রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়া ধোয়া তুলসী পাতা নয়, রাশিয়া যা রাশিয়া তাই, বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ

সের্গেই লাভরভ, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সের্গেই লাভরভ, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়নি, বরং বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়েছে কারণ "ইউক্রেনকে নেটোর মধ্যে টেনে আনা যে একটি অপরাধমূলক কাজ সেটা আমরা পশ্চিমা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি।"

বিবিসির সাথে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবার উল্লেখ করেন যে ইউক্রেনকে, তার ভাষায়, 'নাৎসিমুক্ত' করার লক্ষ্যেই এই অভিযান।

গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমা কোন সংবাদমাধ্যমকে খুব বেশি একটা সাক্ষাৎকার দেননি।

এই সাক্ষাৎকারে বিবিসির সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ জাতিসংঘের একটি রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে মি. লাভরভকে একটি সরাসরি প্রশ্ন করেন: "চেরনিহিভ অঞ্চলের ইহাদনি গ্রামে রুশ বাহিনী ৭৪টি শিশুসহ ২৬০ জন গ্রামবাসীকে একটি স্কুলের বেসমেন্টে ২৮ দিন ধরে আটকে রেখেছিল। সেখানে ১০ জন বৃদ্ধ মারা যান। এটাই কি নাৎসিদের বিরুদ্ধে লড়াই?"

জবাবে মি. লাভরভ বলেন, "এটা একটা দু:খজনক ঘটনা। কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, মহাসচিবসহ অন্যান্য জাতিসংঘ কর্মকর্তা ক্রমাগত পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে রয়েছেন। এবং তারা প্রায়ই পশ্চিমা দেশগুলোর ছড়ানো ফেক নিউজ (মিথ্যে খবরকে) ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করেন।"

"রাশিয়া ধোয়া তুলসী পাতা নয়। রাশিয়া যা রাশিয়া তাই। আমরা যা তেমনটা দেখাতে আমাদের কোন লজ্জা নেই।"

আরো পড়তে পারেন:

মি. লাভরভের এই বিরল সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিবিসি সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ।
ছবির ক্যাপশান, মি. লাভরভের এই বিরল সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিবিসি সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ।

রাশিয়ার সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "এটা নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। কারণ (প্রধানমন্ত্রী বরিস) জনসন এবং (পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ) স্ট্রাস খোলাখুলি বলেছেন, 'আমরা রাশিয়াকে পরাজিত করবো, রাশিয়াকে নতজানু করতে বাধ্য করবো। করুন, পারলে করে দেখান।"

ব্রিটেনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানতে চাইলে সের্গেই লাভরভ বলেন, "নেতাদের রাজনৈতিক অভিলাষের জন্য জনগণের স্বার্থকে আরেকবার জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে।"

বাহাত্তর-বছর বয়সী মি. লাভরভ গত ১৮ বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো তার এবং তার মেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: