ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ: ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সীমান্ত পেরোতে বাধা দিচ্ছে ইউক্রেনের সৈন্যরা, মারধর ও হেনস্থা করা হচ্ছে

ইউক্রেন থেকে ফিরতে পারা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজন। সোমবার, দিল্লিতে

ছবির উৎস, Hindustan Times

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন থেকে ফিরতে পারা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজন। সোমবার, দিল্লিতে
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ইউক্রেন সীমান্তে আটকে পড়া শত শত ভারতীয় ছাত্রছাত্রী সে দেশের সেনা ও নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুমুল হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের সীমান্তে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সীমান্ত পেরোতে না-দিয়ে মারধর করার একটি ভিডিও সামনে এসেছে, দেশের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সেটি সোমবার সকালে টুইটারে শেয়ারও করেছেন।

সেখানে মেয়েদের পর্যন্ত চুলের মুঠি ধরে টানা হচ্ছে এবং রড দিয়ে পেটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্তে কীরকম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে তাদের পড়তে হচ্ছে, তা বর্ণনা করে গত আটচল্লিশ ঘন্টায় ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা অজস্র ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছেন।

বিচলিত ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে কথাবার্তাও চালাচ্ছে।

Skip X post, 1
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post, 1

কেরালার মেয়ে অ্যাঞ্জেল, যিনি ইউক্রেনের একটি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, রবিবার ভোররাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে শেহায়নি-তে শত শত ভারতীয় ছাত্রকে সীমান্ত পেরোতে বাধা দিচ্ছে ইউক্রেনের পুলিশ ও সেনারা।

তাদের বেধড়ক পেটানো হচ্ছে, রাস্তায় ফেলে পর্যন্ত মারা হচ্ছে, তাদের লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি পর্যন্ত চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান ওই ছাত্রী - যে বার্তা ভারতে হুলুস্থূল ফেলে দেয়।

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও - যেখানে সীমান্ত পোস্টের মতো দেখতে একটি জায়গায় সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের স্যুটকেস নিয়ে আসা নিরীহ লোকজনকে লাথি মারতে দেখা যায়।

পেছনে একজনকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, "আরে মেয়েদেরও কীভাবে মারছে দেখুন"।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এদিন সকালে ওই ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, "আমরা আমাদের নিজেদের লোকদের এই অবস্থায় ফেলে দিতে পারি না।"

ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সীমান্তের একটি চেকপোস্টের সামনে

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সীমান্তের একটি চেকপোস্টের সামনে

পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে বাধ্য হয়ে কিয়েভে ফিরে যাওয়ার পথে মানসী চৌধুরী নামে একজন ছাত্রী ভারতের একটি নিউজ চ্যানেলকে জানান, তাদের ওপর প্রচন্ড অত্যাচার চালানো হয়েছে।

"ভারতীয় কর্মকর্তারা আমাদের সাহায্যের চেষ্টা করলেও ইউক্রেনের বাহিনী সীমান্তে ব্যারিকেড দিয়ে ভারতীয়দের আটকে দিচ্ছে। মেয়েদের চুলের মুঠি ধরে টানা হচ্ছে, রড দিয়ে মেরে হাত-পা পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে", জানান তিনি।

এই ছাত্রছাত্রীরা প্রায় সবাই কিয়েভ বা দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কষ্ট করে বাসে বা গাড়িতে চেপে সীমান্তে এসেছিলেন।

অনেককে সীমান্ত অবধি পৌঁছতে বিশ-তিরিশ মাইল হাঁটতেও হয়েছে।

Skip X post, 2
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post, 2

তাদের মধ্যে খুব কমজনই সীমান্ত পেরিয়ে পোল্যান্ড, রোমানিয়া বা হাঙ্গেরিতে ঢুকতে পেরেছেন - বেশির ভাগকেই প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে আধপেটা খেয়ে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হচ্ছে।

কমল ভোরা নামে আর একজন ছাত্রী ফেসবুকে জানিয়েছেন, রোমানিয়া সীমান্তেও সে দেশের সেনা তার বন্ধুদের মারধর করছে, তাদের সঙ্গে অসভ্যতা করা হয়েছে - এমন ভিডিও তিনি হাতে পেয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ভারত বিমান পাঠিয়ে বা সেনা পাঠিয়ে যে কোনওভাবে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাক, সরকারের কাছে এই আর্জিও জানান তিনি।

পাঞ্জাবের একজন ছাত্র গুরদীপ সিং জানান, নাইজেরিয়া বা আফ্রিকার অন্যান্য দেশের ছাত্রদের সীমান্ত পেরোতে দেওয়া হলেও শুধু ভারতীয়দেরই আটকানো হচ্ছে।

এদিকে কিয়েভে এখনও আটকা পড়ে রয়েছেন বেশ কয়েক হাজার ভারতীয়, তাদেরও দিন কাটছে অসহায় অবস্থার মধ্যে।

ইউক্রেনে বহু বিদেশি ছাত্রছাত্রীই বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে সীমান্তের দিকে হাঁটছেন

ছবির উৎস, DANIEL LEAL

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনে বহু বিদেশি ছাত্রছাত্রীই বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে সীমান্তের দিকে হাঁটছেন

আরও শ'পাঁচেক সতীর্থর সঙ্গে একটি ভবনের বেসমেন্টে আশ্রয় নেওয়া শচী জিন্দাল বলছিলেন, "তিনদিন ধরে ভারতীয় দূতাবাস তাদের বের করে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও এখনও কিছুই করেনি, এখন তারা ফোন ধরাই বন্ধ করে দিয়েছে।"

"এদিকে প্রতি পাঁচ মিনিটে শহরে বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমরা একজনের খাবার দশজনে ভাগ করে খাচ্ছি, তাতে সমস্যা নেই - কিন্তু দূতাবাস আমাদের দায়িত্ব তো নিক, উদ্ধার করার জন্য কিছু তো করুক!"

পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তে ভারতীয়দের যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও।

মি. শ্রিংলা রবিবার রাতে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তিনি নির্দিষ্ট করে এই বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন।

Skip X post, 3
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post, 3

তিনি আরও বলেন, "টেলিফোনে সরাসরি সীমান্তে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ইউক্রেন দূতাবাস বিষয়টির সুরাহা করবেন বলেও কথা দিয়েছেন।"

তবে পরিস্থিতি যে খুবই কঠিন, সে কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব আরও একটু ধৈর্য ধরারও আবেদন জানান।

এদিকে ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করে আনতে দিল্লি 'অপারেশন গঙ্গা' নামে অভিযান শুরু করেছে, তার আওতায় চারজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী আজ ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী চারটি দেশ - পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার পথে রওনা দিয়েছেন।

তারা নিজেরা সীমান্তে দাঁড়িয়ে উদ্ধার অভিযানের তদারকি করলে ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্থা অনেক কমবে বলে সরকার আশা করছে।

বিবিসি বাংলায় আজকের আরো খবর: