এডিটার'স মেইলবক্স: মিয়ানমার সীমান্ত আর নারী ফুটবল দল নিয়ে আলোচনা

ছবির উৎস, SOPA Images
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে কয়েকটি মর্টারের গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ার পর থেকে সীমান্ত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এমনও আশঙ্কা করছেন যে, দুদেশের মধ্যে যুদ্ধই লেগে যায় কি না।
এই উদ্বেগের মাঝেও আনন্দের এক ঢেউ বয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষের মনে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয় করেছে। তবে সে বিষয়ে আসছি একটু পরে।
আজ শুরু করছি মিয়ানমার নিয়ে, প্রথম চিঠি লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:
''সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে তমব্রু এলাকায় মর্টার শেল বিস্ফোরণে আহত, নিহত, প্রতিবাদ, কড়া প্রতিবাদ, স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসা। এগুলো আসলে হচ্ছেটা কী?
''সীমান্তের মানুষগুলো যেখানে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে, সেখানে কর্তা ব্যক্তিরা শুধুই বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
''একটি দেশের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকার ক্ষমতায় থাকলে, বহির্বিশ্ব কিভাবে মূল্যায়ন করে এটি কি তারই বহিঃপ্রকাশ? নাকি মিয়ানমার বাংলাদেশ যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা আছে?''

ছবির উৎস, Getty Images
মিয়ানমার থেকে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার পর থেকেই দু'দেশের মধ্যে সংঘাতের একটি আশঙ্কা সব সময় ছিল মি. আলী। তবে যুদ্ধ এড়িয়ে সমস্যার সমাধান করাই কূটনীতির কাজ এবং বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সে রাস্তা দিয়েই হাঁটছে।
যুদ্ধ কারো জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না, এবং আমার মতে দুদেশের সরকারই চেষ্টা করছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে।
তবে আপনার মত কী? বাংলাদেশ যা করছে তা যদি আপনি নতজানু পররাষ্ট্র নীতি মনে করেন, তাহলে আপনার মতে বাংলাদেশের কী করা উচিত?
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
পররাষ্ট্রনীতি কি নতজানু?
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে পাপড়ি বসাক পোদ্দার, যিনি প্রথমবারের মত বিবিসিতে চিঠি পাঠিয়েছেন:
''বেশ কয়েকদিন থেকেই বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এটা বিরাট এক হুমকি। অথচ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের তেমন কোনো সুচারু প্রতিবাদ চোখে পড়ে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
''তাছাড়া প্রায়ই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা প্রত্যক্ষ করি। এসব কী বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির বহিঃপ্রকাশ?''
আগের চিঠির জবাবে যা বলছিলাম, মিস পোদ্দার, আমার ধারণা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধ এড়িয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমস্যার সমাধান করতে চাইছে। যারা এটাকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মনে করেন, তারা কি চাইছেন বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুক? আপনিও কি তাই চাইছেন? হয়তো আপনি তা চাইছেন না।
তবে এটাও ঠিক যে, পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের মানুষ ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে এবং তারা দ্রুত ফলাফল দেখতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর কোন চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না, বাংলাদেশও জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারবে না। এই ব্যর্থতাকেই অনেকে এখন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফল হিসেবে দেখছে।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক আইন
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''আমার জানা মতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য সকলের সাথে বন্ধুত্ব। প্রতিবেশী দেশের সাথে আলোচনা করে সকল সমস্যার সমাধান করাই বাংলাদেশের নীতি।
কিন্তু মিয়ানমার কেন আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না?
''বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে কি মিয়ানমারের কাছে থেকে প্রতিদান প্রত্যাশা করতে পারে? বিবিসি বাংলা মিয়ানমারের আচরণকে কীভাবে দেখবে?''
মিয়ানমারে যখন গণতান্ত্রিক সরকার ছিল, তখন অনেকে আশা করেছিলেন যে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে তাদের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং সেই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেই ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে দেশ ছাড়া হতে হল।
আর এখন সামরিক জান্তার আমলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে গেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোন আপোষ করবে বলে মনে হয় না।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
বাংলাদেশের জন্য হুমকি?
