ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ: ওডেসায় রুশ মিসাইল হামলায় ২১ জন মারা গেছে - ইউক্রেনের দাবি

ইউক্রেনের দক্ষিণ ওডেসা অঞ্চলে রুশ বাহিনীর মিসাইল হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ২১ জন মারা মারা গেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস বলছে সেরহিয়িভকা গ্রামের একটি নয় তলা ভবনে মিসাইল হামলাতেই ১৬ জন মারা গেছেন।

ঐ গ্রামেরই একটি হলিডে রিসোর্টে আরেক মিসাইল হামলায় শিশুসহ বাকি পাঁচজন মারা যায়।

গত কয়েকদিনে ইউক্রেনের শহরগুলোতে বহু মিসাইল হামলা করেছে রাশিয়া।

তবে রুশ বাহিনী বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালাচ্ছে - এমন অভিযোগ শুক্রবার আরেক দফা অস্বীকার করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

সেরহিয়িভকা গ্রামের বাসিন্দা, ৬০ বছর বয়সী ইউলিয়া বন্ডার বিবিসিকে বলেন, "আমরা তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। এখন দেখা যাচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রটির কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।"

"এটা খুবই শান্ত একটা গ্রাম। আমরা কখনো চিন্তা করিনি যে এরকম হতে পারে।"

ডিএসএনএস জানিয়েছে শুক্রবার মধ্যরাত একটার দিকে সেরহিয়িভকা গ্রামে মিসাইল হামলা হয়।

আরো পড়তে পারেন:

বিস্ফোরণের পর নয় তলা ভবনে দমকল কর্মীদের উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা।

ডিএসএনএস জানিয়েছে এই হামলায় ছয় জন শিশুসহ মোট ৩৮ জন আহত হয়েছে।

ডিএসএনএসের একজন মুখপাত্র, মারিনা মার্টিনেঙ্কো, ইউক্রেনিয়ান টিভিকে জানান যে মিসাইল হামলার পর ভবনটির কাছের একটি দোকানেও আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। পরে দমকলকর্মীরা ঐ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঐ ভবনটিতে অন্তত দেড়শো মানুষ থাকতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান থেকে তিনটি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়।

ওডেসার আঞ্চলিক প্রশাসনের মুখপাত্র সেরহি ব্রাটচুক ধারণা প্রকাশ করেন যে রুশ বাহিনী সোভিয়েত আমলের এক্স-২২ মিসাইল ব্যবহার করেছে।

শহরের মেয়র গেনাডি ত্রুখানভ বিবিসিকে জানান যে সেরহিয়িকভার কাছে কোনো সেনা স্থাপনা বা র‍াডার স্টেশন নেই, তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর বিপরীত দাবি করছে।

ওডেসার মানুষ 'আরো রুশ হামলার ভয়ে আতঙ্কে দিনযাপন করছে' বলে মন্তব্য করেন মেয়র মি. ত্রুখানভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রধান কর্মকর্তা আন্দ্রিই ইয়েরমাক মন্তব্য করেছেন যে রাশিয়া 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র'র মত আচরণ করছে।

তিনি বলেন, "যুদ্ধক্ষেত্রে হারের জবাবে তারা বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা শুরু করেছে।"

রাশিয়া এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করলেও দেশটির সব অঞ্চলে মিসাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বিবিসি'র প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জোনাথন বিয়েল মনে করেন, রাশিয়া শুধুমাত্র সেনা স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলা করছে বলে দাবি করলেও মাঝেমধ্যেই হামলার শিকার হচ্ছে বেসামরিক আবাসস্থল।

অনেক ইউক্রেনিয়ানই এটিকে ইচ্ছাকৃত মনে করেন। তারা মনে করেন, এভাবে রাশিয়া তাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায়।

বিবিসি সংবাদদাতা মনে করেন এর ফলে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে ইউক্রেনিয়ানদের মধ্যে।

মিসাইল হামলা বাড়ছে

এই সপ্তাহের শুরুতে মধ্য ইউক্রেনের একটি শপিং মলে মিসাইল হামলা করে রাশিয়া, যেই হামলায় অন্তত ১৯ জন মারা গেছেন।

কিয়েভ বলছে, মস্কো তাদের লং রেঞ্জ মিসাইল হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে, যার ফলে বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত বেশি হচ্ছে। রাশিয়া বলছে তারা শুধু সেনা স্থাপনাতেই হামলা করছে।

বিবিসি'র প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা মনে করেন রাশিয়ার লং রেঞ্জ মিসাইল হামলা নিখুঁত না হওয়ার বিষয়টি তাদের শক্তি ও দুর্বলতা দুইই প্রকাশ করে।

এই হামলাগুলোর অধিকাংশই ইউক্রেনের বায়ুসীমার বাইরে থেকে পরিচালনা করতে হচ্ছে, কারণ ইউক্রেনের বায়ুসীমার ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেই।

খাদ্য সঙ্কটে ইউক্রেন

ইউক্রেন আশা করেছিল যে রুশ বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্নেক দ্বীপের দখল বৃহস্পতিবার ছেড়ে দেয়ার পর কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত ঐ বন্দরের ওপর হামলার আশঙ্কা কমবে।

রাশিয়া বলেছে যে তারা 'শুভেচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে স্নেক দ্বীপ ছেড়ে দিয়েছে যেন ওডেসা ও অন্যান্য ইউক্রেনিয়ান বন্দর থেকে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত না হয়।

তবে ইউক্রেন ঐ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে মস্কো তাদের শস্যের গুদামগুলোতে বোমা হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।

ইউক্রেনে থাকা শস্য গুদামের দখল নেয়ার পর সেগুলো থেকে রুশ বাহিনী শস্য চুরি করেছে - রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন এমন অভিযোগও করেছে।

তারা অভিযোগ তুলেছে যে রুশ নিয়ন্ত্রিত বন্দর বেরদিয়ান্সক থেকে ছেড়ে যাওয়া কার্গো জাহাজ ঝিবেক ঝোলি ইউক্রেনের শস্য বোঝাই ছিল।