রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিতর্ক হলো সংলাপে

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা: এম সিরাজুল আকবর এমপি, মাগুরারই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুল হাসান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, মহিলা পরিষদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি মমতাজ বেগম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা: এম সিরাজুল আকবর এমপি, মাগুরারই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুল হাসান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, মহিলা পরিষদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি মমতাজ বেগম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এসে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নতুন নির্বাচনই এর একমাত্র সমাধান।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, মানুষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, তাই ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবে না।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মাগুরার আসাদুজ্জামান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই পর্বের সংলাপে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কৃষিকাজে নারীর স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা: এম সিরাজুল আকবর এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মহিলা পরিষদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি মমতাজ বেগম ও মাগুরারই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন সেলিমা পারভীন শিলা। তিনি জানতে চান বাংলাদেশে আপাতভাবে স্থিতিশীল অবস্থা দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কি যথেষ্ট চেষ্টা করছে?

জবাবে সিরাজুল আকবর বলেন দেশে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। আর সে কারণেই ২০১৯ সালের আগে বাংলাদেশে কোন নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়। তারা চায় শান্তিতে খেয়ে পড়ে বেচে থাকতে। অস্থিরতার কোন কারণ নেই। ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বর্তমান সরকারই দেশ শাসন করবে।”

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “ রাজনৈতিক অস্থিরতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দ্রুত আলোচনাই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়।”

তিনি বলেন, “১৯ সালের কথা বলছে তারা। এমন অনেকেই চেয়েছেন সারাজীবন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস তার আপন গতিতেই চলে। যে কারণে সংকট অস্থিরতা, তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দেয়া।”

হাবিবুল হাসান বলেন, “রাজনীতিতে শুধু অস্থিরতা নয়, দুরবস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাবিজ কবজ দিয়ে এর সমাধান হবেনা। একটি নির্বাচন দিলেই সমাধান হবে এটি ভুল ধারণাও বটে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ”

মমতাজ বেগম বলেন, “নির্বাচন হলেই সমাধান হবে বলে মনে হয় না। ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিত ছিল। সবাই ছিল, মিডিয়া ছিল। তারা অংশ নিলে পরিস্থিতি বোঝা যেতো।”

হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন

হিমেল আহম্মেদ জানতে চান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে কি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন?

সিরাজুল আকবর বলেন, “অবক্ষয় সমাজকে আক্রান্ত করেছে। এটা শুধু চিকিৎসক নয়, সবার জন্যই প্রযোজ্য। সরকার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জবাবদিহিতা তৈরি করতে হলে পরিচালনা পর্ষদকে আরও কার্যকর করতে হবে।”

তিনি আরও বলে, “চিকিৎসকদের জবাব দিহিতা থাকতে হবে। তবে চিকিৎসকদের ঢালাওভাবে দোষ দিলেও হবেনা। তাদের থাকা সহ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। মাগুরা হাসপাতালে একশ শয্যায় প্রায় তিনশ রোগী থাকে। তাহলে ডাক্তাররা কি করবে।"

তিনি বলেন সব কিছু চিন্তা করতে হবে বাস্তবতার নিরিখে।

হাবিবুল হাসান বলেন, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসকদের চাকরী নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধার বিষয় আছে।”

একজন দর্শক বলেন, “ আমার বাড়ি খাজুড়া ইউনিয়নে। আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুজন ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু গত বিশ বছরে তাদের থাকতে দেখিনি”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “কঠোর আইন করা উচিত। ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে দেখা যেতে পারে। আবার কোন ডাক্তার ভালো কাজ করলে প্রমোশন দেয়া উচিত।”

মমতাজ বেগম, “এ বিষয়ে আইনগুলো শক্ত হওয়া উচিত। হাসপাতালে না থেকে বাইরে প্রাকটিসের প্রবণতা, তাহলে রোগীরা কি করবে।”

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “জনগণের উচিত আন্দোলন করা। ডাক্তাররা তো এ দেশেরই মানুষ। তারা কেন তাদের দায়িত্ব পালন করবেনা। এজন্য জনগণের হাতেই ক্ষমতা দিতে হবে।”

প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গ

রাইসুল ইসলাম বাবু জানতে চান শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্ন হল বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে কি-না ?

হাবিবুল হাসান বলেন, “প্রশ্ন ফাঁস বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধী চক্র অনেক বড়। তাদের ধরার উল্লেখযোগ্য চেষ্টাও নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বলে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।”

মমতাজ বেগম, “এটা অনেক বড় সমস্যা। শিক্ষা পদ্ধতিটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ছেলে মেয়েরা কি করে লেখাপড়া শিখবে।”

একজন দর্শক বলেন, “শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে।”

আরেকজন দর্শক বলেন, “সরকারি দলের লোক জড়িত বলেই তাদের আড়ালের জন্য শিক্ষামন্ত্রী এ ধরনের কথা বলেছেন।”

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে দুর্নীতি জড়িত। সবকিছুর জন্য সরকারই দায়ী। প্রশ্ন ফাঁসের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”

সিরাজুল আকবর বলেন, “সবাই সহজে পাশ করতে চায়। এজন্যই প্রশ্ন কিনে পাশ করতে চায় অনেকে সহজে। সরকার দায়িত্ব পালন করছে। তবে কোচিং সেন্টারগুলোর ভূমিকা দেখতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”

কৃষিকাজে নারীর স্বীকৃতি

কল্যাণী রানী জানতে চান বাংলাদেশের কৃষিকাজের সাথে জড়িত নারীরা কি যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন ?

মমতাজ বেগম বলেন, “পুরুষ কৃষকরা যে টাকা আয় করে একি কাজ করে মহিলা কৃষকরা তা পাননা। সব কিছুর জন্য তাদের কাজ করেও স্বামীর দ্বারস্থ হতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে তার ফসলের মূল্যও তার হাতে থাকছেনা।”

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “যে মহিলা কৃষিকাজ করেন তাহলে তাকে কেন স্বীকৃতি দেয়া হবেনা। ”

হাবিবুল হাসান বলেন, “আমাদের দেশে কি স্বাধীন নারী কৃষক আছেন? যারা করছেন তারা অনেকেই সহায়ক ভূমিকা রাখেন। এটা যতো বাড়বে তত স্বীকৃতির সুযোগ বাড়বে।”

একজন দর্শক বলেন, “পুরুষ কৃষকের তুলনায় নারী কৃষক কম পান। একটা ন্যূনতম মজুরি থাকলে এটা হতোনা।”

সিরাজুল আকবর বলেন, “অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে রাষ্ট্রীয় ভাবে। তাদের মর্যাদা বাড়াতে যথাযথ ভূমিকা সরকারের নেয়া উচিত।”

মন্তব্য করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, মন্তব্য করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?: