মণিপুরে ফের সহিংসতায় মৃত ৯, কেন শান্তি ফিরছে না

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা চলছে - ফাইল চিত্র

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা চলছে - ফাইল চিত্র
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে বুধবার ভোরে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ জন। আবার বৃহস্পতিবারও রাজধানী ইম্ফলের একটি বাজার এলাকায় বেশ কিছু বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। হামলাকারীদের আটকাতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন।

মণিপুর পুলিশ বলছে, বুধবার ভোর রাত একটা নাগাদ ইম্ফল ইস্ট এবং কাঙপোকির খামেনলোক এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিরা এই হামলা চালায়।

সর্বশেষ সহিংসতায় নিহতরা সবাই মেইতেই জনগোষ্ঠীর সদস্য বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন।মে মাস থেকে শুরু হওয়া জাতিগত সহিংসতায় এখনও পর্যন্ত একশোরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন তিনশোরও বেশি।

সংঘর্ষ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে বহু হতাহত হলেও পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে এসেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা হচ্ছে, যাতে মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে।

এর আগে সোমবার খামেনলোক এলাকাতেই আরেকটি সহিংসতায় নয় জন আহত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে বলা হয়েছে মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর জেলার ফৌগাকচাওতেও বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।

সশস্ত্র কুকিরা মেইতেইদের বসবাসের এলাকার কাছে বাঙ্কার তৈরি করার চেষ্টা করছিল। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দিলে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

জাতিগত সহিংসতার গোড়ার দিকে মণিপুর যেন হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্র

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জাতিগত সহিংসতার গোড়ার দিকে মণিপুর যেন হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্র

মেইতেই আর কুকিদের মধ্যে কেন সংঘর্ষ বাধল?

মণিপুরের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় হিন্দু মেইতেই জনগোষ্ঠীর। এদের অনেকেই বৈষ্ণব। রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫% তারাই।

অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে বাস করেন যেসব নাগা এবং কুকি উপজাতির মানুষ, তাদের একটা বড় অংশ খ্রিস্টান। এরকম ৩৩ টি উপজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রাজ্যের ৯০ % পাহাড়ি অঞ্চলে।

গত কয়েক বছর ধরেই মেইতেইরা দাবী জানিয়ে আসছিলেন যে তাদের তপশিলি উপজাতি (এসটি) হিসাবে শ্রেণীভুক্ত করার জন্য।

ভারতে যে সব সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে সমান সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে - তাদেরকে এসটি শ্রেণীভুক্ত করে তাদের জন্য সরকারি চাকরি, কলেজে ভর্তি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির আসন সংরক্ষণ করা হয়।

গত মাসে মণিপুর হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে মেইতেই সম্প্রদায়ের দাবি বিবেচনার নির্দেশ দেয়।

কিন্তু রাজ্যের অন্য উপজাতিগুলোর মধ্যে এতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় যে মেইতেইদেরকে এসটি মর্যাদা দেওয়া হলে তাদের চাকরির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।

সংঘর্ষ শুরু হওয়ার দুদিনের মধ্যেই সেনা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয় মণিপুরে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার দুদিনের মধ্যেই সেনা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয় মণিপুরে

মণিপুর যেন হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্র

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

আবার রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলগুলি, যেখানে উপজাতীয়দের বসবাস, সেখানে মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ জায়গা জমি কিনতে পারেন না। তবে মেইতেইরা উপজাতি তালিকাভুক্ত হলে পার্বত্য অঞ্চল তারা দখল করে নেবে, এই আশঙ্কাও তৈরি হয় উপজাতিগুলির মনে।

মনিপুরের একজন অগ্রগণ্য মানবাধিকার কর্মী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নাম উল্লেখ করতে বারণ করে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “মেইতেইরা রাজনৈতিকভাবে খুবই ক্ষমতাশালী। কিন্তু নাগা এবং কুকি সহ উপজাতীয় মানুষ সংরক্ষণের কারণে এবং তাদের পিছনে খ্রিস্টান মিশনারিদের সহায়তার কারণে পড়াশোনা বলুন বা রাজ্যের ভেতর আর বাইরে চাকরীর ক্ষেত্রে, খুব দ্রুত উন্নতি করে ফেলেছে মেইতেইদের তুলনায়। তাই মেইতেই মধ্যবিত্তদের একাংশ মনে করছিলেন যে তাদেরও সংরক্ষণের আওতায় আসা উচিত, যাতে তারাও উন্নতি করতে পারে।“

হাইকোর্টের নির্দেশের প্রতিবাদ জানাতে মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ডাকা এক মিছিলে হাজার হাজার লোক যোগ দেয় মে মাসের তিন তারিখ।

ওইসব মিছিলগুলির একটি হচ্ছিল উপজাতীয়দের এলাকা চূড়াচন্দ্রপুর জেলায়। সেখানেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এর পর বিষ্ণুপুর এবং আরও কয়েকটি এলাকা থেকেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

মেইতেই সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ যেমন উপজাতীয়দের এলাকা থেকে পালাতে থাকেন, তেমনই রাজধানী ইম্ফলের মতো উপত্যকা এলাকা, যেখানে মেইতেরাই সংখ্যাগুরু, সেখান থেকে পালাতে থাকেন উপজাতীয় মানুষরা।

লাগাতার গুলি চলে, বোমাবাজি হয়, হাজার হাজার বাড়ি, দোকান আর যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হতে থাকে গোটা রাজ্যে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে লুঠ হয়ে যায় প্রায় এক হাজার আধুনিক অস্ত্র, যার মধ্যে অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে এলএমজি, সবই আছে।

সেই সময়ের ছবি দেখে মনে হচ্ছিল যেন সেটা একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র।

পরিস্থিতি সামলাতে সেনা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

প্রাথমিক সহিংসতা বন্ধ হলেও তা পুরোপুরি থামে নি।

যদিও এরই মধ্যে একাধিকবার শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে।

জাতিদাঙ্গায় উভয় সম্প্রদায়েরই বহু ঘরবাড়ি, দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে

ছবির উৎস, Dilip Sharma / BBC

ছবির ক্যাপশান, জাতিদাঙ্গায় উভয় সম্প্রদায়েরই বহু ঘরবাড়ি, দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে

সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে নি

দিল্লি ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপের পরিচালক সুহাস চাকমা বলছিলেন, জাতিগত সহিংসতার শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার উভয়েই তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

তার কথায়, “প্রথমত যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতিতে রয়েছে, তারা ডেসিগনেটেড ক্যাম্পগুলো থেকে বেরিয়ে হামলা চালাতে পারছে কী করে? সেটা নজরদারির দায়িত্ব কার ছিল? আবার হাজার খানেক অত্যাধুনিক অস্ত্র মণিপুর পুলিশের কাছ থেকে লুঠ হয়ে গেল, তার মধ্যে মাত্র শ’দেড়েক ফেরত এসেছে। এটা কি সম্ভব যে সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে অ্যাসল্ট রাইফেল, এলএমজি এসব কেড়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে কোনও প্রতিরোধ ছাড়াই? আর সেই সব অস্ত্র ফেরত পাওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন কী করছে, না তারা একটা বড় বাক্স রেখেছে যেখানে আবেদন করা হচ্ছে যাতে মানুষ অস্ত্র ফেরত দিয়ে যান। এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে?”

মি. চাকমা মনে করেন জাতিদাঙ্গা দিয়ে শুরু হলেও এখন বিষয়টা চলে গেছে সশস্ত্র বিদ্রোহের পর্যায়, যেখানে একদিকে কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আর অন্যদিকে আছে সশস্ত্র মেইতেইরা।

শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় মণিপুর সফরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (ডান দিক থেকে দ্বিতীয়), মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং (ডান দিক থেকে প্রথম) ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (বাঁদিক থেকে দ্বিতীয়)

ছবির উৎস, ANI

ছবির ক্যাপশান, শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় মণিপুর সফরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (ডান দিক থেকে দ্বিতীয়), মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং (ডান দিক থেকে প্রথম) ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (বাঁদিক থেকে দ্বিতীয়)

দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তির প্রচেষ্টা

কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টা করছে যাতে কুকি এবং মেইতেইদের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংকে প্রধান করে শান্তি কমিটিও তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই শান্তি কমিটি বর্জন করেছে মেইতেই এবং কুকি দুই পক্ষই।

কুকি জনগোষ্ঠীর অতি প্রভাবশালী কুকি ছাত্র সংগঠনের নেতা মাঙ্গ খোংগসাই বিবিসিকে বলেছেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে রাজ্যপাল, সবার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সহিংসতা বন্ধ হয় নি। এই পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়ার কোনও আশা তো আমি দেখছি না।“

আবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বিজেপির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও মণিপুরে পাঠিয়েছিল দলীয় নেতৃত্ব।

মি. খোংগসাই বিবিসিকে বলছিলেন, “আসামের মুখ্যমন্ত্রী ইম্ফলে এসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ফিরে গেলেন। যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করার সদিচ্ছা থাকত তার, তাহলে তো তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি গুয়াহাটিতে কিছু কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললেন, অথচ আমাদের সঙ্গে দেখা করলেন না।“

মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়াতেও অখুশি কুকিরা।

তাদের মতে মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হল রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা।

আবার ৫১ সদস্যের যে শান্তি কমিটি তৈরি করা হয়েছে, সেটিতে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে মেইতেই গোষ্ঠীর নেতৃত্বদানকারী সংগঠন কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও উত্তরপূর্ব ভারতের রাজনীতির বিশেষজ্ঞ সমীর দাস বলছিলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে রফাসূত্র বার করতে হয়, সেই সূত্রগুলো বার করার কাছাকাছিই তো এখনও পৌঁছন যায় নি।

জাতিগত সহিংসতার মধ্যেই লুঠ হয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত এক হাজার অত্যাধুনিক অস্ত্র

ছবির উৎস, Dilip Sharma / BBC

ছবির ক্যাপশান, জাতিগত সহিংসতার মধ্যেই লুঠ হয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত এক হাজার অত্যাধুনিক অস্ত্র

জাতিগত আনুগত্য দেখাচ্ছে নাগরিক সমাজও

অধ্যাপক দাসের কথায়, "রফা সূত্র বার করতে হলে তো মেইতেই এবং কুকি নেতৃত্বকে এক জায়গায় আনতে হবে, দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চালাতে হবে।

“রফা সূত্র খুঁজতে মণিপুরের বাইরে কতগুলি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেখানে কোনও এক পক্ষ হাজির হয় নি,”বলছিলেন অধ্যাপক দাস।

“মণিপুরে নাগরিক সমাজ খুবই সক্রিয় এবং এধরনের গোষ্ঠীগুলির সংখ্যাও প্রচুর। কিন্তু এই সহিংসতার ঘটনার পিছনে যে জাতিস্বত্ত্বার বিবাদ আছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে নাগরিক সমাজও জাতি এবং গোষ্ঠীগত আনুগত্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিজস্ব গোষ্ঠীর বাইরে গিয়ে তারা এমন একটা জায়গায় পৌঁছতে পারছে না, যেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা অন্তত শুরু হতে পারে,” ব্যাখ্যা করছিলেন অধ্যাপক সমীর দাস।

মণিপুরের প্রায় ৬৫% মানুষ মেইতেই গোষ্ঠীর, যারা ধর্মীয়ভাবে হিন্দু

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মণিপুরের প্রায় ৬৫% মানুষ মেইতেই গোষ্ঠীর, যারা ধর্মীয়ভাবে হিন্দু

মণিপুরেও চলছে হিন্দুত্ববাদের পরীক্ষা

মণিপুরের নাগরিক সমাজ সবসময়েই মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (আফস্পা)-র বিরুদ্ধে দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন করেছে মণিপুরের নাগরিক সমাজ। কিন্তু জাতিগত প্রশ্নে তারা কেন গোষ্ঠী আনুগত্য দেখাচ্ছে?

নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগত আনুগত্যের কারণে বিভাজিত হয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন মনিপুরের নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া মানবাধিকার কর্মী।

তার কথায়, “সারা দেশের মতোই এখানেও হিন্দুত্ববাদী পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মণিপুরের মেইতেইরা যেহেতু হিন্দু, তাই বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখানে হিন্দু আধিপত্যবাদী চিন্তাধারা খুবই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বাধীন নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার আন্দোলনকে ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে বা তাদের ডানা ছাঁটা হয়েছে। যদি সাম্প্রতিক জাতি দাঙ্গা বা সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন মানবাধিকার কর্মীরা, তাহলে তাদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।“

তিনি বলছিলেন একধরণের নতুন ভিজিল্যান্টে গ্রুপ বা নজরদারী দল তৈরি হয়েছে, যাদের মদত দিচ্ছে সরকার। এইসব গোষ্ঠীর অনেকগুলিই বেশ জঙ্গি এবং সহিংস।

(সহযোগী প্রতিবেদন, দিলীপ কুমার শর্মা, বিবিসি হিন্দি)