ভেজাল প্যারাসিটামল: শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রতি পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

ছবির উৎস, Getty Images

বাংলাদেশে ভেজাল প্যারাসিটামল সেবন করে ১০৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিটি শিশুর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবন করে ১৯৯১ সালে ৭৬টি শিশু এবং ২০০৯ সালে ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনার আইনগত প্রতিকার চেয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

সে রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ দেবার রায় দিয়েছে।

আইনজীবী মি. মোরশেদ বলেন, আদালত ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে এ ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে এবং তারা যেন পরবর্তীকালে সেটি সংশ্লিষ্ট ঔষধ কোম্পানি থেকে আদায় করে নেয়।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন কোন আপিল করবে কিনা সেটি তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দু'হাজার নয় সালে বিভিন্ন হাসপাতালে প্যারাসিটামল সিরাপ পান করে অন্তত ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়। সে সিরাপে রীড ফার্মার লেবেল ছিল।

এর পর সে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু তদন্তের সময় আদালতে প্যারাসিটামল সিরাপের যে নমুনা জমা দেয়া হয়েছিল সেটি রীড ফার্মার কারখানা থেকে জব্দ করা হয়নি

সে কারণে জব্দকৃত প্যারাসিটামল যে রীড ফার্মার ছিল - সেটা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

ফলে আসামীরা তখন খালাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং সেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

অন্যদিকে প্রতিকার চেয়ে রীট পিটিশনও দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

মি. মোরশেদ বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অযোগ্যতার কারণে আসামীরা মামলা থেকে খালাস পেয়েছিল। এটা নিম্ন আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়। তারা সঠিকভাবে তদন্ত করেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছিল।

তিনি বলেন, আসামীরা খালাস পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের কোন দায় নেই। তদন্তে গাফলতির কারণেই তারা মামলা থেকে খালাস পেয়েছিল।

এর কারণে রীট পিটিশনে আইনগত প্রতিকার চাওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মি. মোরশেদ।

আরো পড়তে পারেন: