এডিটার'স মেইলবক্স: রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু আর বিবিসি বাংলার পরিবেশনা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, PA
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৬ বছর বয়সে মারা যান। তিনি দীর্ঘ সত্তর বছর ব্রিটেনের সিংহাসনে আসীন ছিলেন। ব্রিটেনের রাজা-রানিদের প্রায় ১,২০০ বছরের ইতিহাসে কেউ এত দীর্ঘ সময় সিংহাসনে অধিষ্ঠ ছিলেন না।
রানি এলিজাবেথকে নিয়ে বেশ কিছু চিঠি এসেছে, যা দিয়ে আজ শুরু করছি। প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''চলে গেলেন ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। রাণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিবিসি বাংলা ব্রিটেনের রাজ পরিবারের নানা খবরাখবর যেমন দিচ্ছে তেমনি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর দুর্লভ সব ছবি ভিডিও দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
''বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি রানীর মৃত্যুর পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এবং রাজ পরিবারের নানা ইতিহাস পরিবেশনের জন্য।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি. সরদার, অনুষ্ঠান শোনার জন্য। প্রয়াত রানির ওপর আমরা মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ২৫টি প্রতিবেদন রেডিও, টেলিভিশন এবং ওয়েবসাইটে প্রচার করেছি এবং আরো কয়েকটি প্রচার করার আশা রাখছি।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
তবে আমাদের পরিবেশনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''কয়েকটি পত্রিকার খবরে দেখলাম রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ও চার্লসের রাজা হওয়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের একাধিক শহরে রাজতন্ত্র বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এসবের দায়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটেনের পুলিশ।
''বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছে দেশটির একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। আমরা জানি ব্রিটেনকে বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার এবং সেখানে সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।
''আমার প্রশ্ন তাহলে পুলিশ তাদের আটক করার কারণ কি? বিবিসিই বা তাদের খবরটি পরিবেশনা থেকে বিরত থাকার রহস্য কি?''

ছবির উৎস, MARCO BERTORELLO
আপনার কথাটা পুরোপুরি সঠিক না মি. হক। যাদের গ্রেফতারের কথা বলছেন তাদের খবর আমারা প্রথম দিন পরিবেশন করি নাই, সেটা ঠিক। কিন্তু খবরটি পরিবেশন থেকে একেবারে বিরত ছিলাম, সেকথা ঠিক না।
মঙ্গলবার আমাদের ওয়েবসাইটে প্রধান খবরই ছিল কয়েকজন লোক গ্রেফতার হবার ঘটনা এবং তা নিয়ে সমালোচনার যে ঝড় বইছে, তার খবর।
স্কটল্যান্ড একজন যুবক রানির মেজ ছেলে প্রিন্স এ্যান্ড্রুকে লক্ষ্য করে কিছু গালিগালাজ করেছিলেন, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আবার অক্সফোর্ড আর লন্ডনে দু'জন লোক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মতামত লিখে কাগজ হাতে উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে।
পুলিশের এই পদক্ষেপ অনেকের মনেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এসব কাজ সাধারণত স্বৈরাচারী দেশের পুলিশদেরই করতে দেখা যায়।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Peter Cziborra/Reuters
আমাদের সম্প্রচার নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ-এর ইন্তেকালের খবর আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যম বিবিসি বাংলা ব্যাপক ভাবে প্রচার করছে।
''বিশ্বের অন্য দেশের রাষ্ট্র প্রধান মারা গেলে বিবিসি বাংলা যে ভাবে প্রচার করে, তার থেকে অনেক ব্যাপকভাবে বিবিসি বাংলা প্রচার করেছে রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর খবর।
''কারণ কী? বিবিসি বাংলা ইংল্যান্ড থেকে প্রচার হয়, সে কারণে কি?''