অন্য বিষয়ে যাবার আগে মিয়ানমার নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন, লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''খবরে দেখলাম মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সেদেশের সামরিক জান্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের আস্তানা আছে বলে অভিযোগ করছে।
''বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ আগে থেকেই অস্বীকার করে আসছে।
''আমার প্রশ্ন, মিয়ানমারের এ অশান্ত পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য কতটা হুমকি ও কূটনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে?''
হুমকি তখনই হবে মি. হক, যখন মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আছড়ে পড়তে থাকবে। আমি দু'একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট মর্টার শেলের কথা বলছি না।
যদি মিয়ানমার কখনো মনে করে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মীর আস্তানা বাংলাদেশে আছে, এবং সেখানে তারা অভিযান চালাবে, তখন সেটা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
মিয়ানমার বিষয়ে আবারো ফিরবো, কিন্তু তার আগে অন্য প্রসঙ্গ।
নারী ফুটবলের উত্থান

ছবির উৎস, SOPA Images
সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা সাফ নারীদের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। সে বিষয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের যেকোনো খেলায় যেকোনো ফরম্যাটে সর্বোচ্চ জয়। বাংলাদেশ ভাসছে আনন্দের জোয়ারে।
''এই জয় নিয়ে আমরা যত বেশি উচ্ছ্বসিত, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত যে ক্রিকেট বা ফুটবলে বিজয়ী হবার পরে পুরুষ খেলোয়াড়েরা যেভাবে সংবর্ধিত হন, সম্মানিত হন, অর্থ পুরস্কারে পুরস্কৃত হন, মেয়েরা কি সেই সবকিছু পাবেন?''
এটাই কি যে কোনো খেলায় সর্বোচ্চ জয়? বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল ২০০৩ সালে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-এ শিরোপা জয় করেছিল। তখন টুর্নামেন্টের নাম ছিল সাফ গোল্ড কাপ, পরে যার নাম দেয়া হয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
এরও আগে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল আইসিসি ট্রফি জয় করে, যেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নারী দলের সাফল্যের পর হয়তো বাংলাদেশে খেলা-ধুলার প্রতি নারীদের আরো আগ্রহী করে তুলতে পারে।

ছবির উৎস, SOPA Images
বিশ্ব ফুটবলের স্বপ্ন
একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বাংলাদেশ ফুটবল যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে তখন নারী দল আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা প্রমাণ করেছে আমরাও পারি।
''বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন। নারী ফুটবলারদের দিকে নজর দিলে ফুটবলের দুনিয়ায় আমরা একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবো বলেই আমার মনে হয়।''
স্বপ্ন দেখা ভাল মি. সরদার, কারণ স্বপ্ন না দেখলে কোন কিছুই অর্জন করা যায় না। তবে এটাও ঠিক যে, স্বপ্নটা বাস্তবতার পটভূমিতেই দেখতে হয়। না হলে পরে আরো বেশি হতাশ হতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের সার্বিক মান খুব ভাল না। ফিফার নারী ফুটবলের বিশ্ব র্যাংকিং-এ বাংলাদেশ ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৪৭ নম্বর স্থানে আছে। তবে স্বপ্ন দেখতে দোষ নেই।

ছবির উৎস, SOPA Images
সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নের গল্প
খেলা-ধুলায় নারীদের সাফল্য নিয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের বেনুরঘাট দিঘীরপাড় থেকে সেলিম রাজ:
বিবিসি সবসময় নারীদের অগ্রযাত্রাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সাফল্যকে বেশি করে তুলে ধরে, এটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।
''অনেক খেলাধুলার বিশ্লেষণে একমাত্র বিবিসি বাংলাতেই আমরা নারী ক্রিকেট বিশ্লেষক সাথিরা জাকির জেসির মত নারী খেলোয়াড়ের বিশ্লেষণ শুনতে পাই।
আপনাদের কাছে অনুরোধ - বিবিসি বাংলা'র এ সপ্তাহের সাক্ষাতকারেবাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের কাছে আমরা সম্প্রতি সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নের গল্প শুনতে চাই।
আমরা চেষ্টা করি আমাদের পরিবেশনায় নারী-পুরুষের সমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মি. রাজ। কিন্তু খেলা-ধুলার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ফুটবলে সেটা সম্ভব হয় না। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের সাক্ষাৎকার আমরা অবশ্যই নিতে চাই, তবে এই মুহূর্তে তারা অনেক ব্যস্ত থাকায় তা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। দলের ব্যবস্থাপকরা আমাদের সেই বার্তাই দিয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী চরমপন্থী?
