বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ ‘জার্ভো ৬৯’ কে?

ছবির উৎস, Getty Images
ক্রিকেটের খোঁজ রাখেন এমন অনেকের কাছে জার্ভো পরিচিত এক নাম, বেশ কয়েকবার তিনি মাঠে ঢুকে পড়েন তিনি, ভারতের জার্সি পরে মাঠে নেমে ক্রিকেটারদের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
রোববার অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচে তিনি দৌড়ে মাঠে ঢুকে ভিরাট কোহলির পাশে গিয়ে দাঁড়ান।
চেন্নাইয়ের এমএ চিদামবারাম স্টেডিয়ামে ড্যানিয়েল জার্ভিস খেলার মধ্যে ঢুকে পড়েন কোহলির কাছাকাছি যাওয়ার সাথে সাথে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন এবং মাঠের বাইরে নিয়ে যান।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বিশ্বকাপের বাকি সব ম্যাচের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করেছে।
আইসিসির এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “আমরা এই ধরনের ঘটনা যেকোনও মূল্যে ঠেকাতে চাই। এটা নিয়ে আমরা গুরুত্বের সাথে কাজ করছি।”
নিষিদ্ধ হওয়া ব্যক্তি ‘জার্ভো ৬৯’ নামে পরিচিত হলেও, তার আসল নাম ড্যানিয়েল জার্ভিস, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্র্যাঙ্কস্টার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ‘পিচ ইনভেডার’ তিনি।
জার্ভিস একের পর এক মাঠে ঢোকার মতো ঘটনা ঘটিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন।
নানা সময়ে তিনি মাঠে ঢুকে ইউটিউবে সেটা নিয়ে ভিডিও দিয়ে লিখেছেন, ‘সাকসেস’।
জার্ভিসের ইউটিউব চ্যানেলে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন খেলায় মাঠে ঢুকে পড়ার ভিডিও আপলোড করেছেন।
শুধু ক্রিকেট না, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল এবং এমনকি আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের খেলাতেও তিনি মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন।
অন্তত ৪ বার তিনি মাঠে ঢুকেছেন, শুধু জার্সি না, কখনো কখনো ব্যাট, প্যাড, হেলমেট নিয়ে মাঠে ঢুকে ক্রিজেও দাঁড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন জার্ভো নামধারী এই ব্যক্তি মাঠে ঢুকে জনি বেয়ারস্টোর দিকে তেড়ে যান, এই ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি।
এমন ঘটনা আরও আছে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মাঠে এমন অতর্কিত ঢুকে পড়া একটা ট্রেন্ডে পরিনত হয়েছে অনেক জায়গায়ই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল ২০১৯ এর ফাইনালে স্বল্প-বসনা এক নারী হঠাৎ করে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়লে কিছুক্ষণের জন্যে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলাটি থেমে গিয়েছিল।
বলা হচ্ছিল, ইউটিউব-ভিত্তিক একটি রুশ পর্ন ওয়েবসাইটের প্রচারণা চালাতেই তিনি অর্ধ-নগ্ন হয়ে খেলা চলাকালে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন।
২০১৬ সালে মাশরাফী বিন মোত্তর্জার জন্য এক সমর্থক গ্যালারির প্রাচীর টপকে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে বিমূঢ় হয়ে পড়লেও প্রায় সাথে সাথে সামলে নিয়ে মাশরাফিও তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেনন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তোপ থেকে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। এসময় কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ হয়ে ছিল।
পরিস্থিতিতে বিব্রত হয়ে বেশ কয়েকবার সাকিব ফুল নিতে অস্বীকৃতি জানালেও, তবে শেষপর্যন্ত ফুল হাতে নিয়েছিলেন।
মিনিটখানেকের মধ্যেই মাঠে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এবং ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা গিয়ে ঐ ব্যক্তিকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান।
এই ঘটনায় চার-পাঁচ মিনিট বন্ধ ছিল তখন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল যারা মাঠে ঢুকেছিলেন তাদের, খুব বেশি শাস্তি না দিলেও আইনী জটিলতায় পড়তে হয়েছে কাউকে কাউকে।
চেন্নাইয়ের উইকেট নিয়ে আলোচনা
অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দেখার পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল চেন্নাইয়ের উইকেট।
যেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সাত ব্যাটারের ছয়জনই ভারতের স্পিনারদের বলে আউট হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্যাট করে ১৯৯ রানে গুটিয়ে গেছে।
ভারত স্পিন নির্ভর বোলিং নিয়ে মাঠে নেমেছে, যেখানে ছিলেন দুজন স্পেশালিস্ট স্পিনার কুলদীপ ইয়াদাভ ও রাভিচান্দ্রান আশ্বিন এবং অলরাউন্ডার রাভিন্দ্রা জাডেজা।
অস্ট্রেলিয়া এই উইকেটে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে সন্ধ্যার পর শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের জন্য।
তবে অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচেও একটা পর্যায়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিল, ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাট থেকে কোনও রান না আসতেই তিন উইকেট নিয়ে নেন অজি ফাস্ট বোলাররা, হ্যাজলউড দুটি ও স্টার্ক একটি।
শেষ পর্যন্ত হ্যাজলউড ৩৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন, কিন্তু ভারতের ভিরাট কোহলি ও কেএল রাহুল এই ম্যাচে দাপটের সাথে ব্যাট করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের আরও একট হাইলাইট মুহূর্ত ছিল কোহলির ব্যাট থেকে ওঠা ক্যাচ মিচেল মার্শের হাতে জমেনি, এই ক্যাচ মিসটাকেও অস্ট্রেলিয়ার ছয় উইকেটে হারের বড় কারণ হিসেবে মনে করছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, “এই ধরনের উইকেটে ভারতই বিশ্বকাপ জয়ের বড় দাবিদার এটা আরও একবার প্রমাণিত হলো”।
চেন্নাইয়ের এই মাঠেই শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।











