রাশিয়ায় ওয়াগনারের বিদ্রোহে বিজয়ী হয়নি কেউই: লুকাশেঙ্কো

মিনস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মিনস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো
    • Author, স্টিভ রোজেনবার্গ
    • Role, রাশিয়া এডিটর, বিবিসি

রাশিয়ারা ভাড়াটে সামরিক বাহিনী ওয়াগনার যে বিদ্রোহ ঘটিয়েছিল তার অবসান ঘটাতে সমঝোতা চুক্তিতে বেলারুসের নেতা অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সাহায্য করেছিলেন। অন্তত সবাই তাই মনে করেন।

তাই জটিল ঐ ঘটনা সম্পর্কে যদি কেউ আলোকপাত করতে পারেন, সেটা একমাত্র তিনি। অন্তত তাই আমরা আশা করতে পারি।

মি. লুকাশেঙ্কোর সাথে ‘আলাপ’ করার জন্য মিনস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সাংবাদিকদের একটি ছোট দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি ছিলাম সেই দলের অংশ।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রবল জল্পনা-কল্পনা ছিল। তবে বেলারুসিয়ান নেতার যে এখনও অনেক দম রয়েছে, তা পরিষ্কার। আমাদের সাথে ঐ ‘আলোচনা’ চলেছিল চার ঘণ্টা ধরে।

কিন্তু রুশ বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোকপাত করার পরিবর্তে তিনি বিষয়টাকে আরও ঘোলাটে করে তোলেন।

মিনস্কে প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন

ছবির উৎস, BELARUS PRESIDENTIAL POO

ছবির ক্যাপশান, মিনস্কে প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন

ক্রেমলিন সরকার এবং ওয়াগনার গ্রুপের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, কিছু সহযোদ্ধাকে নিয়ে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের বেলারুসে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেটা হয়নি। অন্তত এখনও না।

"আজ সকাল পর্যন্ত," মি. লুকাশেঙ্কো বলছেন, "ওয়াগনার যোদ্ধারা, খুব সুদক্ষ যোদ্ধা যারা, তারা এখনও সেই ক্যাম্পে বসবাস করছে, বাখমুত থেকে সরে আসার পর থেকে তারা যেখানে থাকছিল।"

"আর ইয়েভগেনি প্রিগোশিন এখন সেন্ট পিটার্সবার্গে আছেন। সম্ভবত আজ সকালেই তিনি মস্কোতে চলে গেছেন। অথবা হয়তো তিনি অন্য কোথাও আছেন। কিন্তু তিনি আর বেলারুসে নেই।"

আমি অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এর মানে কি এই যে রুশ সরকারের সাথে মি. প্রিগোশিনের চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে?

তিনি সেটা অস্বীকার করলেন। মনে হচ্ছে, এনিয়ে এখনও পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে যেটা সম্পর্কে আমাদের জানানো হবে না।

২০২০ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে লুকাশেঙ্কো সরকার মস্কোর ওপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০২০ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে লুকাশেঙ্কো সরকার মস্কোর ওপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বিদ্রোহ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে মস্কো এবং মিনস্ক - এই দুই সরকারের মধ্যে সমঝোতার অভাব রয়েছে। ।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভিতে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়েছে যে এই নাটকীয় ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একজন বীর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

"আমি মনে করি ঐ পরিস্থিতি থেকে কেউই বিজয়ী হতে পারেনি," মি. লুকাশেঙ্কো আমাকে বলছিলেন।

"না প্রিগোশিন, না পুতিন, না লুকাশেঙ্কো। এখানে কোনও নায়ক নেই। এবং এর থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি? কেউ যদি এধরনের সশস্ত্র দল তৈরি করে তাহলে তার ওপর নজর রাখতে হবে এবং তার ব্যাপারে গভীর মনোযোগ দিতে হবে।"