এবার আমাদের পরিবেশনা নিয়ে দু'একটি চিঠি নেয়া যাক। প্রথমে আমাদের শব্দ বাছাই নিয়ে আপত্তি তুলে লিখেছেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে মুহাম্মদ রাকীবুল ইসলাম:
''গত ১৪ তারিখ বুধবার রাত্রে বিবিসিতে ফিলিস্তিনি দুজনকে চরমপন্থি বলা হলো। আর ইসরাইলের সেনাদেরকে সেনা অফিসার বলা হলো।
অথচ ইসরাইলের এই চরমপন্থিরাই ফিলিস্তিনি নিরীহ জনগণের উপরে বিভিন্ন প্রকার অত্যাচার করে, যা আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এক্ষেত্রে ভাষাগত কোন তারতম্য হয়েছে কিনা, একটু আপনারা খতিয়ে দেখবেন?''
আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন মি. ইসলাম, আমরা কোন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে কোন পন্থী বলে আখ্যায়িত করি না। কারণ, তারা সেই রাষ্ট্রের স্বীকৃত বাহিনী।
কিন্তু কোন আদর্শ-ভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্ণনা করার সময় তারা কোন পন্থী সেটার আভাস দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। সেজন্য ডান, বাম ইত্যাদি লেবেল দেয়া হয়।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীদের চরমপন্থি বলা ঠিক কি না, সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যেও আলোচনা হয় এবং আমরা সাধারণত চরমপন্থি, জঙ্গি ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করি না, তবে মাঝে মধ্যে সেটা অনুসরণ করা হয় না, যেটা আমাদের ভুল।
অগাস্টের খবর সেপ্টেম্বরে শিরোনাম
পরের চিঠিটি আমাদের ওয়েবসাইটে একটি বিভ্রান্তিমূলক শিরোনাম নিয়ে, লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বুধবার সকালে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেই এক মাস আগের প্রতিবেদন প্রধান খবর হিসেবে চোখে পড়লো। "ভারত-পাকিস্তান কেন ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়েছিল" এই শিরোনামের সংবাদটি ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়েছিলো। কিন্তু বুধবার সকালে তা দেখে অবাক হয়েছি।
''পুরনো একটি প্রতিবেদন কিভাবে ওয়েবসাইটের শিরোনাম হয়ে গেল বুঝে আসছে না। বিবিসি বাংলা কি ইচ্ছে করেই উক্ত প্রতিবেদনটি শিরোনামে দিয়েছিলো? নাকি শ্রোতাদের পড়ার রেটিং-এর কারণে অটোমেটিক ওয়েবসাইটের শিরোনামে চলে এসেছে তা বুঝিয়ে বলবেন কি?''

ছবির উৎস, ICB
এখানে অটোমেটিক কিছু ছিল না মি. শামীম উদ্দিন, বা যান্ত্রিক কোন গোলযোগও ছিল না। এটা ছিল প্রতিবেদন পাবলিশ করার ক্ষেত্রে স্রেফ একটা ভুল, যেটা দু'তিন মিনিটের মধ্যেই শুধরে দেয়া হয়েছিল।
আমাদের ওয়েবসাইট-এ পাবলিশ করার সময়, প্রতিটি প্রতিবেদন টেনে জায়গা মত বসাতে হয়। এক মাসের আগের স্টোরিটি মূল প্রতিবেদনের ভেতরে শুধু লিঙ্ক হিসেবে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার সহকর্মী যখন পাবলিশ করেন, তখন প্রধান খবরের জায়গায় মূল প্রতিবেদন না টেনে, ভুলক্রমে পুরনো এই প্রতিবেদন টেনে দিয়েছিলেন।
এই ভুল মুহূর্তের মধ্যেই ধরা পড়ে এবং সাথে সাথেই তা শুধরে দেয়া হয়। তবে বুঝতেই পারছি, ভুল দ্রুত গতিতে সংশোধন করা হলেও, আপনার তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেনি।
গণতন্ত্র নিয়ে চর্চা
আমাদের ফোন-ইনের প্রশ্ন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:
''গত সপ্তাহে ফোন-ইন এর বিষয় ছিল, গণতন্ত্র বলতে কি বুঝেন? অর্থাৎ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। এভাবে অপরিপক্বতা আপনাদের থেকে কাম্য নয়। উচিত ছিল আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা। সংজ্ঞা জেনে কি অর্জন হবে?''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. তালুকদার, শুধু সংজ্ঞা জেনে কী হবে? কিন্তু আমাদের ফোন-ইন তো গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিয়ে ছিল না।
আমাদের প্রশ্ন ছিল, আপনি গণতন্ত্র বলতে কী বোঝেন। গণতন্ত্রের অর্থ আপনার কাছে কী?
এখানে আভিধানিক কোন ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি। শ্রোতাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
মিয়ামার সাতগুণ শক্তিশালী
মিয়ানমার আর রোহিঙ্গা বিষয়ে আবার ফিরছি। এবারে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আবদুল হাকিম মিঞা:
''বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত না নেয়ার জন্য মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে উস্কানি দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
''বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সাতগুণ বেশি শক্তিশালী বলেই কি বাংলাদেশের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী বার বার মর্টার শেল নিক্ষেপ করে উস্কানি দিচ্ছে?
''না কি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে ফেরত না নেয়ার অশুভ চক্রান্তে জড়ানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে?''
এখানে দুটো বিষয় বিবেচনা করতে হবে মি. মিঞা।
প্রথমত, যে মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে, সেটা কি বাংলাদেশকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হয়েছিল? নাকি. মিয়ানমারের ভেতরে গোলা-গুলির সময় তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাংলাদেশে পড়েছে? সীমান্তের খুব কাছে লড়াই হলে এরকম অঘটন অস্বাভাবিক কিছু না।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের ভেতরে চার-পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে মিয়ানমার জান্তার লড়াই চলছে, যার একটি হচ্ছে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি নামক গোষ্ঠীর সাথে। অর্থাৎ, সব কিছুই বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে হচ্ছে, সেটা ভাবাও হয়তো সঠিক হবে না।

ছবির উৎস, Reuters
মিয়ানমার কি ব্যর্থ রাষ্ট্র?
তবে শুধু মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড না, রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:
''মিয়ানমার একটি দেশের নাম, যে দেশে সামরিক অভ্যুত্থানে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত গণতান্ত্রিক নেত্রীকে কারাবন্দী থাকতে হয়। তাদের অত্যাচারে ১০ লক্ষ মানুষ আজ বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। যাদের সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলায় অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছে।
''তবে কি গোটা বিশ্ব তথা এশিয়ার মধ্যে মিয়ানমার একটি ঘৃণ্য, সন্ত্রাসী ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে?''
সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই মি. পোদ্দার।
তবে তাদের অধীনে মিয়ানমার ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মুখমণ্ডল
এবারে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্ন, লিখেছেন দিনাজপুরের গোলাপবাগ থেকে নূর নবী:
''ব্রিটেনের সদ্য পরলোকগত রানি এলিজাবেথের শবদেহ সমাহিত করার আগ পর্যন্ত এতদিন কীভাবে কফিনে সতেজ রাখা হয়েছিল? আর দর্শনার্থীরা কি তাঁর প্রকৃত মুখমণ্ডল দেখতে পেরেছিল? এভাবে রাজ সমারোহে ইতিপূর্বে আর কোন শবদেহ সমাহিত হয়েছে?''
