টোকিও-র 'জীবন্ত বুদ্ধ' আসলে ৩০ বছর ধরে মৃত

ছবির উৎস, AFP
জাপানের রাজধানী টোকিও-র বাসিন্দা সোগেন কাটোকে নগরের সব চেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ধারণা করা হতো।
কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা যখন তাঁর ১১১তম জন্মদিনে অভিনন্দন জানাতে মি: কাটোর বাসায় গেলেন, তখন তাদের জন্য বড় মাপের ধাক্কা অপেক্ষা করছিল।
কর্মকর্তারা মি: কাটোকে তাঁর বিছানায় খুঁজে পেলেন – মৃত এবং মমি করা। কর্মকর্তারা বলেন, তিনি সম্ভবত ৩০ বছর ধরে মৃত।
টোকিও-র আদাচি এলাকায় মি: কাটোর বাসায় যখন তাঁর নাতনী বলেন তার দাদা কারো সাথে দেখা করতে চান না, তখন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ জাগে।
পুলিশ এখন পরিবারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।
স্থানীয় সেবা কর্মকর্তারা এই বছরের শুরুর দিকে মি: কাটোর সাথে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন।
আদাচি ওয়ার্ড কর্মকর্তা টোমাকো ইয়ামাটসু বলেন, যখনই তারা মি: কাটোর বাসায় গিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাদের রীতিমত ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
বুধবার কর্মকর্তারা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসে, যারা বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে।
তারা বিছানায় শোয়া অবস্থায় একটি মমি করা মৃতদেহ খুঁজে পায়, যাকে কর্মকর্তারা মি: কাটো বলেই ধারনা করছেন।
মি: কাটোর আত্মীয়রা স্থানীয় পত্রিকা জিজি প্রেস-কে বলেন তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে নিজের ঘরে তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন।
“তিনি একজন জীবন্ত বুদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন”, মি: কাটোর আত্মীয়রা বলেন।
তবে ছ’বছর আগে মি: কাটোর স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিপত্নীক পেনসন হিসেবে এক লাখেরও বেশি ডলারের সম পরিমাণ অর্থ তাঁর পরিবার মি: কাটোর ব্যাংক এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেয়েছে।
কি: কাটোর ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি কিছু অর্থ তুলেও নেওয়া হয়েছে।
পেনসন ফান্ডের কর্মকর্তারা অনেক বছর ধরে মি: কাটোর সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি।
“তাঁর পরিবার নিশ্চয় জানতো মি: কাটো বহু বছর ধরে মৃত, কিন্তু তারা এমন ভাব দেখিয়েছে যেন তেমন কিছুই ঘটেনি”, টোকিও নগর কর্মকর্তা ইয়াকুটা মুরোই বলেন।
“ব্যাপারটা বেশ ভূতুরে”, তিনি বলেন।








