেটে যার নেতৃত্বে হামলা হয়েছিলো সেই ব্যক্তিই যে এখানে নিহত হয়েছে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।
"ঘটনাটা তার নেতৃত্বে সেই ঘটিয়েছে। এবং তার সাথে অন্য কেউ থাকতে পারে।"

ছবির উৎস, Facebook
পুলিশ বলছে, যে জায়গাটিকে তারা ঘিরে রেখেছিলো সেখানে একাধিক ভবন, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনও রয়েছে। তার ভেতরে আছে অনেক কক্ষ। বিভিন্ন স্থানে তারা বিস্ফোরকে পেতে রেখেছিলো। একারণে পুলিশের এই অপারেশনটি ছিলো জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযান শুরুর প্রথম দিনই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন নারী বাড়ির ছাদে উঠে দুটো গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তার একটি বিস্ফোরিত হয়েছিলো। তার একটি এখনও অবিস্ফোরিত অবস্থায় ধান ক্ষেতে পড়ে আছে।
মি. ইসলাম বলেন, ভবনের ভেতর থেকে আগুনের ধোঁয়া উঠতে দেখে তাদের ধারণা হয় যে ভেতরে আগুন লেগে গেছে।
ভেতরে অবস্থানরত জঙ্গিরা আর বেঁচে নেই এটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের ভেতরে যে আগুন লেগেছিলো সেটা তারা দেখতে পান।
তখন তারা দেখেন যে বাড়ির ভেতরে মোট তিনটি মৃতদেহ পড়ে আছে।
"তাদের একজন সিলেটে বোমা হামলা চালিয়েছিলো। আর নিহত অন্য পুরুষটিও সিলেটের হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে। অন্য কেউও থাকতে পারে। সেটি আমাদের জানা নেই," বলেন তিনি।
মি. ইসলাম শনিবার দুপুরে সংবাদ ব্রিফিং এর সময় বলেন, "আমরা মনে করি পুলিশের তিনজন এবং চারজন সাধারণ নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের জন্যে যারা দায়ী, তাদের তাৎক্ষণিক বিচার হয়তো প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে গেছে।"
"আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলানো। সেটি আমরা পারিনি। তবে আমরা মনে করি এই অভিযানটি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে," বলেন তিনি।








