অভিজিৎ হত্যায় জড়িত সাতজনকে 'চিহ্নিত করেছে' পুলিশ

অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান, অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা

বাংলাদেশে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করছে, লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত সাতজনকে তারা চিহ্নিত করতে পেরেছে।

অভিজিৎ রায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘটনার তদন্তে পুলিশ এবং সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমন পটভূমিতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্ত করার কথা তুলে ধরেছে।

তবে অভিজ্যিৎ রায়ের পিতা অধ্যাপক অজয় রায় বলছেন, এখনও পুলিশের এসব তৎপরতা তাদের কাছে 'লোক-দেখানো' মনে হচ্ছে।

গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একুশে বইমেলার কাছে অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর চার মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তদন্তে অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আজ এক সাংবাদিক সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করেছে, হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত সাত জনকে পুলিশ চিহ্নিত করতে পেরেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র মুনতাসীরুল ইসলাম বলেছেন, অভিজিৎ রায়কে হত্যার ঘটনায় চিহ্নিত সাতজনই সরাসরি জড়িত, এ বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, চিহ্নিতদের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানে লেখাপড়া করেছে এবং বাকিরা ঢাকায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

সাতজনই সচ্ছ্ল পরিবারের এবং তারা আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তবে এদের কাউকেই পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি।

avijit roy

ছবির উৎস, AP

ছবির ক্যাপশান, অভিজিৎ রায় যেখানে আক্রান্ত হন

অভিজিৎ রায়কে হত্যার ঘটনার মাসখানেক পরই গত মার্চ মাসে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় মানুষ হাতেনাতে দুইজনকে ধরেছিল। যে দুই জন মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

এই দুটি হত্যাকান্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা করেছে, এবং অভিজিৎ হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই দু’জনের বক্তব্য বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তবে অভিজিৎ রায়ের পিতা অধ্যাপক অজয় রায় পুলিশের এসব তৎপরতাকে লোক দেখানো বলে মনে করছেন।

তিনি বলেছেন, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে, সেটা তারা এখন দেখতে চাইছেন। তদন্ত এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার এবং পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

অভিজিৎ রায়কে হত্যার সময় তার স্ত্রী বন্যা আহমেদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল।

সম্প্রতি বন্যা আহমেদ লন্ডনে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সরকার এবং পুলিশের তৎপরতার সমালোচনা করেছেন।

তবে গোয়েন্দা পুলিশ বলেছে, এই হত্যাকান্ডে ঘটনায় জনগণ এবং মিডিয়া অগ্রগতি জানতে চায়, সে কারণে তারা জড়িতদের চিহ্নিত করার বিষয় তুলে ধরেছে।

চিহ্নিতদের তথ্য পুলিশের কাছে আছে এবং গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।