এরপর আমাদের আলোচনাটি পরমাণু অস্ত্রের দিকে চলে যায় - বিশেষ করে যেসব পরমাণু অস্ত্র রাশিয়া বলছে তারা বেলারুসে সরিয়ে নিচ্ছে।

"ঈশ্বর চান আমাকে যেন কখনই এগুলি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে না হয়," মি. লুকাশেঙ্কো সম্প্রতি বলেছেন, "তবে আমি এগুলি ব্যবহার করতে দ্বিধা করব না।"

ঐ মন্তব্য সম্পর্কে আমি তাকে মনে করিয়ে দিই।

"জো বাইডেন একই কথা বলতে পারেন, এবং প্রধানমন্ত্রী সুনাক পারেন," জবাবে মি. লুকাশেঙ্কো বলেন, "এবং আমার বন্ধু শি জিনপিং এবং আমার বড় ভাই প্রেসিডেন্ট পুতিনও একই কথা বলতে পারেন।"

বেলারুসে অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও চলছে বহুদিন ধরে। এটা ২০০০ সালের ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বেলারুসে অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও চলছে বহুদিন ধরে। এটা ২০০০ সালের ছবি

"কিন্তু আমরা যেসব অস্ত্র সম্পর্কে কথা বলছি সেগুলো আপনার অস্ত্র নয়,” আমি তাকে বলি, "এগুলো রুশ অস্ত্র। এগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আপনি নিতে পারেন না।"

"ইউক্রেনে পুরো সেনাবাহিনী বিদেশি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করছে, তাই না?," বেলারুসিয়ান নেতার জবাব। "সেগুলো নেটোর অস্ত্র। কারণ তাদের [ইউক্রেনের] নিজস্ব অস্ত্র সব শেষ হয়ে গেছে। তাহলে আমি কেন অন্যের অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করতে পারি না?"

কিন্তু আমরা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কথা বলছি, পিস্তল নয়, জবাব দিলাম আমি।

"পরমাণু? হ্যাঁ। সেগুলোও অস্ত্র। কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র।"

পরমাণু প্রশ্নে তার জবাব থেকে আপনি সম্ভবত ধারণা করতে পারেন যে অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সত্যিই একজন বিতর্কিত ব্যক্তি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং ব্রিটেন তাকে বেলারুসের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

দু’হাজার বিশ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেলারুসিয়ানরা তার বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এবং ঐসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নির্মম হাতে দমন করা হয়।

লুকশেঙ্কো-বিরোধী বিক্ষোভগুলো কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে। (ফাইল ফটো)

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লুকশেঙ্কো-বিরোধী বিক্ষোভগুলো কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে। (ফাইল ফটো)

সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার সময় আমি কারাবন্দী বিরোধী নেতা মারিয়া কোলেসনিকোভা কথাটি উল্লেখ করি।

"মাসের পর মাস ধরে তার আত্মীয় এবং আইনজীবীদের কারাগারে তার সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। কেন?" আমি জিজ্ঞাসা করি।

তিনি দাবি করলেন, “এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।“

"২০২১ সালে শেষবার যখন আমি আপনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তখন বেলারুসে ৮৭৩ জন রাজনৈতিক বন্দী ছিল," আমি মি. লুকাশেঙ্কোকে স্মরণ করিয়ে দেই। "এখন রাজনৈতিক বন্দির সংখ্যা ১,৫০০ জন।"

"আমাদের ফৌজদারি আইনে রাজনৈতিক অপরাধের জন্য কোন ধারা নেই," তিনি উত্তর দিলেন।

রাজনৈতিক অপরাধের জন্য কোন আইন না থাকার অর্থ এই নয় যে কোন রাজনৈতিক বন্দী নেই, আমি উল্লেখ করি।

"যদি কোন আইন না থাকে তাহলে কয়েদিরা রাজনৈতিক বন্দী হতে পারে না," তিনি জোর দিয়ে বললে। "সেটা কীভাবে সম্ভব?"