রানির কফিন সব সময় বন্ধ করে রাজকীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা ছিল মি. নবী। যার ফলে লাশ সতেজ ছিল কি না, তা বোঝা যায় নি। কফিন ছিল ওক গাছের কাঠের তৈরি, কিন্তু তার ভেতরে পুরো কফিন শিশা দিয়ে মোড়া ছিল।
এই শিশার কারণে কফিনে কোন আর্দ্রতা সৃষ্টি হয়নি, যার ফলে লাশের কোন দুর্গন্ধ বাইরে আসতে পারেনি। যারা শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন তারা শুধু মাত্র পতাকা ঢাকা একটি কফিন দেখেছেন, আর কিছু না।

শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেই কেন?
রানির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনে এসেছিলেন। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''তিনি লন্ডনে গেলে একবার না একবার বিবিসি বাংলা'কে সাক্ষাতকার দিয়ে থাকেন। এবারও আমি বিবিসি'র একজন শ্রোতা ও পাঠক হিসেবে অপেক্ষায় ছিলাম যে, বিবিসি বাংলা'তে নির্বাচনকে সামনে রেখে ওনার একটি প্রাণবন্ত সাক্ষাতকার শুনবো।
''কিন্তু তাতে এবার নিরাশ হয়েছি মনে হচ্ছে। নাকি তাঁর কোন সাক্ষাতকার নিয়ে রাখা হয়েছে যা পরে প্রচার করা হবে? বিবিসি বাংলা'য় আলাদাভাবে এবার তার সাক্ষাতকার প্রচার না করা বিবিসি বাংলা'র ব্যর্থতা নাকি ওনার অপারগতা?''
দু'টোর কোনটাই না মি. ইসলাম। এবার আমরা শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের জন্য সেভাবে চেষ্টা করি নাই, কাজেই তাঁর অপরাগতারও কোন প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু প্রতিবার যে তিনি বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন, এই তথ্য আপনি কোথা থেকে পেলেন, তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।
করোনা মহামারির আগে ২০১৪ সালে আমি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম আর ২০১৯ সালে মানসী বড়ুয়া তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। এর মাঝে শেখ হাসিনা লন্ডনে এসেছিলেন কিন্তু কোন সাক্ষাৎকার নেয়া হয় নি।
ফেসবুকে কটুক্তি
আমাদের ফেসবুক পাতায় কমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন লালমনিরহাটের সিন্দুরমতি থেকে সৌরভ কুমার দেবসিংহ:
''বিবিসি কি তাদের পোস্টের নিচে কমেন্ট চেক করে না? যদি করে, তাহলে আমার প্রশ্ন অনেকে অনেককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে, বিবিসিকে আক্রমণ করে মন্তব্য করে। কেন তাদের ব্লক করা হয়না?
'মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই না যে, যা-তা বলা যেতে পারে। বিবিসির মত গণমাধ্যমও কি ফলোয়ার কমার ভয়ে ব্লক করে না? নাকি অন্য কোন কারণ আছে?''
এক সময়ে আমরা ব্লক করতাম মি. দেবসিংহ, কিন্তু আমাদের বর্তমান নীতি অনুযায়ী আমরা আর কাওকে ব্লক করি না। বিবিসির সমালোচনা করা কোন অপরাধ নয়।
কিন্তু কোন মন্তব্য যদি জাতিগত বা ধর্মগত বিদ্বেষপূর্ণ হয়, হিংসাত্মক বা সহিংসতা উস্কে দিতে পারে এমন হয়, তাহলে আমরা সেটা ডিলিট করি এবং সবাইকে অনুরোধ করি যাতে এ'ধরনের মন্তব্য না করা হয়।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।
ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিফাত রাব্বানী।
লালমনিরহাটের গুড়িয়াদহ থেকে আহসান হাবিব রাজু।
ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী।








