ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: দোনেৎস্ক থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যেতে বললেন ভলোদিমির জেলেনস্কি

ছবির উৎস, Reuters
ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে এখনও যেসব বেসামরিক নাগরিক রয়ে গেছেন তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
কিয়েভ থেকে গভীর রাতে দেয়া এক ভাষণে মি. জেলেনস্কি যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, "যত বেশি মানুষ দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে যাবে, তত কম লোককে হত্যা করার সময় থাকবে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে।"
এই অঞ্চলে ধীরগতিতে রাশিয়ান বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং সেখানে তুমুল সংঘর্ষ দেখা গেছে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
"আমরা যতটা বেশি সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে, রাশিয়ার সন্ত্রাসকে যতটা সম্ভব প্রতিহত করতে যত রকম সুযোগ রয়েছে তার সব ব্যবহার করব।"
এমন এক সময়ে মি. জেলেনস্কির বক্তব্য এলো যখন রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্কের একটি অংশে ৫০ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের মৃত্যুর তদন্তের জন্য জাতিসংঘ এবং রেড ক্রস কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাশিয়া।

ছবির উৎস, Getty Images
ওলেনিভকার একটি কারাগারে হামলায় এই যুদ্ধবন্দীদের মৃত্যু হয় যা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়ে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ঘটনার একটি "নিরপেক্ষ তদন্তকে" স্বাগত জানাবে মস্কো।
ওদিকে রেড ক্রস শুক্রবার বলেছে তারা কারাগারটিতে প্রবেশ করতে দেবার অনুরোধ জানিয়েছে - তবে এখনো তাদের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইউক্রেনের রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলের সহকারী প্রধান ড্যানিয়েল বুনসকগ বলেছেন, জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যুদ্ধবন্দিদের দেখতে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ওলেনিভকা বন্দী শিবিরটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাশিয়া সমর্থিত স্ব-ঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক।
শুক্রবার সেখানে ঠিক কি ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পরে রাশিয়া প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাঙ্ক বিছানা এবং পোড়া মৃতদেহের দেখা যাচ্ছে। তবে এই ফুটেজ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছবির উৎস, Getty Images
শনিবার, নিহত ৫০ জন যুদ্ধবন্দির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হাইমার্স আর্টিলারি সিস্টেম ব্যবহার করে ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভ এই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে যে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ ঢাকতে রাশিয়াই কারাগারটিতে হামলা করেছে।
রুশ দূতাবাসের টুইট নিয়ে বিতর্ক
ওদিকে যুক্তরাজ্যে রাশিয়ান দূতাবাস এক টুইট বার্তায় লিখেছে, ইউক্রেনের আজভ ব্যাটালিয়নের সৈন্যদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে একটি "অপমানজনক মৃত্যু" প্রাপ্য। এরপর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা রাশিয়াকে "সন্ত্রাসী রাষ্ট্র" হিসাবে আখ্যা দিয়েছে।
টুইটার এরপর স্বীকার করেছে যে রাশিয়ান দূতাবাসের পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিটির "বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ" সম্পর্কে যে নিয়ম রয়েছে তা লঙ্ঘন করেছে। তবে কোম্পানিটি আরও যোগ করেছে যে জনস্বার্থে পোষ্টটি রাখা হতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত টুইট বার্তায় বলা হয়েছে যে আজভ "জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত, তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নয় বরং ফাঁসিতে মৃত্যু, কারণ তারা প্রকৃত সৈনিক নয়। তাদের একটি অপমানজনক মৃত্যু প্রাপ্য"।

ছবির উৎস, Getty Images
টুইটারে ওই পোষ্টে একটি ভিডিও ক্লিপ রয়েছে যেখানে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে এক দম্পতিকে দেখা যাচ্ছে। আজভ সৈন্যরা তাদের বাড়িতে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে লোকটি যা বলছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা জন্য দূতাবাসের যে আহ্বান তা ওই ব্যক্তির বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে মারিউপোলের দক্ষিণ-পূর্ব বন্দরে আজভস্টাল নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানার রাশিয়ানদের দখল প্রতিরোধ করার পর মে মাসে আজভ সৈন্যরা অস্ত্র সমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে কারখানাটি রাশিয়া দখল করে নেয়।
দুই হাজার চৌদ্দ সালে প্রতিষ্ঠিত আজভ রেজিমেন্ট চরম ডানপন্থীদের সাথে সম্পর্কিত একটি জাতীয়তাবাদী দল। পরে এটিকে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই আজভ রেজিমেন্টকে নব্য-নাৎসি এবং যুদ্ধাপরাধী বলে অভিযুক্ত করে আসছে।
এই বছরের ২৪শে ইউক্রেনে হামলার আক্রমণকে পক্ষে যুক্তি দেয়ার জন্য ক্রেমলিনের তার প্রচার প্রচারণার অংশ হিসাবে এটি বলে থাকে।