হ্যাঁ মি. বিল্লাল, আপনার ধারনাটাই সঠিক। বিবিসি মানেই ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। বিবিসি একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান যার অর্থায়ন করে ব্রিটিশ জনগণ। ব্রিটেনের রানি মারা গেলে সে খবর বিবিসির জন্য আর দশটা দেশের রাষ্ট্র প্রধানের মৃত্যুর খবর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে, সেটাই স্বাভাবিক।
তবে এ'কথাও ঠিক যে, শুধু বিবিসি নয়, সারা বিশ্বের জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ছিল বিশাল একটি ঘটনা। আগামী সোমবার তার যে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে সারা বিশ্ব থেকে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানরা এসে যোগ দেবেন।
রানি প্রসঙ্গে ফিরছি একটু পরেই, তার আগে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে দু'একটি চিঠি নেয়া যাক।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
বিবিসি বাংলায় চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর সাক্ষাৎকার এবং তার কাজ নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন দিনাজপুরের গোপালবাগ থেকে নূর নবী:
''বিবিসি বাংলায় ১৩ই সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটি ভালো লেগেছে। উপস্থাপিকার পরিমিত প্রশ্নবাণে ফারুকীর ব্যক্তি চিত্র সুন্দর প্রকাশিত।
''তবে সমাজের চিত্র যেমন তাঁর চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে তেমন ভাবে দেশের অসংগতি, যেমন শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদির অবক্ষয়ের চিত্র তাঁর চলচ্চিত্রে তেমন ভাবে আসেনি। যা সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকসহ আরও অনেকের চলচ্চিত্রে দেখা যায়।
''আমরা আশাবাদী সামনে তাও পাবো। ধন্যবাদ আপনাদের সব কলা কুশলীদের এ রকম সুন্দর একটি সাক্ষাৎকার প্রচারের জন্য।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি. নবী, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য এবং চিঠি লেখার জন্য। হয়তো মোস্তফা ফারুকী সমাজের অসঙ্গতি আর অবক্ষয় নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সারির পরিচালকদের কাতারে চলে আসবেন।

ছবির উৎস, Sabir Mustafa
অনুষ্ঠান নিয়ে পরের চিঠি লিখেছেন বেনুরঘাট, দিঘীরপাড় থেকে সেলিম রাজ:
'' প্রায়ই লক্ষ্য করি , বিবিসি বাংলা'র মিজানুর রহমান খান যেদিন সংবাদ পাঠ করেন, সেদিন তিনি খবরের শেষে বলে থাকেন, "ধন্যবাদ ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য"!
''কিন্তু, সঙ্গে না হয় থাকলাম, কিন্তু আমরা ব্যস্ত কি-না, সেটা তিনি জানলেন কিভাবে? তাই আমি মনে করি এটা তিনি সঠিক বলেন না।
''আর হ্যাঁ, বিবিসি'র ফেসবুক পেজের কভার ফটোটিতে সম্প্রতি চলমান এশিয়া কাপের অধিনায়কদের ছবি জুড়ে দিয়েছেন আপনারা। এটা কেন করেছেন - এর কি একটু ব্যাখ্যা দেয়া যাবে? তাহলে আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলেও বিবিসিতে আমরা কি এরকম কোন চমক দেখতে পাবো? ''
সব উপস্থাপকই নিজস্ব স্টাইলে সম্ভাষণ বা বিদায় বাণী দিয়ে থাকেন সেলিম রাজ এবং মিজানুর খানও তাই করেন। এটা নতুন বা ব্যতিক্রমী কিছু না। শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্যই ব্যস্ততার কথা বলা হয়। যারা অনুষ্ঠান শুনছেন, তাদের অন্যান্য কাজ থাকতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠান শুনছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
আর এশিয়া কাপ ক্রিকেটে যেহেতু বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অংশগ্রহণ করছিল, তাই ব্যানারটি সব টিম ক্যাপ্টেনদের ছবিসহ করা হয়েছিল। বিশ্বকাপ ফুটবলে সেটা করা হবে কি না তা আমি জানি না, যেহেতু বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশ সেই টুর্নামেন্টে খেলবে না। দেখা যাক।

ছবির উৎস, PA Media
আবার ফিরছি রানি প্রসঙ্গে। আমাদের অনুষ্ঠানে অন্যান্য খবর বাদ দেয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বিগত কয়েকদিন রানীর সংবাদ ছাড়া বিবিসিতে আর কোন সংবাদই স্থান পেলো না। বিবিসি'র ফেসবুক পেজ কিংবা ওয়েব সাইটের সকল খবরও ছিলো সেই রানীকে ঘিরেই।
''একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে শ্রোতা-দর্শক কিংবা পাঠক এমনটা কখনোই আশা করেনি। হতে পারেন তিনি একজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তাই বলে কি সেই সময়ে বিশ্বে কিংবা বাংলাদেশে আর কোন ঘটনা ঘটেনি?
''বিবিসি ব্রিটিশ গণমাধ্যম তাই তাদের এমন খবর ভালো লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যান্য বাংলা ভাষা-ভাষী দর্শক এই খবর কেন এতটা গুরুত্ব দিবে বা শুনবে? বিবিসি বাংলা'র কাছে আদৌ সে ধরনের কোন জবাব আছে কি?''
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
আমাদের শ্রোতা-পাঠকরা যে ব্রিটিশ রাজ পরিবার, বিশেষ করে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নিয়ে শুনতে বা পড়তে আগ্রহী, সেটা আমরা পরিসংখ্যান দেখেই বুঝতে পারি মি. তারেক। তবে আমরা বিগত কয়েক দিন ধরে অন্যান্য খবর বাদ দিয়েছি, সে কথা কিন্তু সঠিক নয়।
রানির মৃত্যুর দু'দিন পরেই, অর্থাৎ শনিবার থেকেই আমরা রেডিওতে নিয়মিত ফিচার ফিরিয়ে এনেছি। সংবাদে বিশ্বের অন্যান্য খবর, যেমন ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রাধান্য পাচ্ছে।
শুধু শুক্রবার আমরা অন্যান্য সব খবর বাদ দিয়েছিলাম কারণ রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর খবর শুধু ব্রিটেন নয়, সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের জন্য বিশাল ঘটনা ছিল।

ছবির উৎস, Family Picture of Abul Hasan Chowduary
দ্বিতীয় এলিজাবেথ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করে লিখেছেন ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গি থেকে রিপন চন্দ্র সিংহ:
''গত ১১ই সেপ্টেম্বরে রানির বাংলাদেশ সফর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার হয়েছিল। সেখান থেকে জানতে পেয়েছি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামে তিনি এসেছিলেন। এতো জায়গা থাকা সত্ত্বেও রানি একটি অজপাড়াগাঁকে কেন বেছে নিয়েছিলেন?
বাংলাদেশের জন্যে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর ভূমিকা কতটুকু? আর তার নামের মাঝে দ্বিতীয় শব্দটি কেন রয়েছে তা আমার মতো অজ্ঞ ব্যক্তিকে আশা করি জানাবেন।''
শেষ প্রশ্নের উত্তর প্রথমে দেই মি. সিংহ। প্রয়াত রানির নামে দ্বিতীয় শব্দটি থাকার একটি ইতিহাস-ভিত্তিক কারণ আছে। ব্রিটেন বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে নতুন রাজা বা রানি যে নাম গ্রহণ করেন, সেই নাম যদি অতীতে কোন রাজা-রানি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে নতুন রাজা বা রানির নামে ক্রমানুসারে সংখ্যা যোগ হয়।
যেমন, ১৫৫৮ থেকে ১৬০৩ সাল পর্যন্ত ব্রিটেন শাসন করেছেন রানি এলিজাবেথ। তাই ১৯৫২ সালে যখন প্রিন্সেস এলিজাবেথ রানি হলেন, তখন তিনি নতুন কোন নাম গ্রহণ না করে এলিজাবেথই থাকলেন, যে কারণে দ্বিতীয় শব্দটি যোগ করতে হল।
একইভাবে তার বড় ছেলে চার্লস রাজা হয়ে নাম পরিবর্তন করেননি। কিন্তু তার আগে যেহেতু দু'জন রাজার নাম চার্লস ছিল, তাই তিনি হলেন রাজা তৃতীয় চার্লস।
আর আমি যতদূর জানি, বৈরাগীরচালা ছিল একটি আদর্শ গ্রাম, স্বনির্ভর গ্রাম। সেজন্যই রানি এলিজাবেথের সফরের জন্য সেই গ্রাম বেছে নেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে রানির আগ্রহ ছিল, সেই গ্রামের নারীদের কর্মকাণ্ড দেখার।
তবে বাংলাদেশের জন্য রানির ভূমিকার কথা কী জানতে চাইছেন, তা আমি বুঝতে পারিনি। আপনি যদি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলেন, তাহলে বলবো বিদেশে কোন ঘটনায় ভূমিকা রাখার ক্ষমতা ব্রিটেনের রানির নেই। তবে তিনি নৈতিকভাবে তার দেশের সরকারকে আহ্বান জানাতে পারেন।
ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের প্রতি নমনীয় ছিল এবং রানি সেটা সমর্থন দিয়েছেন।
এবারে রানিকে নিয়ে ছোট আরেকটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে সুমন:
''ব্রিটেনের রাজা রানী নির্বাচিত হন কিভাবে এবং তাদের ক্ষমতা কতটুকু?''
ব্রিটেনের রানি নির্বাচিত হন না মি. সুমন। অন্যান্য দেশের রাজা-রানির মত তারা উত্তরাধিকারসূত্রে সিংহাসনে অধিষ্ঠ হন। সাংবিধানিকভাবে ব্রিটেনে রাজা-রানির কোন নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
সরকার যদিও তাদের নামেই পরিচালিত হয়, তারা প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন না, বা সরকার পরিচালনায় কোন হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। যদি কোন রাজা বা রানি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে তাহলে দেশে একটা সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে শেষ হওয়া এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফর্মেন্স নিয়ে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:
''সম্প্রতি শেষ হলো ক্রিকেট এশিয়া কাপের ১৫ তম আসর। বাজে ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং এর কারণে দ্বিতীয় রাউন্ড তো দূরের কথা, প্রথম রাউন্ডের দুটি খেলার একটিতেও জয়ের মুখ দেখলো না বাংলাদেশ।
''সামনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। খেলোয়াড়দের এমন পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের পূর্বে আমাদের হতাশা ও ব্যর্থতার পাল্লাটাকেই ভারী করে তুলছে।
''ক্রিকেটে টাইগারদের এ দুরবস্থা উত্তরণের জন্য ঘন ঘন অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, বেশি বেশি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন, বিসিবিকে ঢেলে সাজানো, সর্বোপরি খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীলতার সাথে দলের চেয়ে দেশের সার্থকে বড় করে দেখার অন্য কিছু বিকল্প হতে পারে না।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হোসেন। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের করুণ অবস্থা দেখে অনেকেই বিশ্বকাপের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। হাতে সময়ও বেশি নেই।
কিন্তু তারপরও, অনেকে মনে করছেন দলে কিছু রদবদল করে দীর্ঘমেয়াদে কোন ফল আসবে না। অনেকের মতে, পরিবর্তন আনা দরকার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির নেতৃত্বে নতুন মুখ, নতুন ভাবনা, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসা দরকার।

ছবির উৎস, mtcurado
সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করেছে। সে বিষয়ে লিখেছেন শামীম আক্তার লিপি:
''বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচন এর রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, এবং ২০২৪ সালের ৮ই জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করেছে।
''প্রায় ১৬ মাস আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় নির্বাচনী প্রচারণা কি এখনই শুরু হয়ে যাবে না? ফলে নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠবে না বাংলাদেশ? এত দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দরকার ছিল?''
নির্বাচন কমিশন কেন ১৬ মাস আগে নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করলো, তা আমার জানা নেই মিস আক্তার। তবে এর ফলে বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে।
বিগত দুটো সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, তাতে নির্বাচনের প্রতি বিরোধী দল তো বটেই, এমনকি ভোটারদের বিরাট অংশের আস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এই পটভূমিতে দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করবে, তেমনটা ভাবার সময় এখনো আসেনি।
নির্বাচন নিয়ে সরগরম হতে হলে একাধিক পক্ষকে মাঠে নামতে হবে, ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-আগ্রহ থাকতে হবে। এই মুহূর্তে সেরকম কোন কিছু খেয়াল করছেন কি?
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা।
রংপুরের পার্বতীপুর দোলাপাড়া থেকে মোহাম্মদ লিয়াকত আলী।
সাতক্ষীরা উচ্চ বালক বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন।
ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী।
পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহিন তালুকদার।









