ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৈরুতে নিহত পাঁচজন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় বাইডেনের 'না'

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের মধ্যাঞ্চলে একটি ভবনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা

ছবির উৎস, Getty Images

বৈরুতের কেন্দ্রে ইসরায়েলের চালানো এক বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন লেবাননের কর্মকর্তারা।

যে ভবনটিতে বিমান হামলা হয়েছে, সেটি বাচৌরাতে অবস্থিত। বহুতল ওই ভবনটি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল, যেখানে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ’র আসা-যাওয়া ছিল।

এই ভবনে আক্রমণের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে যে তারা 'নির্ভুল' আঘাত হেনেছে।

বৈরুতের কেন্দ্রে, বিশেষ করে লেবাননের সংসদের এত কাছাকাছি ইসরায়েলি হামলা এবারই প্রথম। এখানে হামলা হয়েছে, সেই স্থানটি সংসদ থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।

এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছিলো যে দক্ষিণ লেবাননে তাদের আটজন সৈন্য নিহত হয়েছে। ওই ঘোষণা দেওয়ার পরপরই লেবাননে এই হামলা হল।

তবে, হেজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করার পর এটিই ছিল ইসরায়েলের প্রথম ক্ষতি।

এই প্রথম বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে হামলা চালালো ইসরায়েল। তারা এর আগে মূলত দক্ষিণ বৈরুতে আক্রমণ করছিল।

এদিকে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় সায় দেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সম্পর্কিত খবর:
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা
ছবির ক্যাপশান, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

হেজবুল্লাহ বলেছিলো, যুদ্ধের সময় তারা ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলি ধ্বংস করেছে। তারা জোর দিয়ে এও বলেছে যে ইসরায়েলি বাহিনীকে পরাস্ত করার জন্য তাদের যথেষ্ট জনবল ও গোলাবারুদ রয়েছে।

এদিকে, এর আগে আইডিএফ ঘোষণা করেছিলো যে লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে থাকা 'সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো' গুড়িয়ে দেয়ার জন্য আরও পদাতিক ও সাঁজোয়া সৈন্য জড়ো করা হয়েছে।

লেবাননে গতরাতে সর্বশেষ হামলার সময় বৈরুতের হাহিয়েহ অঞ্চলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। চতুর্থ শব্দটি শোনা গেছে একদম শহরের মধ্যাঞ্চল থেকে।

আইডিএফ হাহিয়েহতে বসবাসকারীদের সতর্ক করার পর সেখানে আরও দুইটি বিমান হামলা হয়েছিলো।

এই অঞ্চলটি হেজবুল্লাহ’র শক্তিশালী ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত।

রাতের বিমান হামলার আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিলো যে, বেসামরিক ও সামরিক মানুষ মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বোমা হামলা ৪৬ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে।

লেবাননে সর্বশেষ হিমান হামলায় নিহতদের মাঝে একজন স্থায়ী মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।

দ্য ডেট্রয়েট নিউজ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ওই নাগরিকের নাম কামেল আহমেদ জাওয়াদ। তার বয়স ছিল ৫৬ বছর।

তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের খেয়াল রাখার জন্য সেদেশে এসেছিলেন।

আরও পড়তে পারেন:
১২ লাখের মতো মানুষ ঘর ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা লেবাননে

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ১২ লাখের মতো মানুষ ঘর ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা লেবাননে

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেইসাথে, এও বলেছেন, “লেবাননের অনেক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর মতো তার মৃত্যুও একটি দুঃখজনক ঘটনা।”

লেবাননের কর্তৃপক্ষের মতে, দুই সপ্তাহ ধরে চলমান ইসরায়েলি হামলার কারণে হেজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ কারণে এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও ১২ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যূত হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধের কারণে লেবানন ও ইসরায়েলের মাঝে এক বছর ধরে আন্তঃসীমান্ত শত্রুতা চলছে। অবশেষে এবার ইসরায়েলে লেবাননে এরকম বড় মাত্রায় আক্রমণ চালিয়েছে।

