সরকারি চাকুরীর কোটা পর্যালোচনা হবে: মন্ত্রী

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন সরকারি চাকুরীতে কোটার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে, তবে এ নিয়ে কোন সহিংসতার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন তার দল ক্ষমতায় আসলে কোটা পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে উভয় নেতাই কোটা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশ গত কয়েকদিনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষায় কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সহিংসতাও হয়েছে ঢাকায়। সরকারি কর্ম কমিশন ইতোমধ্যেই সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষার ফল পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার।

প্রথম প্রশ্ন করেন মো: নাইমুল গনি সাইফ। তিনি জানতে চান বিসিএস সহ প্রায় সব ধরণের সরকারি চাকুরীতে কি কোটা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস বা সংস্কার করার সময় এসেছে ?

জবাবে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন কোটার বিষয়টি সার্বিকভাবে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকার সেটি করবে। তবে তিনি কোটা একেবারেই বাতিলের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, “সরকার বলেছে পুনর্বিবেচনা করবে। কিন্তু যেভাবে আন্দোলন করা হচ্ছে, গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে তার মানে পুরো কোটা বাতিলের একটা প্রবণতা। আমি মনে করি রিভিউ করার সুযোগ আছে। সেটা করলে আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবো”।

বিরোধী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রাখা যায় কিন্তু তা কমিয়ে আনা দরকার।

তিনি বলেন, “ কোটা রাখা সঙ্গত। তবে প্রতিবাদ যখন উঠেছে তখন এখনি কোটা কমানো দরকার। আমরা ক্ষমতায় আসলে তা পুনর্বিন্যাস করবো”।

ঢাকায় বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে সংলাপে প্যানেল আলোচক আরও ছিলেন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন একদিকে দেখতে হবে কোন বৈষম্য যেন সৃষ্টি না হয়, পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে যেন মেধার অবমূল্যায়ন না হয়।

তিনি বলেন, “কোটার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে মেধা যেন অবমূল্যায়ন না হয়। সেটা হলে সংবিধানে যে অধিকার রয়েছে তা লঙ্ঘিত হবে”

ফরিদা আখতার বলেন কোটা বিরোধী যে আন্দোলন চলছে তার অনেক যৌক্তিক দিক আছে। তাই বর্তমানে যেভাবে কোটা রাখা হয়েছে তার পুনর্বিন্যাস দরকার।

তিনি বলেন, “যাদের সামনে নিয়ে আসতে চাই তাদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। তবে পুনর্বিন্যাস দরকার”।

তবে দর্শকদের অধিকাংশই সরকারি চাকুরীতে কোটার চেয়ে মেধাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানান।

একজন দর্শক বলেন, “স্বাধীনতার ৪২ বছর পর কোটা রাখার যৌক্তিকতা নেই”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “ কোটা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পদের জন্য হতে পারে”।

প্রসঙ্গ টিআইবির রিপোর্ট

সৈয়দা সীমা করিম বলেন রাজনৈতিক দলগুলোকে সবচেয়ে বেশি দুর্ণীতিগ্রস্থ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল টিআইবি কি বিশেষ কোন উদ্দেশ্য নিয়ে মূল রিপোর্টটি বাংলাদেশে অন্যভাবে পরিবেশন করেছে ?

তবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “তথ্যের কোন বিভ্রাট নেই। একই তথ্য কিন্তু উপস্থাপনা ভিন্ন। বিরাজনীতির জন্য টিআইবির প্রতিবেদনের প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত, অসহিঞ্চুতা এবং বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই রক্তপাত হয় আর সেটিই বিরাজনীতিকরনের একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়ায়”।

তিনি বলেন, “টিআইবি মনে করে গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। রিপোর্টে রাজনৈতিক দল এবারই প্রথম আসেনি। ২০১০ সালেও রাজনৈতিক দল চতুর্থ স্থানে ছিল”।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ সরকারের দিক থেকে রিপোর্টটির প্রতিবাদ করা হয়েছে। কারণ আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের কথা সবার মনে আছে। তবে সুশাসন ও জবাবদিহিতার যে কথা টিআইবি বলেছে তার সঙ্গে আমি একমত”।

একজন দর্শক বলেন, “টিআইবিকে ধন্যবাদ এ সময়ে এ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। সরকার ঢালাওভাবে এড়িয়ে না গিয়ে উচিত ছিল শোধরানো”।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “নির্বাচন অনিশ্চিত। মানুষ চিন্তিত। এ অবস্থায় টিআইবির রিপোর্টে রাজনৈতিক দলের বিষয়টি আসায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে”।

তিনি বলেন দলগুলো দলের ধনী সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেয় দল চালানোর জন্য। সেটি দুর্নীতি কি-না সেটি দেখতে হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, “ডোনেশন নিয়ে রাজনীতি করতে দেয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। রাজনীতিকরা তো রাজনীতি করতে পারছেনা। তিনি বলেন অযথা সন্দেহ করবোনা কিন্তু সময়টা উদ্দেশ্য তৈরি করে। আসলে একটু বিরাজনীতিকরন হতে পারে”।

পোশাক শিল্পের সংকট

আফসানা আক্তার আখিঁ জানতে চান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রেতা কোম্পানিগুলো যেসব পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে, তা কি এই শিল্পকে উল্টো সংকটে ঠেলে দিতে পারে ?

ফরিদা আখতার বলেন, “পোশাক শিল্পের মালিকদের লাভ কম হলেও নিরাপত্তার কোন বিকল্প নেই”।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববাজারে আমাদের যতটুকু সুযোগ আছে সেটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে"।

তিনি বলেন, "ক্রেতাদের শর্ত মেনে নিয়ে শিল্পখাতে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “বিদেশী কোম্পানিগুলোর সহায়তার আমাদের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি সমৃদ্ধ হবে”।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়টা কে বলল সেটা বড় কথা নয়, নিজেদের স্বার্থেই সচেতন হতে হবে। এতদিন হয়নি এখন করতে হবে। এ সেক্টরকে ধরে রাখতে হবে”।

মন্ত্রী বলেন, “অনেক গার্মেন্টের পরিবেশ চমৎকার। আবার কতগুলোতে মানবেতর পরিবেশে কাজ করতে হয়। বিদেশে আমাদের গার্মেন্টের চাহিদা অনেক''।

তিনি বলেন, "বিদেশী ক্রেতাদের আতংক দুর করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। আইন উন্নত করা হয়েছে। পরিবেশ উন্নত করতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে”।

একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

কোটা রাখা হোক তবে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ

মোঃ মাহাবুল ইসলাম, রংপুর

Everybody is equal in our country, so there is no need this system.

Md. Mamun Hossain, Manikgonj

Quota system is creating problem due to corruption. So Quota not a problem...but problem with corruption in the name of quota. At the end, in Bangladesh context, all problems due to corruption. So let's come together for eradicating corruption. No need fight for quota or any specific issue.

Abu Jafar Ansary, Panchagarh

Qouta is not a major problem.The major problem is corruption. So, we should remove corruption from our country.

Saiful Islam, Sherpur