আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কোভিড: গত প্রায় চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৪ জন মানুষ মারা গেছেন।
এর আগে সর্বশেষ ৩১ জন মারা গিয়েছিলেন সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে ২০২১ সালে সংক্রমণ এবং মৃত্যু ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন মানুষ মারা গিয়েছিলেন ১০ই অগাস্ট।
এরপর ধীরে ধীরে মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করে, এবং এক পর্যায়ে দৈনিক মৃত্যু শূন্যতেও নেমে এসেছিল।
কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ১২ হাজার ১৮৩ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
দেশে এ নিয়ে মোট ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩২ জন রোগী শনাক্ত হলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৪জন মানুষেরই হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ হাজার ৩৬৩ জনে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানালেন মন্ত্রী
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোববার এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সেখানে তিনি বলেন, সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র এখনো পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ অনেকেই এখন নমুনা পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, "আক্রান্তের সংখ্যা আমি মনে করি আরো বহুগুণ বেশি রয়েছে। কিন্তু আমরা সে তথ্য পাচ্ছি না, কারণ অনেকেই পরীক্ষা করাতে আসছে না। হয়ত দশ বা ১২ হাজার লোক পরীক্ষা করাচ্ছে, সেই তথ্য আমরা পাচ্ছি।"
এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উপসর্গ মৃদু বলে হালকা বলে উড়িয়ে দেয়া ঠিক হবে না, সতর্ক হতে হবে । তাহলেই আমরা ভালো থাকতে পারবো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, "অমিক্রন আসার আগে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে দিনে চারশো থেকে পাঁচশো রোগী থাকত, কোথাও তার থেকেও কম রোগী থাকত। এখন সেটা আড়াই থেকে তিন হাজারে উঠে গেছে।
এখন যেভাবে বাড়ছে তাতে হাসপাতালের বেডগুলো অচিরেই ভরে যাবে এবং মৃত্যু বেড়ে যাবে।"
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিডে আক্রান্ত কারো শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকলেও তারা অন্যদের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে।
উপসর্গ-বিহীন রোগীদের কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি কারণ এরা সাধারণত আইসোলেশনে থাকে না বা সাবধানী হয় না।