ইসরায়েল বলছে যে হেজবুল্লাহ’র হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ ঘরবাড়িতে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে চায় তারা।

হেজবুল্লাহ হল শিয়া ইসলামপন্থী একটি রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক সংগঠন। লেবাননের শাসন ব্যবস্থায় তাদের যথেষ্ট প্রভাব হয়েছে।

তবে, এই সংগঠনটি ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশের কাছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে পরিচিত।

স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় বাইডেনের 'না'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলাকে সমর্থন করেন না।

তিনি বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় 'ইসরায়েল কী করতে চলেছে', মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে 'ইসরায়েলিদের সাথে আলোচনা করবে'।

বুধবার হারিকেন ‘হেলেনের’ তাণ্ডবে নর্থ ক্যারোলাইনার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জো বাইডেন।

সেখানে মি. বাইডেনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল - ইসরায়েল যদি এখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করতে চায়, তাতে তিনি সমর্থন দেবেন কী না?

তার জবাব ছিল - ‘না’।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এখন কী করতে চাইছে, তা নিয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

মি. বাইডেন বলেন, এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জি–সেভেন জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা সবাই একমত হয়েছেন যে ইসরায়েলের জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, "ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রয়েছে। দেশটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।"

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

লেবাননে আট ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননে স্থল অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সেনারা হেজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মুখোমুখি হয়েছিল।

ওইদিন আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে যে তাদের সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকায় “সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস করেছে"।

পরে, আইডিএফ ঘোষণা করে যে অভিযানে আটজন সেনা নিহত হয়েছেন। যে সব সৈন্য মারা গেছে, তাদের বেশির ভাগই ছিল ইগোজ ও গোলানী রিকনেসান্স ইউনিটের।

তবে হেজবুল্লাহ বলছে যে তারা ইসরায়েলি যোদ্ধাদের ওপর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

তাদের দাবি ওই হামলায় বুধবার ভোরে সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে সংঘর্ষের সময় কয়েক ডজন নিহত ও আহত হয়েছে।

তারা আরও বলছে যে কাফর কিলা গ্রামের উপকণ্ঠে অন্যান্য ইসরায়েলি সৈন্যদেরকে বিস্ফোরক ও বন্দুক দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেইসাথে, ইসরায়েলের তিনটি মেরকাভা ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে।

হেজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অনেক বছর ব্যয় করেছে। তাদের অবকাঠামোগুলোর নীচে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল রয়েছে।

এই সংগঠনটির হাজার হাজার যোদ্ধা রয়েছে, যারা এগুলো খুব ভালোভাবে চেনেন।

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা

এদিকে, নিহত আট সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে ইসরায়েল “ইরানের অশুভ অক্ষের বিরুদ্ধে একটি কঠিন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা আমাদেরকে ধ্বংস করতে চায়।”

“কিন্তু তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়ন হবে না। কারণ আমরা একসাথে লড়বো। ঈশ্বরের কৃপায় আমরা একসাথে জয়ী হবো,” তিনি যোগ করেন।

এছাড়া, গত শুক্রবার বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহসহ আরও একজনকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের দিকে ইরান ১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিলো। সেগুলোর বেশিরভাগই দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছিলো।

কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার একদিন পর, মানে গতকাল বুধবারও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আবারও সক্রিয় ছিলো। আইডিএফ জানিয়েছে, গতকাল দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ২৪০টিরও বেশি রকেট ছোঁড়া হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন যে লেবাননে স্থল আক্রমণ হেজবুল্লাহ’র ক্ষমতাকে হ্রাস করবে এবং হেজবুল্লাহ যোদ্ধাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। এতে করে প্রায় ৬০ হাজার সীমান্তবর্তী বাস্তুচ্যূত ইসরায়েলি নাগরিক তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবে।