টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতির দুই অভিযুক্তকে যেভাবে ধরা হলো

ডাকাতির পর এভাবে বাসটি ফেলে গিয়েছিলো ডাকাত দলের সদস্যরা।
ছবির ক্যাপশান, ডাকাতির পর এভাবে বাসটি ফেলে গিয়েছিলো ডাকাত দলের সদস্যরা।

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহন বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে ঢাকার গাজীপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আটক হওয়া দুই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার নূরুন্নবী ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার আব্দুল আউয়াল।

এ নিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট তিন জনকে আটক করা হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে রাজা মিয়া নামে একজনকে আটক করার পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। আদালত সেদিনই তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছে।

মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঈগল এক্সপ্রেস বাসে উঠে একদল ডাকাত যাত্রীদের মারধর ও তাদের সাথে থাকা জিনিসপত্র লুট করে। পরে বাসের যাত্রী এক নারীকে তারা ধর্ষণ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার ভোর রাত পর্যন্ত বাস নিয়ন্ত্রণে রেখে এসব ঘটানোর পর টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় রাস্তার পাশে রেখে যায়।

নির্যাতনের শিকার নারী ইতোমধ্যেই আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। বাসের একজন যাত্রী ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় মামলা করেছেন।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ঈগল পরিবহন কোম্পানির বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
ছবির ক্যাপশান, ঈগল পরিবহন কোম্পানির বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

যেভাবে আজ দুজনকে আটক করা হলো

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলছেন, বৃহস্পতিবার আটক হওয়া রাজা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা কিছু তথ্য পেয়েছিলেন।

সেই তথ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার করে তারা আজ ভোরে আটককৃতদের অবস্থান স্থলে হানা দেন।

মূলত ঘটনার পর বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর ডাকাত দলটির সদস্যদের মধ্যে মোবাইলে বেশ কয়েকবার কথোপকথন হয়।

মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করেও তারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আবার কথা বলা শেষে ব্যবহৃত ফোন বন্ধও করেছেন।

বৃহস্পতিবার আটক হওয়া রাজা মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিলে সেগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি কল রেকর্ড ম্যাচিং করে পুলিশ।

মহাসড়কে টহল পুলিশ থাকলেও অন্য সড়কগুলোতে টহল পুলিশ খুব একটা দেখা যায় না।

ছবির উৎস, বিবিসি বাংলা

ছবির ক্যাপশান, মহাসড়কে টহল পুলিশ থাকলেও অন্য সড়কগুলোতে টহল পুলিশ খুব একটা দেখা যায় না।

আবার বাসটির মূল চালক যাকে সরিয়ে ডাকাত দলের একজন গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলো তিনিও থানাতেই অবস্থান করে ছবি দেখে জড়িতদের শনাক্তে সহায়তা করছেন।

মিস্টার কায়সার অবশ্য জানিয়েছেন, কল রেকর্ড ম্যাচিংয়ের পর তারা একটি 'থার্ড পার্টির' সহায়তা নিয়ে আজ ভোরে দুজনকে আটক করেন।

"তারা যেখানে অবস্থান করছিলো তার একটিতেও আমরা নিয়মিত পথে যাইনি। রাস্তা রেখে কোমর পানি পার হয়ে ভিন্ন পথে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ একজনকে আটক করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে একই উপজেলার ভিন্ন জায়গা থেকে আরেকজনকে আটক করা হয়," বলছিলেন তিনি।

এ সময় ডাকাতির সময় লুট করা একটি মোবাইল ফোন পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলছেন, আটক হওয়া ব্যক্তিরা ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে বাসযাত্রী নারীকে ধর্ষণের বিষয়ে তারা কোন তথ্য দেননি।

"আজ যাদের আটক করা হলো তারা উভয়ই মাদকাসক্ত। তাদের কাল আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরে আদালতের অনুমতি পেলে আমরা তাদের নির্যাতিত নারীর মুখোমুখি করবো," বলছিলেন তিনি।

মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট।

পুলিশের সন্দেহে অন্তত দশ জন

পুলিশ সুপার বলছেন, ঘটনায় জড়িত হিসেবে তারা অন্তত দশকে আটকের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার মিলিয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তার মতে যাদের আটক করা হয়েছে তারা অবলীলায় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে মোবাইল ব্যবহার না করায় বাকীদের ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

"সব কিছু বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে দশ জনের মতো ঘটনাটির সাথে জড়িত। আশা করছি দ্রুতই বাকী সবাইকে ধরে ফেলতে পারবো," বলছিলেন তিনি।

রাজা মিয়া নিজেও চালক

পুলিশ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার আটক হওয়া রাজা মিয়া নিজেই একটি বেসরকারি কোম্পানির যাত্রী বাহী বাস চালান।

বুধবার রাতে ঈগল পরিবহনের বাসটিতে ওঠার পর তিনিই মূল চালক মনিরুল ইসলামকে সরিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় বাসটি চালিয়েছিলেন।

অন্য ডাকাতরা মনিরুল ইসলামকে বাসের পেছনে বেঁধে রেখেছিলো।

পুলিশ জানিয়েছে, ঈগল পরিবহন নামে ওই বাসটিতে ২৫ জনের মতো যাত্রী ছিলো। সিরাজগঞ্জ জেলার কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবারের জন্য যাত্রা বিরতি করে। এরপরই কয়েক দফায় ডাকাতরা বাসটিতে যাত্রী বেশে উঠে পড়ে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন: