আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মারিউপোলে স্কুল ভবনের ওপর রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোলের কেন্দ্রস্থলে যখন রুশ ও ইউক্রেনীয় সৈন্যদের মধ্যে রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, তার মধ্যেই শহরের একটি আর্ট স্কুলের ওপর রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরের ওই স্কুল ভবনটিতে প্রায় ৪০০ লোক আশ্রয় নিয়েছিল।
এই আক্রমণের খবর কোন স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। ভবনটিতে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হচ্ছে।
ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেলেও এতে কতজন হতাহত হয়েছে তা জানা যায়নি। মারিউপোলের কাউন্সিলও বলছে, কতজন নিহত হয়েছে তা তারা জানেন না।
মারিউপোল শহরটি একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং এটি এখন রুশ বাহিনী ঘিরে রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং এটি রুশ দখলে চলে গেলে - রাশিয়ার মূলভুমি থেকে শুরু করে লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক হয়ে ক্রাইমিয়া পর্যন্ত একটি স্থল করিডোর তৈরি হয়ে যাবে।
মারিউপোল শহরে প্রায় ৩ লক্ষ লোক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। নগরীর কেন্দ্রস্থলে রাস্তায় রাস্তায় এখন রুশ ও ইউক্রেনীয় সৈন্যদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মারিউপোলের ওপর রুশ আক্রমণকে এমন এক ভয়াবহতা বলে অভিহিত করেছেন যা 'শত শত বছর ধরে মানুষ মনে রাখবে।'
মারিউপোলের মেয়র ভাদিম বয়চেংকো বলেছেন, এ শহরের হাজার হাজার লোককে জোর করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে - তবে এ খবরটিও স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।
হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে আরো রুশ হামলা
দক্ষিণের মাইকোলায়েভ অঞ্চলে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে আরো আক্রমণ চালানোর কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাইকোলায়েভে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি জ্বালানির ডিপোতে এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব দাবি স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়নি।
এছাড়া রুশ মন্ত্রণালয় বলছে, বেলারুস সীমান্তের কাছে ওভরুচ শহরে একটি ইউক্রেনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওপর তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং এ হামলায় শ'খানেক সৈন্য ও বিদেশী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
আরেক খবরে জানা গেছে, পূর্ব ইউক্রেনের ক্রেমিনা শহরে একটি বৃদ্ধাশ্রমের ওপর রুশ ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। টেলিগ্রাম মেসেজিং সার্ভিসের পাওয়া খবরে বলা হয়, লুহানস্কের প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এতে ৫৬ জন নিহত হয়েছে। তবে এ খবর বিবিসি স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করছে, তাদের সৈন্যদের হাতে একজন উর্ধতন রুশ নৌ অফিসার নিহত হয়েছেন। আন্দ্রেই পেলি নামের এই নৌ-অফিসার রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের ডেপুটি কম্যান্ডার ছিলেন। এ খবরটি নিয়ে মস্কো এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধে বেশ কয়েকজন উর্ধতন রুশ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ বলছে, ইউক্রেনের যুদ্ধে ৯০০রও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংক্রান্ত হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি বলছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে ১ কোটি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ লক্ষেরও বেশি লোক পোল্যান্ড ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলে গেছে।
রুশ অগ্রাভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে?
তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধ এবং প্রতি-আক্রমণের মুখে রুশ অগ্রাভিযান এখন অনেক জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের আকাশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি, এবং তারা এখন নিজ আকাশসীমার ভেতর থেকে ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে।
তা ছাড়া কিয়েভ, খারকিভ ও ওডেসার মত বড় শহরগুলো দখল করতে রুশ বাহিনী এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হবার কারণে আগামী দিনগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে এক 'রক্তাক্ত অচলাবস্থা' চলতে পারে - এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেন দাবি করেছে যে প্রায় ১৫ হাজার রুশ সৈন্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে - তবে পশ্চিমা সূত্রগুলো এ সংখ্যা ৭ হাজারের মতো বলে মনে করে। এসব দাবিও বিবিসির পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আলোচনায় এখনো আগ্রহী নন পুতিন?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারো মস্কোর সাথে ব্যাপকভিত্তিক শান্তি আলোচনার ডাক দিয়েছেন। নানা দিক থেকেই এখন দু-পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা হচ্ছে - যার সব খবর সংবাদ মাধ্যমে আসছে না।
তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একজন উপদেষ্টা - যিনি এই আলোচনার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত - বলছেন যে মি. পুতিন এখনো সরাসরি কোন আলোচনার জন্য ইচ্ছুক নন।
অনেক বিশ্লেষকই বলছেন যে এ যুদ্ধে রাশিয়ার অগ্রাভিযান যেহেতু তাদের মতে স্থবির হয়ে পড়েছে, তাই এখনো তারা যুদ্ধবিরতির আলোচনা-দরকষাকষি ইত্যাদিতে বসার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।
তবে কিছু সংবাদ মাধ্যম খবর দিচ্ছে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোলু রোববার এক সাক্ষাতকারে বলেছেন - ইউক্রেন এবং রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ঐকমত্যের কাছাকাছি এসে গেছে এবং শিগগীরই একটি যুদ্ধবিরতি হতে পারে।