ভারত: পরীক্ষায় গোমাংস নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি বা কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় গোমাংস সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি বা কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় গোমাংস সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয় - প্রতীকী ছবি

ভারতের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি বা বি এইচ ইউ-এর একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গোমাংস নিয়ে দুটি প্রশ্ন থাকায় সেখানকার ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

তাদের দাবী - যে অধ্যাপক এই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জানিয়েছে ছাত্ররা।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে হোটেল ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাটারিং টেকনোলজির ছাত্রদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ছিল গোমাংস সংক্রান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে তারা ছাত্রছাত্রীদের তৈরি করে আন্তর্জাতিক মানের হোটেলে কাজ করার জন্য। তাই গোমাংসের বিষয়ে তাদের জানাটাই বাঞ্ছনীয়।

বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:

কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্ররা বলছে গোমাংস নিয়ে প্রশ্ন করায় তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লেগেছে
ছবির ক্যাপশান, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্ররা বলছে গোমাংস নিয়ে প্রশ্ন করায় তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লেগেছে

গোমাংস নিয়ে কী প্রশ্ন করা হয়েছিল?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে ১৫ নম্বরের একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল 'কত ধরণের গোমাংস হয়? সংজ্ঞা লেখ'। আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল 'স্টক' কী দিয়ে বানানো হয় - সেখানেও গোমাংসের ঝোল ব্যবহার করা হয় কী না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বলছে, এই প্রশ্ন দুটিতে তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে।

ইতিহাসে এম এ পড়ছেন, এমন একজন ছাত্র রাকেশ চতুর্বেদী বলছেন, "কিছু ছাত্র এই প্রশ্নপত্রটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে দিয়েছেন। উপাচার্যের দপ্তরে আমরা এধরণের প্রশ্নের বিরোধিতা করে একটা চিঠি দিয়েছি। দু'একদিন আমরা দেখব। তারপর আমরা চিন্তাভাবনা করব যে কীভাবে প্রতিবাদ আরও জোরালো করা যায়।"

বিবিসি বাংলায় দেখতে পারেন এই ভিডিওটি:

ভিডিওর ক্যাপশান, গুজরাটের রাস্তাঘাটে, সরকারি অফিসে গরুর পাল ছেলে দিল গোশালার কর্মীরা

কী বলছে বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্র বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটা বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে যে এবছর থেকেই চালু হওয়া হোটেল ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাটারিং টেকনোলজির ছাত্রছাত্রীদের খাবার তৈরি এবং রান্নার বিষয়ে শিখতেই হয়।

গোমাংস খাওয়া বা বিক্রি বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যেই নিষিদ্ধ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গোমাংস খাওয়া বা বিক্রি বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যেই নিষিদ্ধ

"আমরা ছাত্রছাত্রীদের সেই সব বিষয়েই শেখাচ্ছি, যা ভারতে বা ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশে খাদ্য হিসাবে বিবেচিত হয়, যাতে তারা চাকরীর খোঁজ করার সময়ে প্রস্তুত থাকে।"

এতে বলা হয় "যে প্রশ্ন দুটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটা সিলেবাসেরই অংশ। ভারতের প্রতিষ্ঠিত হোটেল ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে সিলেবাস পড়ানো হয়, বি এইচ ইউতেও সেটাই পড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে অনর্থক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।"

তবে একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধানও শুরু করেছে ওই প্রশ্নপত্রটির বিষয়ে।

ভারতে গোমাংস একটি বিতর্কিত বিষয়

কেউ গোমাংস খাচ্ছে কী না, বা খাওয়ার জন্য গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে কী না, তার ওপরে নজরদারী চলে অনেক রাজ্যে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কেউ গোমাংস খাচ্ছে কী না, বা খাওয়ার জন্য গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে কী না, তার ওপরে নজরদারী চলে অনেক রাজ্যে

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা বাড়িতে গোমাংস রাখা হয়েছে অথবা গোমাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে একাধিক মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এমন ঘটনা ঘটেছে।

হাট থেকে বৈধভাবে গরু কিনে নিয়ে যাওয়ার সময়েও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানে।

উত্তরভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরু পরিবহন রুখতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর নজরদার বাহিনী তৈরি করেছে।

বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্য সেখানে গোমাংস খাওয়া বা খাওয়ার জন্য গরু জবাই করার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

হিন্দুদের একটা বড় অংশ গরুকে মা বলে পুজো করে থাকেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হিন্দুদের একটা বড় অংশ গরুকে মা বলে পুজো করে থাকেন

হিন্দুত্ববাদীরা গরুকে তাদের মা বলে পুজো করে থাকেন, তাই সেই মাংস খাওয়া তাদের কাছে ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

তবে এই অনুশাসনটিকে আদৌ পুরাণ অনুমোদন দেয় কী না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

কিন্তু ভারতে গরু পরিবহন বা গোমাংস খাওয়া বা বিক্রিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেখানে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগার থেকেও বেশি রাজনীতি আছে বলেই মনে করা হয়।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গোমাংসের ইস্যুতে মুসলমান সম্প্রদায়কেই টার্গেট করে থাকে।

বিবিসি বাংলায় আরও খবর: