পত্রিকা: 'জানুয়ারি মাস থেকেই চালু হতে যাচ্ছে সরকারি নতুন বেতন কাঠামো'

ঢাকায় বেওয়ারিশ লাশের হিসেব, উত্তরায় বাসায় আগুন লেগে ৬ জনের মৃত্যুর খবর, খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে নাগরিক শোকসভা, ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট নিয়ে সর্বশেষ আপডেট- এসব খবর আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয় গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার আজকের খবর- Partial rollout of new pay scale likely from Jan অর্থাৎ জানুয়ারি মাস থেকেই চালু হতে যাচ্ছে সরকারি নতুন বেতন কাঠামো।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে আগামী জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই বেতন কাঠামোর কিছু অংশ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দিয়ে দেড় কোটির বেশি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ও ভাতা পরিশোধ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে। বেতন কমিশনের প্রতিবেদন ২১ জানুয়ারির মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, জানুয়ারি থেকেই হয় সংশোধিত মূল বেতন, নয়তো ভাতার অংশ কার্যকর করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশোধিত বাজেটে রাখা বরাদ্দই প্রাথমিক বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে করছে সরকার।
End of বিবিসি নিউজ বাংলায় আরও পড়ুন

কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান খবর- রাজধানীতে এক বছরে ৬৪৩ বেওয়ারিশ লাশ।
২০২৫ সালে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা ৬৪৩টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন ও সত্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজারে ৪৬১ জন এবং জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫ জনের লাশ দাফন করা হয়। পোস্তগোলা শ্মশানে অন্য ধর্মের সাতজনের লাশ দাহ করা হয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৫৪ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ দাফন ও সৎকার করা হয়।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
গড়ে প্রতিদিন দাফন ও সত্কার করা হয় প্রায় দুজনের লাশ। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাসে দেশে মোট চার হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৫৭০ লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
মানবাধিকার সাংস্কৃতিক সংগঠন (এমএসএফ) বলছে, ২০২৫ সালে খুব অল্পসংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও বাকি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় লাশের পরিচয় উদ্ধারে অপারগতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৬৪১টি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এমএসএফ বলেছে, এসব লাশ উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পরিচয় উদ্ধার করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
২০২৫ সালে আঞ্জুমানের মাসিক পরিসংখ্যান : আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারিতে ৫১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ জন, মার্চে ৫৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মেতে ৫৩ জন, জুনে ৬০ জন, জুলাইয়ে ৭০ জন, আগস্টে ৪৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৫৯ জন, অক্টোবরে ৭২ জন, নভেম্বরে ৬৯ জন এবং ডিসেম্বর মাসে ৩৪ জনের লাশ দাফন করা হয়।

বণিক বার্তা পত্রিকার আজকের খবর- বিপিডিবির লোকসান বেড়েছে ৯৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ব্যয় সাশ্রয়, আইন সংস্কার ও উৎপাদন বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমেনি। বরং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে এবং লোকসান আরও তীব্র হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল দায় সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস কমেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্যাপাসিটি চার্জ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পুনর্বিবেচনা না করলে লোকসান আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রথম আলো পত্রিকার আজকের খবর- ইসলামপন্থীদের ভোট তিন বাক্সে বিভক্ত।
শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। অর্থাৎ ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট 'এক বাক্সে' আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টত 'তিন বাক্সে' বিভক্ত হয়ে পড়ল। এর রেশ ভোটের মাঠে কতটা-কীভাবে পড়ে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
ইসলামী আন্দোলন গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। তাদের অভিযোগ, তারা জামায়াতের দিক থেকে উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখেছিলেন। সমঝোতা না হওয়ায় এখন এ আসনগুলোতে প্রার্থী দেওয়া হবে।

মানবজমিন পত্রিকার আজকের প্রধান শিরোনাম - সত্যিকার দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া।
সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা তার রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আদর্শের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি কেবল কোনো দলের নেত্রী নন, দেশের মানুষের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। বক্তারা তার শাসনামলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
শোকসভা থেকে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার দাবি জানানো হয় এবং তার চিকিৎসায় তৎকালীন সরকারের অবহেলা নিয়ে তদন্তের আহ্বান ওঠে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি। বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শোকসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবর- খালেদা জিয়াকে ভুল ওষুধে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল -ডা: এফ এম সিদ্দিকী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা: এফ এম সিদ্দিকী।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি ওনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা ওনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়াও ওনার ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে আছে।

যুগান্তর পত্রিকার আজকের খবর- বিএনপির মিত্ররা তাকিয়ে জাতীয় সরকারের দিকে।
আসন সমঝোতার পর বিএনপির মিত্রদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মিত্র দলগুলোর প্রত্যাশা- নির্বাচনে জিততে না পারলেও পরবর্তীতে জাতীয় সরকার বা উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ মিলতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, দলটি শুরু থেকেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলে আসছে এবং নির্বাচনের পর মিত্রদের ভূমিকা তখনই চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী মিত্রদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হওয়ায় আসন ছাড়ের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে কেউ বিএনপির প্রতীকে, কেউ নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন শেষে মিত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউ এইজ পত্রিকার আজকের প্রধান খবর- Six killed in Uttara building fire অর্থাৎ উত্তরায় ভবনে আগুনে ছয়জনের মৃত্যু।
রাজধানীর উত্তরায় একটি সাততলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফজলে রাব্বি রেজভী, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও তাদের আড়াই বছর বয়সী ছেলে, পাশাপাশি মোহাম্মদ হারেজ, তার ছেলে ও ভাতিজি।
বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার শিরোনাম- থানায় থানায় গাড়ি সংকট।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশের যানবাহন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। থানা ও ফাঁড়িগুলোতে গাড়ির অভাবে নিয়মিত অপারেশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় অতিরিক্ত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও যানবাহন ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশের জন্য নতুন ও অতিরিক্ত যানবাহন কেনার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় ২৭৫ কোটি টাকার গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুরো অর্থ এখনো না পাওয়ায় গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক হামলা ও অগ্নিসংযোগে বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র লুট ও পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় তদন্ত চললেও যানবাহনের অভাবে অনেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।









