এশিয়া কাপ ২০২২: শ্রীলঙ্কার শক্তির জায়গা দুজন অলরাউন্ডার ও একজন রহস্যময় বোলার

    • Author, রায়হান মাসুদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

(আগামী শনিবার, ২৭শে অগাস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট।এই টুর্নামেন্টে কোন দলের শক্তিমত্তা কেমন, শিরোপা জয়ের পথে কারা এগিয়ে তা নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। তৃতীয় কিস্তিতে পড়ুন শ্রীলঙ্কারঅবস্থা।)

সবচেয়ে বেশি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন দলের তালিকায় শ্রীলঙ্কা আছে দুই নম্বরে, দলটি পাঁচবার এশিয়া কাপের শিরোপা নিয়েছে।

কিন্তু এবারের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কাকে অনেকেই সম্ভাব্য ফাইনালিস্টের তালিকায় রাখতে নারাজ।

এর কারণ ফরম্যাটটা টি-টোয়েন্টি, এই ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধার না।

সাতাশে অগাস্ট, আগামী শনিবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ।

প্রথম দিনই শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

এই বছরের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ায় হবে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, দলগুলো এশিয়া কাপকে এই টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের একটা ঝালাইয়ের মঞ্চ হিসেবে দেখছে।

শ্রীলঙ্কা এই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই বছর দেশটিতে যে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের ভেন্যু পরিবর্তন হয়, এখন দলগুলো একে একে আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে এশিয়া কাপ খেলতে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভালো না

শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই বার রানার আপ ও একবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল।

কিন্তু এই দলটির টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রেকর্ড খুব একটা সুবিধার না।

এখনও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৫৯ ম্যাচ খেলে ৬৯টিতে জয় পেয়েছে এবং ৮৫টি ম্যাচেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ১৯ ম্যাচে সাতটি জিতেছে শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ জয় ছিল।

এবং পরিস্থিতি যে কতোটা খারাপ তা অনুমান করা যায়, সর্বশেষ খেলা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই শ্রীলঙ্কা হেরেছে।

শ্রীলঙ্কার এই দলটি আবার খুবই আনপ্রেডিক্টেবলও।

এই বছর বর্তমান টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে দলটি।

যার মধ্যে একটি মেলবোর্নে।

শ্রীলঙ্কার শক্তির জায়গা - অলরাউন্ডার

শ্রীলঙ্কার দলে আছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলামে ঝড় তোলা অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

নিলামে ১০ কোটি রুপির বেশি দাম উঠেছিল এই লেগ স্পিনার অলরাউন্ডারের।

ব্যাট হাতে এখনও সামর্থ্যের শতভাগ দিতে পারেননি হাসারাঙ্গা।

এমনকি গত ৫ ম্যাচে ২০ রানও পার করতে পারেননি তিনি।

কিন্তু বল হাতে দুর্দান্ত।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে লেগস্পিনারদের গুরুত্ব এমনিই বেশি।

৩৬ ম্যাচ খেলে ৬২ উইকেট নিয়েছেন হাসারাঙ্গা।

গড় ১৪ এর একটু বেশি। হাসারাঙ্গা ওভারপ্রতি সাতের নিচে রান দিয়েছেন, যা টি টোয়েন্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে দলকে চাপে রাখতে সাহায্য করে।

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন সানাকার পরিসংখ্যান খুব চমকপ্রদ কিছু না।

কুড়ি গড়, ১১৬ স্ট্রাইক খুব একটা ভালো শোনায় না বটে, কিন্তু সব শেষ ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১৬ স্ট্রাইক রেটে ২৫ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।

এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১৯ বলে ৪৭ ও ৩৮ বলে ৭৪ রানের টানা দুটি অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন দাসুন শানাকা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন একটি বা দুটি ইনিংস খেললে টুর্নামেন্টে দলের মেজাজ পরিবর্তন করতে পারে, এবং তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই এমন সব ইনিংস খেলে সামনে থেকে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন।

গড়পড়তা ব্যাটিং

কুশল মেন্ডিস শ্রীলঙ্কার এই ওপেনিং ব্যাটসম্যানের ফর্মের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে দলের মোমেন্টাম, তিনি এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের ওপেনার।

একশ আটত্রিশ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালান তিনি।

শ্রীলঙ্কার একটা স্থিতিশীল মিডল অর্ডার আছে, যারা প্রয়োজনে উইকেটে দ্রুত দৌড়ে রান তুলতে পারেন, আবার সময়মতো রানের গতি বাড়াতে বাউন্ডারিও আদায় করে নিতে পারেন।

চারিথা আসালাঙ্কা, ভানুকা রাজাপাকসা- বাংলাদেশের বিপক্ষে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে এই দুজন বড় জুটি গড়েছিলেন।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার দলে ফিরেছেন দিনেশ চান্দিমাল, এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের দলে ঢোকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লঙ্কান সাংবাদিক ডেনিয়েল আলেকজান্ডার।

তিনি একটি টুইটে লিখেছেন, "১৯ গড় ও ১০৩ স্ট্রাইক রেটের একজন ব্যাটসম্যানকে কেন দলে নেয়া হলো?"

নতুনত্বে ভরা বোলিং

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দলের মূল বোলাররাই ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপে খেলতে পারছেন না।

বিনুরা ফার্নান্দো ও কাসুন রাজিথা আগেই চোটের কারণে বাদ পড়েছিলেন এবারে যোগ হয়েছে দুশমন্থ চামিরা।

এখনও টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন নুয়ানিদু ফারনান্দো ও ১৯ বছর বয়সী মাথিসা পাথিরানা। পাথিরানার বোলিং অ্যাকশন প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে, অনেকটা লাসিথ মালিঙ্গার মতোই সাইড অ্যাকশনে বল ছোড়েন তিনি।

এই ফাস্ট বোলারদের নেতৃত্ব দেবেন মাত্র ২১ বছর বয়সী দিলশান মাধুশানাকা।

তবে এই বোলারদের মধ্যে সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণের প্রচেষ্টা থাকবে, এই ধরনের টুর্নামেন্ট অনেক বড় মঞ্চ এই বোলারদের জন্য।

স্পিন বিভাগে হাসারাঙ্গার সাথে আছেন মহেশ ঠিকসানা ও প্রাভীন জয়াউইকরামা।

আসরের প্রথম পর্বে শ্রীলঙ্কার দুই প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ।

সাতাশে অগাস্ট, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে, এবারের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপ।