ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

ছবির উৎস, EPA-EFE/REX/Shutterstock
ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে । বহুদিনের বৈরিতা থাকলেও এই প্রথমবারের সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালালো ইরান।
দুই শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে তারা ‘দখলীকৃত ভূমিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে ওই হামলা চালিয়েছে'।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও ইরানের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে ইসরায়েল ও অন্য কয়েকটি দেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গতিরোধ করেছে, যার বেশিরভাগ হয়েছে ইসরায়েলের আকাশসীমার বাইরে।
বহু বছর ধরে ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত থাকার পর এই প্রথম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ প্রথমবারের মতো সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হলো।
“আজ রাতের ইরানের দিক থেকে এই হামলা একটি মারাত্মক ঘটনা,” বলেছেন ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফের মুখপাত্র রিয়ার এডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি।
“আমাদের সহযোগী ও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্র ও জনগণকে রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি”।
তিনি জানান দুশোর মতো ঘাতক ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান এবং এর বড় অংশই ইসরায়েল ও অঞ্চল জুড়ে তার পার্টনাররা রুখে দিয়েছে।
তিনি বলেন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আঘাত করেছে এবং একটি সামরিক ঘাঁটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, X/@POTUS
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
তবে পুরো ইসরায়েল জুড়ে সাইরেনের শব্দের পাশাপাশি জেরুসালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সাথে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু বস্তুকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ইসরায়েল, লেবানন ও ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সিরিয়া ও জর্ডান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সতর্কাবস্থায় রেখেছে।
ইরানের হামলা শুরুর পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার বৈঠক ডেকেছেন। এছাড়া জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে কোন পরিস্থিতির জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আছে।
“ইরানের সরাসরি হামলার জন্য সাম্প্রতিক বছর ও সপ্তাহগুলো ধরে ইসরায়েল প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত- হামলা ও আক্রমণ উভয়ের জন্য। ইসরায়েল রাষ্ট্র শক্তিশালী। আইডিএফ শক্তিশালী। জনগণ শক্তিশালী,” ভাষণে বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমার নীতি পরিষ্কার। যেই আমাদের ক্ষতি করবে,আমরা তাদের ক্ষতি করবো। যে কোন হুমকির মুখে আমরা আমাদের রক্ষা করবো”।

ছবির উৎস, Reuters
ইরান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে যে গত পহেলা এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে তাদের কনস্যুলেটে হামলার জন্য ইসরায়েলকে শাস্তি পেতে হবে। দুজন জেনারেলসহ ইরানি রেভলিউশনারি গার্ডের সাতজন সদস্য ওই হামলায় নিহত হয়েছিলো। তবে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।
ইরান এতদিন ধরে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলছিলো। কিন্তু দামেস্ক হামলাকে মারাত্মক ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ইরানের মাটি থেকে এই প্রথম ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডেলাওয়ারে তার সফর সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউজে ফিরে এসেছেন।
“ইরান ও তার প্রক্সিদের হুমকি থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অঙ্গীকারে আমরা অবিচল,” ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিমের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
হামলার নিন্দা করে দেয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহবান জানিয়েছেন।
ওদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন ইরান ইসরায়েলে হামলা করলে ইসরায়েলও ইরানে পাল্টা আঘাত করবে।

ছবির উৎস, EPA
জেরুসালেমে সাইরেন
শনিবার সন্ধ্যায় যখন ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষণা করে যে, তারা পূর্ণ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান আকাশে উড়তে শুরু করে, তখনি সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।
জনসমাবেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরেই সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান যে, ইরান ইসরায়েলের দিকে ড্রোন পাঠাতে শুরু করেছে।
এরপর শহর জুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করে। আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ছুড়ে দেয়া হয়।
যদিও ইরানের হামলায় খুব কম ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইসরায়েলি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানিয়েছেন, ''ভালোরকম জবাব দেয়া হবে''।

ছবির উৎস, Getty Images
জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ
ইসরায়েলে ইরানের হামলা নিয়ে রোববার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
ইসরায়েলের অনুরোধে কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ভেনেসা ফ্রাজিয়ের বলেছেন, ''এই হামলা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি তৈরি করেছে।''
নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো ইসরায়েলের চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিধিবিধান লঙ্ঘন করে বহুদিন ধরেই অস্থিরতা তৈরির কলকাঠি নাড়ছে ইরান। দেশটির ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনকানুন এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো মানছে না।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডস কোরকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে অনুরোধ করেছে ইসরায়েল।
জি সেভেন নেতাদের সাথে বৈঠকে বসবেন জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, 'ইরানের জঘন্য হামলার সমন্বিত কূটনৈতিক জবাব দিতে' রবিবার জি সেভেন নেতাদের আলোচনা করবেন।
ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে তার টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে যু্ক্তরাষ্ট্রের কোন স্থাপনায় হামলা না হলেও তারা পুরো সতর্ক থাকবে বলে দেশটি জানিয়েছে।
''আমাদের জনগণকে রক্ষায় আমরা কোনরকম দ্বিধা করবো না,'' বলেছেন জো বাইডেন।











