১৫ বছর পরে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার এখন যে অবস্থায় আছে

বিডিআর জওয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাহিনীটির নিজস্ব আইনে চারহাজারের বেশি জওয়ানের সাজা হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ১৫ বছর পার হলেও শেষ হয়নি দুই মামলার চূড়ান্ত বিচার। একটি মামলা আপিল পর্যায়ে থাকলেও আরেকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি।

ফলে আলোচিত এই ঘটনার বিচার কবে শেষ হবে, তা বলতে পারছেন না রাষ্ট্রপক্ষ বা আসামিপক্ষের কোন আইনজীবী।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের পর হাইকোর্টেও কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে মামলাটি আপিল বিভাগে গিয়ে আটকে রয়েছে।

কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসামির এ মামলা শুনানি করতে আপিল বিভাগে পৃথক বেঞ্চ প্রয়োজন যা এই মুহূর্তে নেই।

অনেকে হত্যা মামলায় খালাস পেলেও বা বিদ্রোহের মামলায় সাজা খাটা শেষ হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্য-গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে নিহতদের পরিবার যেমন বিচারের প্রতীক্ষায় দিন গুনছে, তেমনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের পরিবারগুলোও রয়েছে অসহায় পরিস্থিতিতে।

আসামি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

জামিনের অপেক্ষায় থাকা আসামিদের পরিবার

হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতেই খালাস পেয়েছেন সে সময় পিলখানায় কর্মরত সুবেদার আব্দুর রশিদ। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টে কোন আপিল করে নি। তবে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে কারাগারেই রয়েছে এই আসামি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দুর রশিদের ছেলের আক্ষেপ “হত্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও আর কতদিন মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিস্ফোরক আইনের মামলাটিতে ঠিকমতো সাক্ষ্য ও নেয়া হয় না”।

“শুধু বিস্ফোরক মামলার জন্য আর কত অপেক্ষা করতে হবে। যেখানে মূল মামলায় রায় হয়েছে। অথচ একই সময়ে করা আরেক মামলা এখনো ঝুলছে। আদৌ কখন শেষ হবে, জানে না কেউ” বলেন তিনি।

“এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে নিরপরাধ ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখা কোন ভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না“ দাবি তার।

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন পিলখানায় গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন হাবিলদার জোবায়দুল করিম। সে সময় ক্লাস নাইনে পড়তেন তার মেয়ে রেবা।

রেবা জানান, “দীর্ঘ ১৫ বছরে মামলা পরিচালনা এবং সংসার চালাতে গিয়ে এখন প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে পরিবারটি। একদিকে, কারাগারে থাকা অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ যেমন যোগাতে হয় অন্যদিকে অসুস্থ মায়ের খরচ ও বহন করতে হয়।''

বিডিআর জওয়ান

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, বিদ্রোহের সময় বিডিআর সদস্যরা।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বিচারিক আদালতে হত্যা মামলার রায়ে আসামি জোবায়দুল করিমের দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। যে সাজা এরই মধ্যে ভোগ করা শেষ হয়েছে। এছাড়া বিডিআর আইনের মামলায় বিদ্রোহের পাঁচ বছরের সাজা ভোগ ও শেষ হয়েছে এরই মধ্যে।

কিন্তু এখনও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য-গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু ফৌজদারি আইনে করা দুই মামলার আসামিই এক, তাই সাজা ভোগ শেষ হলেও আরেক মামলার বিচার চলমান থাকায় এসব আসামিদের জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসামি জোবায়দুলের মেয়ে রেবার আকুতি হয় দ্রুত বিস্ফোরক মামলা শেষ করে রায় দেয়া হোক নতুবা জামিন দেয়া হোক তার বাবার।

“আমরাও চাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক, কিন্তু এভাবে মানুষগুলোকে কষ্ট দেয়া কেন? আমরা এর শেষ চাই। এভাবে আর কতদিন” প্রশ্ন তোলেন রেবা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, “বিচারিক আদালত থেকে খালাস পাওয়া ২৭৮ জনের মধ্যে বর্তমানে খালাস অবস্থায় আছেন ২৪৮ জন”।

“আর দশ বছরের সাজা ভোগ শেষ হয়েছে এমন আসামির সংখ্যা ২৫৬ জন। অর্থাৎ এমন অন্তত পাঁচশ জন আসামি রয়েছেন যারা শুধু বিস্ফোরক মামলার কারণে কারাগারে রয়েছেন” বলেন মি. ইসলাম।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে নি বা একেবারেই নির্দোষ এরকম আসামিদের পক্ষে অন্তত ৪০টি জামিন আবেদন হাইকোর্টে করা হয়েছে। কিন্তু আনফরচুনেটলি এখনো কোন জামিন পাই নি। আমরা বিভিন্ন বেঞ্চে ঘুরছি,কোন বেঞ্চেই শুনানি করতে পারি নি,বা জামিন করাতে পারি নি। আমরা বুঝতে পারছি হয়তো জামিন পাবো না বা করাতে পারবো না”।

মি. ইসলাম বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপক্ষকে বার বার বলেছিলাম যাতে দ্রুত মামলাটি শেষ করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এই ব্যাপারে খুবই নির্লিপ্ত। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট দুই জায়গাতেই তাদের এই নির্লিপ্ততা দেখি”।

শুধু একজন আসামিকে একবার হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগে ওই জামিন স্থগিত হয়ে যায় বলে জানান মি.ইসলাম।

বিডিআর জওয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঘটনার বিডিআর জওয়ানদের গ্রেপ্তার করা হয়

বিচারিক আদালতের রায়

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

এই ঘটনার চার বছর পর ২০১৩ সালের পাঁচই নভেম্বর বিচারিক আদালতে হত্যা মামলাটির রায় হয়।

এখনো পর্যন্ত এ মামলাটিতেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসামি। ৮৫০ জন বিডিআর সদস্যের বিচার হয় এ মামলাটিতে।

মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ১৫২ জনকে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৬০ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় ২৫৬ জনকে।

বিচারিক আদালতের এ রায়েই খালাস পেয়েছেন ২৭৮ জন। আর মামলার রায় হওয়ার আগেই মারা গেছেন চারজন। রায় ঘোষণার পর মারা যান আরো এগারজন।

আসামি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিডিআর আসামিদের ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল হাইকোর্টে

হাইকোর্টের রায়

বিচারিক আদালতের রায়ে দেয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ শে নভেম্বর দুই দিনব্যাপী রায় দেয় হাইকোর্ট।

ওই রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়। আটজনকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বিচারিক আদালতে ১৬০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখে হাইকোর্ট। আর ১৪ জনকে খালাস দেয়া হয়।

এছাড়া খালাস পাওয়া ২৭৮ জনের মধ্যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট। ফলে হাইকোর্টে মোট ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

আর চারজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৩৪ জনের খালাসের আদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট।

বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় ২২৮ জনকে।

খালাস দেয়া হয় ২৮৩ জনকে। এই রায়ের আগেই ১৫ জন মারা যান। ফলে ৮৩৫ জনের বিচার ও সাজা হয়।

নিহতদের জানাজা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিদ্রোহের ওই ঘটনায় ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪জন মারা যান

আপিল বিভাগে ঝুলছে হত্যা মামলা

২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায় হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এরপরই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই লিভ টু আপিল ও আপিল করে।

হাইকোর্টের রায়ে যারা খালাস পেয়েছেন এবং মৃত্যুদণ্ড থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে এমন ৮৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০ টি আপিল করেছে।

এছাড়া মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এমন ৬৩ আসামির পক্ষে খালাস চেয়ে ৩৫ টি আপিল দায়ের করা হয়েছে।

খালাস থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এমন ৩০ জন আসামির পক্ষে চারটি আপিল করা হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এমন ১৩২ জন ২৯টি লিভ টু আপিল করেছে।

তবে,গত চার বছরেও এসব আবেদনের শুনানি হয় নি।

এরই মধ্যে এ বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি একটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য এসেছে বলে জানা যায়।

কিন্তু এই মুহূর্তে আপিল বিভাগে এত বিশাল সংখ্যক আসামি ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন মামলার শুনানি করা কঠিন বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই।

কারণ আপিল বিভাগে এখন বিচারপতি রয়েছেন ছয়জন। এ মামলার শুনানি করতে হলে বেঞ্চে তিনজনের বেশি বিচারপতি থাকতে হবে। কারণ হাইকোর্টের রায়ে তিন জন বিচারপতির বেঞ্চ ছিলো।

আবার আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে একজন বিচারপতি হাইকোর্টের বেঞ্চে ছিলেন। ফলে তিনি আপিল বিভাগের শুনানিতে থাকতে পারবেন না। আবার এই মামলার শুনানি শুরু করলে অন্য সব মামলার শুনানি থমকে যাবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার শুনানি করা কঠিন হবে”।

“কারণ তিনজনের বেশি বিচারপতির বেঞ্চ হতে হবে। আপিল বিভাগে ছয়জনের মধ্যে একজন হাইকোর্টে মামলার রায়ে ছিলেন। ফলে এখানকার পাঁচজনের মধ্যে চারজন যদি শুনানি করতে চান তবে অন্য সব মামলার শুনানি করা কষ্টসাধ্য হবে”।

“এছাড়া এই মামলার পেপারবুক প্রায় ৩৩ হাজার পৃষ্ঠার, আসামির সংখ্যা ও মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যাও বেশি। ফলে এই মামলার শুনানি করতে একটা পৃথক বেঞ্চ প্রয়োজন” বলেন মি. আমিন।

কবে নাগাদ আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “খুব শিগগিরই নিয়োগ হবে নতুন বিচারপতি”।

একই বক্তব্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলামের।

তিনি বলেন, “ আপিল যাতে দ্রুত শুনানি করা যায়,পৃথক বেঞ্চ বা অন্য কোন উপায়ে শুনানি করা যায় কিনা সে উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপক্ষকে বেশ কয়েকবার বলেছি। এমনকি বিস্ফোরক মামলাটির ও দ্রুত শুনানি শেষ করতেও তাদের বলেছি। তবে তারা এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত”।

বিস্ফোরক মামলা

ছবির উৎস, Getty Images

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলায়

২০১০ সালে হত্যা মামলার সাথেই এ মামলার বিচার শুরু হয়। কিন্তু মাঝে বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিলো এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, “বিচারিক আদালতে বিস্ফোরক মামলার বিচারের ধীরগতি রাষ্ট্রপক্ষের একটা কৌশল”।

তিনি বলেন, “২০১০ সালে যখন দুই মামলার বিচার শুরু হয় তখন রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন দিয়ে হত্যা মামলার দ্রুত শুনানি ও বিস্ফোরক মামলায় স্থগিতাদেশ চায়। ফলে সে সময় বন্ধ হয় বিচার”।

“ফলে হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হাইকোর্ট পর্যন্ত হলেও এখনও লোয়ার কোর্টে শেষ হয় নি বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। খুবই ধীরগতি। এক মাসে হয়তো এক – দুইটা শুনানির দিন দেয়া হয়। অনেক সময় নির্ধারিত দিনেও হয় না শুনানি। মাঝে দীর্ঘদিন শুনানি বন্ধ ছিলো। আবার বিচারক ও অনেক সময় থাকে না”।

“ আবার হত্যা মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য মাত্র তিন মাসে নেয়া হয়েছে অথচ এই মামলায় এসব সাক্ষ্য একবছরের বেশি হলেও শেষ করা হচ্ছে না। এটা রাষ্ট্রপক্ষের একটা কৌশল যাতে মামলাটার ধীরগতি হয় যাতে ততদিনে মানুষগুলো ন্যাচারাল পানিশমেন্ট পায়” বলছিলেন মি. ইসলাম।

বিচারিক আদালতে থাকা বিস্ফোরক মামলাটিতে প্রায় সাড়ে তেরোশ জন সাক্ষী রয়েছে।

সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হবে কি না সে বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ এখনও পরিষ্কার করেনি বলে জানান মি. ইসলাম।

তবে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ বিচার বিলম্ব নানা কারণে হতে পারে। যারা সাক্ষী দেন অনেকেই দেখা যায় বদলি বা রিটায়ার করে। এ থেকে মুক্তির প্রতিকার আইনেই রয়েছে। সে অনুযায়ী আসামিপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে”।

এছাড়া “রাষ্ট্রপক্ষ যখন মূল মামলা সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ হয় মনে করে তখন তারা আর বাকি সাক্ষ্য নাও নিতে পারে” বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, “বিচারের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও আসামি দুই পক্ষেরই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হয়। আবার কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে সাজা না পায় এবং কোন অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর গলে বের না হয় সেটাও দেখতে হবে”।

এ মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখ এ মামলায় সাক্ষ্য-গ্রহণ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৭৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

তবে, এভাবে ধীরগতি হলে কবে বিস্ফোরক মামলার শুনানি শেষ হবে বিচারিক আদালতে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখন মাসে চারদিন মামলাটির সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। আরো অন্তত ২০০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হবে”।

তাহলে কবে নাগাদ মামলাটির শুনানি শেষ হবে এমন প্রশ্নে মি. হোসেন বলেন, “যেভাবে এখন সাক্ষ্য হচ্ছে তাতে এ বছরই মামলার শুনানি শেষ হবে”।

তবে, মামলাটির ধীরগতি নিয়ে আসামিপক্ষের করা অভিযোগ অস্বীকার করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মি. হোসেন।

তবে মামলা ২০১০ সালে স্থগিত হওয়া নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেন মি. হোসেন।

তার দাবি “ ২০১০ সালে আসামিপক্ষের আবেদনেই এ মামলার বিচার স্থগিত হয়। হত্যা মামলার সাথে হলে একসাথেই হতো। প্রসিকিউশনের এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। পরে করোনা আসে”।

“এছাড়া এ মামলায় ১৩৯ জন ফাঁসির আসামি তাদের আনা নেয়ায় নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। এখানে প্রসিকিউশনের সময় নষ্টের কোন সুযোগ নেই। কোনদিন প্রসিকিউশন সময় নেয় নি। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঢালাও অভিযোগ” বলছেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

বিডিআর বিদ্রোহের এই বিচার কাজ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১২ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সে সময় ওই প্রতিবেদনে বলা হয় রাষ্ট্রীয় হেফাজতে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত দশ বছরে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।