আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ভারতের মহারাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার
ভারতের মহারাষ্ট্রে বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সহ পাঁচ জন মারা গেছেন। দেশটির অসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিচালক, ডিজিসিএ এই খবর নিশ্চিত করেছে।
মি. পাওয়ারের দেহরক্ষী ও একজন সহকারী এবং দুজন ক্রু সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারের উদ্দেশ্যে মি. পাওয়ারকে নিয়ে ভাড়া করা বিমানটি বুধবার সকালে মুম্বাই থেকে রওনা হয়ে পুণে জেলার বারামতীতে যাচ্ছিল। বারামাতীতে অবতরণের সময়েই ভারতীয় সময় সকাল পৌনে নটা নাগাদ রানওয়ের পাশে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং সেটিতে আগুন লেগে যায় বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।
অজিত পাওয়ার ভারতের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শরদ পাওয়ারের ভাইপো।
বিবিসির মারাঠি বিভাগ জানাচ্ছে যে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার দিল্লি থেকে বারামতীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, অন্যদিকে শরদ পাওয়ারও মুম্বাই থেকে বারামতীর দিকে রওনা হয়েছেন।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফডনবিশ। ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ে তারা কী দেখেছিলেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
যা বললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
বিমান দুর্ঘটনার সময়ে যারা কাছাকাছি হাজির ছিলেন, তারা বলছেন বিমানটিতে অন্তত চারবার বিস্ফোরণ হয় আর তারপরেই আগুন ধরে যায়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, "বিমানটি যখন অবতরণ করছিল, তখনই বোঝা যাচ্ছিল যে ভেঙে পড়বে, হলও তাই। এরপরেই একটা বিস্ফোরণ হয়। তারপর চার-পাঁচটা বিস্ফোরণ হয়।
"আরও মানুষ জড়ো হতে থাকেন সেখানে। চেষ্টা করা হচ্ছিল যে যাত্রীদের যদি বিমান থেকে টেনে বার করে আনা যায়। কিন্তু ভয়াবহ আগুন জ্বলছিল, তাই কেউ কিছুই করতে পারে নি," জানিয়েছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
জানা যাচ্ছে যে ভাড়া করা ছোট বিমানটি ছিল ভিটিএসএসকে, লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের। বিমানটি চালাচ্ছিলেন সুমিত কাপুর ও সম্ভভি পাঠক।
শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সহ বিভিন্ন ধারার রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা শোক প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী অজিত পাওয়ার সহ কয়েকজনের মহারাষ্ট্রের বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। অজিত পাওয়ার জীর অসময়ে মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। মহারাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য, বিশেষত সমবায় ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন, "মহারাষ্ট্রের বারামতীতে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত। যারা তাদের প্রিয়জনকে এই দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন, তাদের জন্য আমি ভাবিত। এই গভীর শোকের সময়ে স্বজনহারা পরিবারগুলি যাতে শক্তি আর সাহস পায়, সেই প্রার্থনা করি।
"শ্রী অজিত পাওয়ার জী একজন জননেতা ছিলেন, যার সঙ্গে তৃণমূল স্তরের গভীর যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় সামনের সারিতে থেকে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য তিনি ব্যাপক ভাবে সম্মানিত হতেন," লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফডনবীশ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানান, "মহারাষ্ট্রের জন্য আজ এক কঠিন দিন। এরকম নেতৃত্ব গড়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগে। যে সময়ে তিনি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, তখনই তার চলে যাওয়া অবিশ্বাস্য। আমি এক , তেমনই শক্তিশালী আর উদার বন্ধুকে হারালাম।"
মহারাষ্ট্রের আরেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে সাংবাদিকদের বলেন, "অজিত পাওয়ারের মৃত্যু রাজ্যের এক বড়ো ক্ষতি। তিনি পড়াশোনা করতে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনই সাহসী আর নিয়ম মেনে চলা একজন নেতা ছিলেন। প্রশাসনের ওপরে তার কঠোর নিয়ন্ত্রণও ছিল। সরকারি কোষাগারের ওপরে অহেতুক চাপ পড়তে পারে, এমন যে কোনো প্রকল্পে না বলতে কখনও দ্বিধা বোধ করতেন না তিনি। আমার কাছে বড়ো ভাইয়ের মতো ছিলেন তিনি।"
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, "মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ও তার সহযাত্রীদের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার সংবাদ চূড়ান্ত হৃদয়বিদারক। এই শোকের সময়ে আমি মহারাষ্ট্রের মানুষের পাশে আছি। পুরো পাওয়ার পরিবার এবং তাদের প্রিয়জনেদের এই শোকের সময়ে সমবেদনা জানাই।"
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত ও গভীরভাবে শোকাহত!
"তার কাকা শরদ পাওয়ার জী এবং প্রয়াত অজিতজীর সব বন্ধু ও কর্মীদের সহ তার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা," লিখেছেন মিজ. ব্যানার্জী।
কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তার সঠিক তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবন
যে বারামতীতে অবতরণের সময়ে অজিত পাওয়ারের বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, সেটিই পাওয়ার পরিবারের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি।
বিভিন্ন সময়কালে একনাথ শিন্ডে, দেভেন্দ্র ফাডনবীশ, উদ্ভব ঠাকরে ও পৃথ্বিরাজ চৌহানের অধীনে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন অজিত পাওয়ার।
ভারতের অতি জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ারের ভাইপো ছিলেন অজিত পাওয়ার।
দীর্ঘদিন শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বে ন্যাশানালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি-র রাজনীতি করলেও ২০১৯ সালে দলে ভাঙন ঘটিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেন অজিত পাওয়ার। তাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে যে অজিত পাওয়ার ১৯৮২ সালে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি প্রথমবার লোকসভায় জিতে বারামতী কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। পরে অবশ্য আসনটি তিনি তার কাকা শরদ পাওয়ারকে ছেড়ে দেন। বারামতী বিধানসভা আসন থেকে সাত বার বিধায়ক হয়েছিলেন অজিত পাওয়ার।
এনসিপিতে ভাঙনের পরে শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী আর অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে কারা দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখতে পারবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালে অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীকেই দলের নাম এবং প্রতীক প্রদান করে।