আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ: ক্রাইমিয়া সেতুতে হামলার জন্য রাশিয়া দায়ী করেছে ইউক্রেনকে
রাশিয়া বলছে শনিবার রাশিয়া ও ক্রাইমিয়ার মধ্যেকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুতে বিস্ফোরণ ঘটানোর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তারা আট ব্যক্তিকে আটক করেছে।
রাশিয়ার এফএসবি নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন রুশ এবং বাকিরা হয় ইউক্রেনীয় এবং আর্মেনিয়ান।
বিভাগটি জানাচ্ছে এই হামলার পেছনে রয়েছে কিয়েভ তবে ইউক্রেনের একজন কর্মকর্তা রাশিয়ার এই তদন্তকে "ভিত্তিহীন" বলে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় আভদিভকা শহরে এক হামলায় অন্তত সাতজন মারা যাবার পর খবর আসার সময় এই আট ব্যক্তিকে আটক করার খবর এল।
দোনিয়েৎস্কের আঞ্চলিক সেনা প্রধান পাভলো কিরিলেঙ্কো বলেছেন শহরের কেন্দ্রে একটি বাজারে ব্যস্ত সময়ে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছে আরও অন্তত আট জন।
তিনি আংশিকভাবে রুশ অধিকৃত এই অঞ্চলের সব বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন:
তিনি বলেছেন, এই হামলার পেছনে কোনো সামরিক যুক্তি থাকতে পারেনা।
শহরটির কাছেই একটি রনাঙ্গণে রুশ ও ইউক্রেনীয় সৈন্যরা লড়াই করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন অন্যত্র দনিপ্রো এলাকার নিকোপোল শহরের ওপর গোলাবর্ষণে ছয় বছরের কিশোরীসহ তিন জন গুরুতর আহত হয়েছে।
ইউক্রেনের আপদকালীন মন্ত্রণালয় খবর দিচ্ছে জাপোরিশার ভেতরে ও তার আশেপাশে বেশ কিছু এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েছে, এবং এর মধ্যে একটি শহরতলির একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করেছে। তারা বলছে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে একটি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে কিয়েভ থেকে বিবিসির হিউগো বাচেগা জানাচ্ছেন, খেরসন থেকে পাঁচটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রুশ দখলে আসা বড় শহরগুলোর একটি হল খেরসন।
অসমর্থিত একটি খবরে বলা হচ্ছে খেরসন শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মি. বাচেগা বলছেন বিস্ফোরণ কী থেকে হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
রাশিয়ার অভিযোগে কী বলা হচ্ছে?
ক্রাইমিয়ার সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনা ছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শক্তিমত্তার প্রতি বড় একটা আঘাতস্বরূপ।
রাশিয়া ক্রাইমিয়াকে তার ভূখণ্ডের অংশ করে নেবার চার বছর পর ২০১৮ সালে মি. পুতিন নিজে এই সেতুটি উদ্বোধন করেন।
প্রেসিডেন্ট পুতিন শনিবারের বিস্ফোরণের ঘটনাকে "সন্ত্রাসী কার্যকলাপ" বলে অভিহিত করে বলেন রাশিয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এফএসবির কর্মকর্তারা বলেছেন "ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং তার প্রধান কিরিলো বুদানফ, তার কর্মাচরী ও চরেরা" এই হামলা পরিচালনা করেছেন।
রুশ সংস্থাটি অভিযোগ করেছে রোল করা প্লাস্টিকের মোড়কের ভেতর বিস্ফোরক লুকানো ছিল এবং ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে ঘুর পথে তা সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়- প্রথমে সমুদ্রপথে বুলগেরিয়ায়, সেখান থেকে জর্জিয়ায় এবং তারপর লরিতে করে তা সড়কপথে আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে ওই সেতুতে নেয়া হয়।
তবে ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একজন মুখপাত্র আন্দ্রেই ইউসফ রাশিয়ার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
'আকাশ বর্ম' গড়ে তুলতে সাহায্যের আবেদন
এদিকে, নেদারল্যান্ডসের সরকার বলছে, তারা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সেদেশে দেড় কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাবে।
ব্রাসেলসে যখন নেটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলছে তখন নেদারল্যান্ডসের সরকার এই ঘোষণা দিল।
এই বৈঠকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কথা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আমেরিকা ও জার্মানি ইউক্রেনকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেবার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি আরও সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন ইউক্রেন যাতে একটা 'আকাশ বর্ম' গড়ে তুলতে পারে তার জন্য পশ্চিমের দেশগুলোর যেন ইউক্রেনকে আরও সহযোগিতা করে।