ভারতের পত্রিকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের খবর যেভাবে এসেছে

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবর। একটি বড় ছবির ওপরে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘হাসিনার পতন’। শীর্ষ খবরটির শিরোনাম ‘সেনার হাতে বাংলাদেশ’।
ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে “প্রায় পাঁচ দশক আগে এক অগাস্টের সকালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য। সেই সময়ে বাংলাদেশে ছিলেন না মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। সোমবার, আবার এক অগাস্টের দুপুর। গণ আন্দোলনের অভিঘাতে দ্রুত বদলে যাচ্ছিল ঢাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে সেনাপ্রধান ওয়াকর-উজ-জামান পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন। এর পরেই ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন হাসিনা, সঙ্গে বোন রেহানা।”
এর পাশাপাশি ঢাকার ‘প্রথম আলো’র পলিটিক্যাল এডিটর কাদির কল্লোলের একটি বিশ্লেষণও আছে। সেটির শিরোনাম “ঘরে-বাইরে একা হয়ে পড়েছিলেন মুজিব কন্যা”।
এই লেখাটিতে কাদির কল্লোল লিখেছেন, “সাড়ে ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করার পর শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতে হলো একনায়ক হিসেবে। ছাত্র ও গণআন্দোলেনর মুখে তার শাসনের পতনের পিছনে একগুঁয়েমি, অহঙ্কার এবং আত্মবিশ্বাসকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

‘বর্তমান’ সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে : ‘তাণ্ডব জামাতপন্থীদের, ইস্তফা দিয়েই ভারতে পাড়ি হাসিনার, সেনার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ’।
সেখানে লেখা হয়েছে : মাত্র চারদিনের আন্দোলনেই পতন হলো বাংলাদেশ সরকারের। পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালের পর আবারও ওপার বাংলায় ক্ষমতা গেল সেনাবাহিনীর হাতে। সেবার ছিল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষে অশান্ত পরিস্থিতি। আর এবার কোটা বিরোধী আন্দোলনের জের।
কলকাতার আরেকটি সংবাদপত্র ‘আজকাল’ আট কলাম জুড়ে শীর্ষ শিরোনাম করেছে : “এখন সেনার বাংলাদেশ দেশ ছাড়লেন হাসিনা।”
ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মূর্তি ভাঙ্গার চেষ্টা করছে জনতা।
এছাড়া সংবাদপত্রটি দ্বিতীয় শিরোনাম করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে ‘এখানে শান্তি নষ্ট না হয়: মুখ্যমন্ত্রী’। তাতে লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশের ঘটনার কথা শুনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভারতের শান্তি নষ্ট হতে পারে, এমন কাজ করবেন না। তার বক্তব্য, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির কয়েকজন নেতা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। আমি আমার নেতাদেরও বলব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন পোস্ট করবেন না।”

সংবাদ প্রতিদিন কাগজের প্রথম পাতায় মোট তিনটি শিরোনাম রয়েছে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে। প্রথম প্রতিবেদনটি সোমবার ঢাকার ঘটনাবলীর বিবরণ। দ্বিতীয়টির শিরোনাম ‘হাসিনার গণভবনে তাণ্ডব, লুঠ’।
তৃতীয়টির শিরোনাম ভারতের অবস্থান নিয়ে। ‘মেপে পা ফেলছে সাবধানী দিল্লি। ‘এই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে “প্রতিবেশী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে চাপ বাড়ল নয়া দিল্লির উপর। একদিকে, ‘বন্ধু’ শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে আনা গেলেও তাকে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী যেমন ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ দিয়েছিলেন, এবারও তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।”

দিল্লি থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকগুলোতেও শীর্ষ শিরোনাম বাংলাদেশ নিয়েই। চারটি জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক : ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’, ‘দ্য হিন্দু’, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এবং ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ – সবগুলো শীর্ষ শিরোনাম অনেকটা একরকম।
শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার বিষয়টিকে সব কাগজের শীর্ষ শিরোনামে ‘পলায়ন’ বলে লেখা হয়েছে।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ লিখেছে ‘Shaken Hasina Flees, Army In Charge’।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শিরোনাম : ‘Hasina falls, flees, Army takes Dhaka’।
‘দ্য হিন্দু’ শীর্ষ খবরটির শিরোনাম দিয়েছে ‘Hasina quits, flees Bangladesh, lands in India as protests surge’।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’এর শিরোনামও অনেকটা একই ধরনের; তারা লিখেছে ‘Hasina Flees Bangladesh’।
সবকটি ইংরেজি কাগজের প্রতিবেদনেই এক বা একাধিক ছবি ছাপা হয়েছে। তিনটি কাগজের প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে গণভবনের মাথায় বহু মানুষ চড়েছেন।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর ছবিগুলির একটিতে দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে উঠছেন আর অন্য ছবিটি ঢাকার রাস্তায় সেনা টহলের।








