বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের 'অস্বস্তি' যেখানে

শেখ মাহেদী হাসান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শেখ মাহেদী হাসান খেলবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৩ এর ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩ এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশের দলে ফিরেছেন শেখ মাহেদী হাসান, এই ম্যাচের একাদশে সুযোগ হয়নি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের।

ম্যাচের আগে পিচ রিপোর্ট দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক ও ভারতের ক্রিকেটার ডিনেশ কার্তিক।

শন পোলক ধরমশালার আউটফিল্ড নিয়ে আলাদা করে কথা বলেছেন।

দিনেশ কার্তিক বলেন, “এই আউটফিল্ড নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে ডাইভ দেয়ার সময়, অথবা বোলিং রান আপে। উইকেটের রং হালকা বাদামি, মাটি কালো।”

গতকাল রাতে ধরমশালায় অনেক বৃষ্টি হয়েছে এবং এই সময় ধরমশালায় কিছুটা বৃষ্টি হয়ই।

দিনেশ কার্তিক যোগ করেন, “প্রায় সাত মিলিমিটার ঘাস ছিল, যা কেটে এখন তিন মিলিমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে।এই উইকেটে শুরুতে ব্যাট করা কঠিন হবে। দিন গড়ালে ধীরে ধীরে বল ভালোভাবে ব্যাটে আসতে পারে। ফাস্ট বোলাররা নিশ্চিতভাবেই সুবিধা পাবে এই উইকেটে”।

বাংলাদেশের সমর্থকরা ধরমশালায়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের সমর্থকরা ধরমশালায়

বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে আফগানিস্তানের সাথে, প্রত্যাশামতো না হলেও ৬ উইকেটের বড় জয় বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট পূর্ববর্তী নেতিবাচক গুমোট আবহ দূর করে ড্রেসিংরুমে স্বস্তি এনে দিয়েছে কিছুটা।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের ফেভারিট দলগুলোর একটি ইংল্যান্ড বড় ব্যবধানে হেরেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, কোনও সুযোগই পায়নি ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড দলটা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার মার্ক রামপ্রকাশ দ্য গার্ডিয়ানে লিখেছেন, “ইংল্যান্ড যদি কোনওভাবে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয় সেটা হবে বড় ভুল। এই ধরনের কন্ডিশনে বাংলাদেশ খুব স্বস্তিতে থাকে।”

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের এই কিংবদন্তীর মতে বাংলাদেশ যদি এখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সম্প্রতি নাও খেলতো তারা এই আবহাওয়া ও এই উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে পারতো দ্রুতই।

তার লেখায় উঠে এসেছে ইংল্যান্ড যে আউটফিল্ড নিয়ে শংকায় থাকবে এবং দ্বিধায় থাকবে এটা খেলায় প্রভাব রাখলেও রাখতে পারে, “ছোট মাঠ, উঁচু জায়গায় ইংল্যান্ড হয়তো সুবিধা নিতে পারবে কিন্তু মাঠের যে পরিস্থিতি এটা নিয়েও ভাবতে হবে”।

ম্যাচের আগে জস বাটলারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই উইকেটে ফিল্ডাররা শতভাগ দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি ‘সংশয়ে আছেন’।

এমনিতে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের চেয়ে ইংল্যান্ড যোজন এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দুইদল চারবার মুখোমুখি হয়েছে ২ বার জিতেছে বাংলাদেশ, ২ বার ইংল্যান্ড।

তাই একটা চাপ থাকবেই ইংল্যান্ডের ওপর, ইংল্যান্ডের জন্য এটা এমন একটা ম্যাচ যেটা তারা জিতবে বলেই ধরে নিয়েছে, কিন্তু টুর্নামেন্টের আগে বা এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ নিয়ে তেমন কোনও প্রত্যাশার চাপ নেই।

বাংলাদেশ কোথায় এগিয়ে?

এনিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক ও কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ইংল্যান্ড একটা পুরোদস্তুর পেশাদার দল। কীভাবে ফিরে আসতে হয় তারা সেটা জানে এবং এরা অনেক ভালোভাবে ফিরে আসতে পারে। তবে একটা অস্বস্তি থাকবেই। বিশ্বকাপের ম্যাচ, মাস্ট উইন ম্যাচ, এসব বিষয় নিয়ে একটা চাপ থাকেই।

আজকের ম্যাচের ফল ইংল্যান্ডের পক্ষে না গেলে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে খেলা নিয়েই শংকা দেখা দিতে পারে, কারণ এখনও ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে খেলা বাকি, এই ‘অস্বস্তি’টা ইংল্যান্ডের জন্য থাকবেই বলছেন মি. ফাহিম।

এর সাথে যোগ হয়েছে আউটফিল্ড নিয়ে অস্বস্তি। তবে যদি উইকেট ফাস্ট বোলারদের জন্য সহায়ক হয় সেটার সুবিধা নেয়ার মতো বোলার ইংল্যান্ডের আছে।

নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, খানিকটা সবুজ ভাব আছে উইকেটে, সাথে শক্ত মাটি যদি হয় সেক্ষেত্রে এই উইকেটে ইংল্যান্ডের জন্য ভালো রসদ থাকবে।

তবে যদি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছু থাকে সেই সুবিধা নেয়ার মতো অস্ত্র বাংলাদেশের ভান্ডারে আছে বলে মনে করেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

তিনি বলেন, “স্পিন আক্রমণ হিসেব করলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে ইংল্যান্ডের চেয়ে। বাংলাদেশের স্পিনাররা যদি খুব দ্রুত উইকেটটা পড়তে পারে এবং সে অনুযায়ী লাইন লেন্থ অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারে এটা হবে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় এগিয়ে থাকার জায়গা।”

বিবিসি স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “একটা দুর্দান্ত গ্রুপের সাথে আমি আছি যারা প্রতিযোগিতা পছন্দ করে এবং ক্ষুধা আছে, একে অন্যের জন্য কাজ করেন তারা”।

গত ১২ মাসে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা ৬০% উইকেট নিয়েছে, যেখানে মনে করা হয় যে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ স্পিন নির্ভর, বিশেষত বাংলাদেশের মাটিতে।

এমনকি ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে মোট উইকেটের ৪০% নিয়েছে ফাস্ট বোলাররা।