ইসলাম: দুই বছর পর ফিরেছে ঈদুল ফিতরের চিরচেনা উৎসবের পরিবেশ

করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর ধরে নানা বিধিনিষেধ থাকার পর আবার বিশ্ব জুড়ে পরিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সকালে ঈদের জামাতের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন শুরু হয়েছে। কিন্তু গত চারটি ঈদের সঙ্গে এবার পার্থক্য

গত দুই বছরের মতো এবার ঈদের জামাত শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগের মতোই খোলা ময়দানে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন নামাজীরা। দুই বছর পরে ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত হয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। গত দুই বছর এখানে জামাত হয়নি।

ফিরেছে কোলাকুলির সেই চিরচেনা দৃশ্য। করোনাভাইরাসের কারণে ঈদের নামাজের পর কোলাকুলি করার সামাজিক প্রথা দেখা যায়নি। কিন্তু মহামারীর প্রকোপ কমে আসায় এবার আবার সেই দৃশ্য ফিরে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসের শনাক্তের হার ০.৪০ শতাংশ। গতকাল শনাক্ত হয়েছিল ১০ জন।

ঢাকার কলাবাগানে সকালে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন প্রতিবেশী আবুল মনসুর আহমেদ এবং ইব্রাহিম মুন্সী।

মি. আহমেদ বলছেন, ''প্রথম বছর তো মসজিদেই জামাত হয়নি। গত বছর নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম, তারপর বাসায় চলে এসেছি। ঈদের উৎসবের যে আমেজ, যে পরিবেশ-সেটা ছিল না। বাসায় মেহমানদেরও তেমন আসতে বলিনি। কিন্তু এবার সবার সাথে কোলাকুলি হলো, বাসায় সেমাই-মিষ্টি খাওয়া হলো। সব কিছু আগের মতো লাগছে।''

ঢাকাসহ সারাদেশে আগে থেকেই বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস ছিল। ঢাকায় যদিও ১০টার দিকে ঈদের জামাত হয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, বরিশালের অনেক স্থানে বৃষ্টির কারণে ঈদের জামাত দেরিতে হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

বাংলাদেশের মতোই দুই বছর পরেই অনেকটা আড়ম্বরে ঈদুল ফিতর পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুসলমানরা তাদের এই প্রধান উৎসব আনন্দের সঙ্গেই পালন করছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার ইসতিকলাল গ্র্যান্ড মসজিদে হাজার হাজার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকেই এখানে জামাত বন্ধ ছিল।

দুই বছর পরে ঈদের বড় জামাত হয়েছে, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, তুর্কমেনিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশে অবশ্য সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সোমবার ঈদ পালন করা হয়েছে।

সেখানকার বাংলাদেশি কম্যুনিটির সদস্যরা নিজেদের মতো করে ঈদের নানা আয়োজন করেছেন।