ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: রাশিয়ার টেলিভিশনে যুদ্ধের খবর একেবারেই ভিন্ন এক গল্প

গত সপ্তাহে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে এক দর্শক টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের খবর দেখছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত সপ্তাহে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে এক দর্শক টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের খবর দেখছেন
    • Author, সাইমন ক্রালোভা এবং সান্দ্রো ভেটস্কো
    • Role, বিবিসি মনিটরিং

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় যা প্রচার করা হচ্ছিল, 'অল্টারনেটিভ রিয়েলিটি' বা 'বিকল্প বাস্তবতার' তারচেয়ে ভালো উদাহরণ বুঝি আর কিছু হতে পারে না।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড টেলিভিশনের বুলেটিন যখন শুরু হচ্ছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের টিভি টাওয়ারে হামলার খবর দিয়ে, তখন রুশ টেলিভিশনের খবরে বলা হচ্ছিল যে নানা শহরে এসব হামলার জন্য ইউক্রেন নিজেই দায়ী।

রাশিয়ার টেলিভিশন দর্শকরা এই যুদ্ধের কী চিত্র আসলে দেখতে পাচ্ছেন? বেতার তরঙ্গে কী ধরণের খবর তারা শুনতে পাচ্ছেন? রাশিয়ার প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ক্রেমলিন বা তাদের ঘনিষ্ঠ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব চ্যানেলে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ গত ১লা মার্চ, মঙ্গলবার যুদ্ধের কী ধরনের খবরাখবর পেয়েছেন, তার একটি খণ্ডচিত্র এ রকম:

Short presentational grey line

রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন 'চ্যানেল ওয়ান।' প্রতিদিন সকালে এই চ্যানেলে 'গুড মর্নিং' বলে যে অনুষ্ঠানটি হয়, সেটি অন্য যে কোন দেশের টেলিভিশনে সকালের অনুষ্ঠানের মতো বলেই মনে হবে - এটি সংবাদ, সংস্কৃতি এবং হালকা বিনোদনের মিশ্রণে তৈরি একটি অনুষ্ঠান।

তবে মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানে মস্কো সময় সকাল সাড়ে পাঁচটায় উপস্থাপক ঘোষণা দিলেন, তাদের অনুষ্ঠানসূচীতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে কিছু ঘটনার জন্য, ফলে আরও বেশি করে খবর এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থাকবে অনুষ্ঠানে।

যেসব খবরাখবর অনুষ্ঠানে প্রচার করা হলো, তাতে ধারণা দেয়া হলো যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে বলে যেকথা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যে এবং তা 'আনাড়ি দর্শকদের' বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।

"ইন্টারনেটে যেসব ফুটেজ ক্রমাগত ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোকে ভুয়া ছাড়া আর কিছু বলে বর্ণনা করা যায় না," বলছিলেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। আর তখন দর্শকদের দেখানো হচ্ছিল এমন কিছু ছবি, যেগুলো নাকি 'আনাড়ি-ভাবে ভার্চুয়াল জালিয়াতির' মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

রুশ টিভি চ্যানেলের স্ক্রিনশট
ছবির ক্যাপশান, একই সামরিক যানের দুটি ছবি দেখানো হয় রাশিয়ার চ্যানেল ওয়ানে। উপরের ছবিটির ক্যাপশন 'ডনবাস ২০১৪'। নীচের ছবিটির ক্যাপশন 'ইউক্রেনিয়ান মন্তাজ'। উপস্থাপক দাবি করেন, উপরের ছবিটি ২০১৪ সালের লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ইউক্রেনিয়ান সামরিক যান, সেটিকেই কারসাজি করে নীচের ছবিটি এমনভাবে বানানো হয়েছে যাতে মনে হয় এটি এবারের লড়াইয়ে ধ্বংস হওয়ার কোন রুশ সামরিক যান।

আরও পরে মস্কো সময় সকাল আটটার দিকে আমরা আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি'র সকালের বুলেটিন শুনছিলাম। এটির মালিক ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশাল কোম্পানি গ্যাজপ্রমের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান।

এটি কেবলমাত্র ডনবাস অঞ্চলের খবর দিচ্ছিল, যেটি ইউক্রেনের পূর্বদিকে। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়া যখন তাদের 'বিশেষ সামরিক অভিযান' শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল, তখন সেটি কিন্তু এই অঞ্চলেই শুরু করার কথা বলা হয়েছিল।

এই অভিযান শুরুর লক্ষ্য নাকি ছিল 'ইউক্রেনের বেসামরিকীকরণ' এবং 'নাৎসিদের নির্মূল' করা।

বিবিসি বাংলার আরও কিছু খবর:

মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যে রুশ সামরিক কনভয় এখন সাপের মতো এঁকেবেঁকে বেলারুস থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে - যেটি ছিল গতকাল বিবিসির রেডিও ফোর এর সংবাদ বুলেটিনের প্রধান খবর - সেটির কোন উল্লেখই তাদের রিপোর্টে ছিল না।

এনটিভির একজন উপস্থাপক বললেন, "আমরা শুরু করছি ডনবাসের সর্বশেষ খবর দিয়ে। এলএনআর (লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক) যোদ্ধারা তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে, তারা তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে, অন্যদিকে ডিএনআর (দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক) ইউনিটগুলো ১৬ কিলোমিটার এগিয়েছে।"

উপস্থাপক এখানে মস্কোর সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহীদের কথা বলছিলেন, যারা আট বছর আগে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর হতে তথাকথিত দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রোসিয়া টুয়েন্টি ফোর চ্যানেলে এই সাদা ক্যাপশনে লেখা "ইউক্রোফ্যাসিজম, অর্থাৎ ইউক্রেনিয়ান ফ্যাসিজম
ছবির ক্যাপশান, রোসিয়া টুয়েন্টি ফোর চ্যানেলে এই সাদা ক্যাপশনে লেখা "ইউক্রোফ্যাসিজম, অর্থাৎ ইউক্রেনিয়ান ফ্যাসিজম

রোসিয়া ওয়ান এবং চ্যানেল ওয়ান রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি চ্যানেল - তবে দুটিই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত।

এই দুটি চ্যানেলের খবরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ডনবাস অঞ্চলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছিল। রোসিয়া ওয়ানের একজন উপস্থাপক বলেন, "ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষের জন্য হুমকি আসছে ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীদের দিক থেকে, রাশিয়ার বাহিনীর দিক থেকে নয়।"

"ওরা বেসামরিক মানুষকে মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের সামরিক অস্ত্রশস্ত্র আবাসিক এলাকায় মোতায়েন করছে এবং ডনবাস অঞ্চলের শহরগুলোতে গোলা দাগছে।"

চ্যানেল ওয়ানের উপস্থাপক ঘোষণা করলেন যে, ইউক্রেনের বাহিনী 'আবাসিক ভবনে গোলা হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে' এবং তারা গুদামঘরে অ্যামোনিয়া দিয়ে বোমা হামলা চালাতে চায় - এটি তারা করছে বেসামরিক লোকজন এবং রাশিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়ার উদ্দেশ্যে।

ইউক্রেনে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো এখানে যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে না। তার পরিবর্তে একে বর্ণনা করা হচ্ছে "অসামরিকীকরণের" একটি পদক্ষেপ হিসেবে, যার অংশ হিসেবে সামরিক স্থাপনা টার্গেট করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সব টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপক এবং সংবাদদাতারা বেশ আবেগপূর্ণ ভাষা এবং ছবি ব্যবহার করেন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার এই 'বিশেষ সামরিক অভিযানকে' তুলনা করেন নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের লড়াইয়ের সঙ্গে।

"যে জাতীয়তাবাদীরা তাদের রক্ষার জন্য বর্ম হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে তাদের কৌশলে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি," বলছিলেন রোসিয়া ওয়ান চ্যানেলের সহযোগী আরেকটি চ্যানেল রোসিয়া টুয়েন্টি ফোরের একজন উপস্থাপক।

"এদের আচরণ ফ্যাসিবাদীদের মতো, এই শব্দের আসল অর্থের মতো; নব্য নাৎসিরা যে কেবল আবাসিক বাড়ির সামনে তাদের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে তাই নয়, যেসব ভূগর্ভস্থ ঘরে শিশুদের রাখা হয়েছে, সেখানেও তারা এই কাজ করছে", বলছেন আরেকজন সংবাদদাতা তার 'ইউক্রেনিয়ান ফ্যাসিবাদ' শিরোনামের এক রিপোর্টে।

ইউক্রেনকে দোষারোপ

এই কথায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সেই দাবিরই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে, যেটি তিনি গত সপ্তাহে করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছিলেন যে ইউক্রেন নারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষদের মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমে যখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অভিযান দ্রুত সাফল্য অর্জন করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে কি-না, তখন রাশিয়ার টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে এই অভিযান বেশ সফল। ইউক্রেনের কত সামরিক সরঞ্জাম আর অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস হয়েছে, তার নিয়মিত আপডেট দেয়া হচ্ছে।

সকালের সংবাদে বলা হলো, ইউক্রেনের এগারোশো' সামরিক স্থাপনা বিকল করে দেয়া হয়েছে এবং শত শত সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষের কোন হতাহতের খবর সেখানে নেই।

ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলেও যে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তার কোন খবর সকালের বুলেটিনে নেই। কিয়েভ বা খারকিভের মতো জায়গা থেকে রাশিয়ার কোন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কোন সাংবাদিক মাঠ থেকে সরাসরি কোন খবর দিচ্ছেন না। অথচ এই দুটি শহরেই মানুষের ঘরবাড়ীতে গোলা হামলা হয়েছে। এর পরিবর্তে রুশ গণমাধ্যমের সংবাদাদাতাদের ডনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সেখান থেকে সংবাদ পরিবেশন করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে বিকেলের সংস্করণের সংবাদে এনটিভি শেষ পর্যন্ত সেই খবরটির কথা উল্লেখ করলো, যেটির কভারেজ বিবিসিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে দেয়া হচ্ছিল - খারকিভ শহরে গোলাবর্ষণের খবর।

কিয়েভের টেলিভিশন টাওয়ারে বিস্ফোরণের দৃশ্য, ১ মার্চ, ২০২২

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কিয়েভের টেলিভিশন টাওয়ারে বিস্ফোরণের দৃশ্য - ১লা মার্চ ২০২২

এই হামলার জন্য অবশ্য যে রুশ বাহিনীই দায়ী, সেই দাবিকে মিথ্যে বলে বর্ণনা করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো এই খবরে।

"ক্ষেপণাস্ত্রটির উড্ডয়ন পথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসেছে, যেখানে কোন রুশ বাহিনী মোতায়েন নেই", বলছিলেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। চার ঘণ্টা পর রোসিয়া ওয়ান চ্যানেলের খবরে আরেকটু বাড়িয়ে এই বোমা হামলার জন্য ইউক্রেনকেই দায়ী করা হলো।

এতে প্রশ্ন তোলা হয়, "খারকিভে হামলা করে বলা হচ্ছে এটি রাশিয়া করেছে। ইউক্রেন আসলে নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা করছে এবং তারপর পশ্চিমাদের কাছে মিথ্যে বলছে। কিন্তু জনগণকে কি ধোঁকা দেয়া সম্ভব?"

বিকেল পাঁচটার বুলেটিনে রোসিয়া ওয়ানের একজন উপস্থাপক ইউক্রেনে রাশিয়ার 'প্রধান লক্ষ্য' আসলে কী, তার বর্ণনা দিয়ে বললেন, "এর উদ্দেশ্য পশ্চিমা শক্তির দিক থেকে যে হুমকি, তার মোকাবেলা, এই পশ্চিমারা মস্কোর সঙ্গে তাদের যে মুখোমুখি অবস্থান, সেখানে ইউক্রেনের মানুষকে ব্যবহার করছে।"

উপস্থাপক আরও জানালেন, অনলাইনে ইউক্রেনের ব্যাপারে যেসব "ভুয়া খবর এবং গুজব" ছড়ানো হচ্ছে, তার মোকাবেলা করতে রুশ সরকার একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করছে যেখানে কেবল 'সত্যি খবর' প্রকাশ করা হবে।

রাশিয়ার গণমাধ্যমের ওপর খবরদারি করে যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সেই 'রসকোমনাডযর' এর নির্দেশনা মেনে খবর দিতে হয় সব টেলিভিশন চ্যানেলকে।

তবে এর মানে এই নয় যে, মঙ্গলবারের খবর পরিবেশনায় কোন বৈচিত্র্য ছিল না।

চ্যানেল ওয়ান টিভির নিউজ বুলেটিনে যখন 'ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধের' খবর দেয়া হচ্ছিল, তখন ক্রেমলিনপন্থী উপস্থাপক তার 'দ্য গ্রেট গেম' টক শোতে বলছিলেন, তিনি ইউক্রেনকে কত ভালোবাসেন।

আরও পড়ুন:

"আমি ইউক্রেনকে অনেক ভালোবাসি, আমি ইউক্রেনের মানুষকে ভালোবাসি। আমি বেশ কয়েকবার এই দেশে ঘুরতে গেছি। এটি আসলে খুব চমৎকার একটি দেশ। আমার মনে হয়, রাশিয়া চায় এই দেশটি সমৃদ্ধশালী হোক, বন্ধু-ভাবাপন্ন হোক … আমাদের এই চাওয়াটা ন্যায্য। আমাদের বিজয় হবে", এই বলে তিনি শেষ করলেন তার অনুষ্ঠান।

রাশিয়ার তরুণরা এখন আরও বেশি সংখ্যায় তাদের খবরের জন্য নির্ভর করে স্বাধীন অনলাইন সাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর। এই যুদ্ধ যত প্রলম্বিত হচ্ছে, ততই নিহত রুশ সেনা বা যুদ্ধ বন্দীর ছবি প্রকাশ পাচ্ছে। তবে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ এসব থামানোর চেষ্টা করছে এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'রসকোমনাডযর' এরই মধ্যে টিকটককে নির্দেশ দিয়েছে রাজনৈতিক বা সামরিক বিষয় সম্পর্কিত ভিডিও যেন অপ্রাপ্তপবয়স্কদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখা হয়। কারণ তাদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ভিডিওতে 'রুশ বিরোধী' কথাবার্তা থাকে।

এছাড়া তারা গুগলের কাছেও দাবি জানিয়েছে সেই সব কনটেন্ট সরিয়ে নিতে, যেখানে রুশ সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য আছে। তারা টুইটার এবং ফেসবুকের ওপরও নানা রকম বিধিনিষেধ জারির চেষ্টা করছে।

তারা রাশিয়ার গণমাধ্যমকে নির্দেশ দিয়েছে রুশ অভিযানের সংবাদ পরিবেশনের সময় যেন কেবলমাত্র রাশিয়ার সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া খবর দেয়া হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ার অভিযানকে 'যুদ্ধ ঘোষণা' বা 'আগ্রাসন' হিসেবে বর্ণনা না করার জন্যও বলা হয়েছে গণমাধ্যমকে।

যারা এই নির্দেশ অমান্য করবে তাদেরকে জরিমানা করা বা নিষিদ্ধ করার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে স্বাধীন টিভি চ্যানেল 'ডোযড' এবং উদারপন্থী রেডিও স্টেশন 'এখো মস্কোভি' বন্ধ করে দেয়া হয়েছে - তারা জঙ্গিবাদ এবং সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছে এবং রাশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যে তথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রিপোর্টিং এ সহায়তা করেছেন ফ্রান্সিস স্কার