এডিটার'স মেইলবক্স: হিজড়া ইউপি চেয়ারম্যান, তালাক আর অমিক্রন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম একজন হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে চেয়ার‍ম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল ইসলাম ঋতু, যিনি স্থানীয়ভাবে 'ঋতু হিজড়া' নামে পরিচিত।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''আমি বলবো এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিস্ময়কর এক ঘটনা। কেননা, বাংলাদেশের মানুষ যেখানে তৃতীয় লিঙ্গের অর্থাৎ হিজড়াদের হেয়প্রতিপন্ন করতেই ভালোবাসে, সেখানে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসী একজন হিজড়াকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তারা পুরো হিজড়া গোষ্ঠিকে সম্মান দেখিয়েছেন।

''আমি তৃতীয় লিঙ্গ শব্দটির পরিবর্তে আজ হিজড়া শব্দটিই ব্যবহার করবো; কেননা হিজড়া শব্দটিই আজ সম্মানিত হয়েছে। পরিবর্তনের এ হাওয়া প্রথম সৃষ্টি করার জন্য উক্ত ইউনিয়নবাসীকে সাধুবাদ জানাই।''

ঘটনাটি হয়তো যত বিস্ময়কর ভাবছেন ঠিক তত বিস্ময়কর না মিঃ শামীম উদ্দিন। কারণ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গ বিশেষ করে হিজড়া জনগোষ্ঠির প্রতি সমবেদনা এবং সমর্থন জোরদার হচ্ছে। তবে আমি আপনার সাথে একমত, নির্বাচনের ফলাফলকে ঐতিহাসিকই বলা যায়।

বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ৩০শে নভেম্বর নজরুল ইসলাম ঋতু বিবিসি বাংলা'র কাছে তার নির্বাচনের যে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন, তা শুনে আমি সত্যিই অভিভূত। তিনি প্রমা করেছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য যে পরোপকারী মনোভাব, নির্লোভ মানসিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং মানুষকে ভালবাসার ক্ষমতা প্রয়োজন, তা তার আছে। তার সামনের চলার পথটা যেন আরো বেশি মঙ্গলময় হয়। জনপ্রতিনিধি হোক মানুষ ভেদে, কোন লিঙ্গ ভেদে নয়।''

আপনার মত অনেকেই আশা করবেন মিঃ ইসলাম, এর পর অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ পদেও তৃতীয় লিঙ্গর মানুষজন লড়াই করার জন্য উৎসাহ পাবেন। তাদের লিঙ্গ পরিচয় আর কোন বাধা থাকবে না, সেটাই আশা করা যায়।

একই বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আসলে ট্রান্সজেন্ডার নারী বা পুরুষ কোনটাই নয়। সমাজে তাদের পরিচয় ওরা হিজড়া। বেশ কয়েক বছর আগে সরকার তাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরও সমাজে তারা নানাভাবে অবহেলিত, নিগৃহীত ও বঞ্চনার শিকার।

''দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকার নানা ভাতা গ্রহণের ব্যবস্থা করলেও তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হিজড়ারা বরাবরই তাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই আমি মনে করি, ইতিবাচকভাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন লোকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।''

আপনার বক্তব্যর সাথে সবাই যে একমত হবেন তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই মিঃ রহমান। তবে একটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলছি, তা হল, সকল ট্রান্সজেন্ডার হিজড়া নন।

ট্রান্সজেন্ডাররা মূলত রূপান্তরকামী। জন্মের সময় তারা শারীরিকভাবে এক লিঙ্গের, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক ভাবে তারা সেটা গ্রহণ করেন না, এবং অন্য লিঙ্গে রূপান্তরিত হতে চান।

তাদের অনেকে হিজড়া সম্প্রদায়ে যোগ দেন, তাদের জীবনযাত্রায় অংশ নেন। আবার হিজড়াদের বাইরেও অনেক ট্রান্সজেন্ডার আছেন, যেমন টেলিভিশন প্রেসেন্টার তাসনুভা শিশির একজন রূপান্তরিত নারী, কিন্তু তিনি হিজড়া নন।

যাই হোক, আপনার চিঠিতে আগের চিঠির মতই ইতিবাচক ভাবনা আছে যেখানে অনেক হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডার আশার আলো দেখতে পাবেন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

আশার কথা থেকে যাই কিছুটা হতাশার বিষয়ে, আর তা হল করোনাভাইরাসের নতুন ভেরিয়ান্ট অমিক্রন, যেটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা জেনম সিকুয়েন্সিং করে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

অমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন আতঙ্ক অমিক্রন ভেরিয়ান্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করার ক্ষমতা রয়েছে অমিক্রন ভেরিয়ান্টের।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন অমিক্রনের কারণে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে করোনা পরিস্থিতি। নতুন এই ভেরিয়ান্ট প্রতিরোধে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটা প্রত্যাশা করি। একই সাথে সাধারণ মানুষেরও উচিৎ যথাযথ ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অমিক্রন প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।''

এখানে উদ্বেগের কারণ অবশ্যই আছে মিঃ সরদার, কিন্তু এ'কথাও ঠিক যে, অমিক্রন সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। যার ফলে, উদ্বেগের কথাগুলো পুরোপুরি তথ্য-নির্ভর না। অমিক্রন আসলেই কত ভয়াবহ, সেটা নিয়েও দ্বিমত আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অমিক্রন ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে কি না, তা জানতে আরো তিন সপ্তাহ লেগে যাবে।

অনেক দেশ আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের হয় নিষিদ্ধ করছে, না হয় তাদের ওপর কড়া বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। কিন্তু তাতে অমিক্রনের সংক্রমন আটকানো যাবে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক আছে। অনেকে, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন চলাচলের ওপর এই বিধি-নিষেধ কোন কাজে আসবে না, বরঞ্চ নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর যে ঘটনা কিছুটা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা হল গণপরিবহন নিয়ে চলমান বিতর্ক আর সংঘাত। সম্প্রতি বাস মালিকরা ছাত্রদের দাবির মুখে ঢাকায় হাফ ভাড়া চালু করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক, বলছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''শুধুমাত্র ঢাকার ভেতরে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। বন্ধের সময় হাফ ভাড়া নেওয়া হবে না। কেন? সে সময় কি তাদের ছাত্রত্ব থাকবে না? শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি না মেনে কতদিন চলা যাবে? এর শেষ কোথায়?''

একই প্রসঙ্গে লিখেছেন নীলফামারীর ডোমার থেকে মোহাম্মদ সুজন ইসলাম:

''ঢাকার শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর হলো, কিন্তু বিষয়টা সত্যিই অবাক করার মতো। সরকার কি কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক? ঢাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আওতায় না আনার বিষয়টি কতটা যৌক্তিক? এর মানে কি স্পষ্ট নয় যে, সরকার ঢাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কতটা উদাসীন?''

আমি নিশ্চিত মিঃ সাঈদ এবং মিঃ ইসলাম, আপনার সাথে সবাই একমত হবেন যে, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার দাবি যে মোটেই অযৌক্তিক না। তবে আমার মনে হয় ঢাকার বাইরেও হাফ ভাড়া কার্যকর করার বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সেটা করতে সরকারকে যে বাস মালিকদের সাথে দর-কষাকষি করতে হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। হয়তো ভর্তুকির প্রতিশ্রুতিও দিতে হতে পারে।

তবে হাফ ভাড়ার আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, বিশেষ করে এ'সপ্তাহেই আরেকজন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় নিহত হবার পর। ছাত্রদের এই আন্দোলন নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দীন:

''সম্প্রতি দু'দুটি প্রাণহানির পর আবারও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায়। কোন প্রাণহানি আমাদের কাম্য নয়। তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে মধ্যে এই জনসমস্যা সৃষ্টিকারক আন্দোলন নিরাপদ সড়কের দাবি পুরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে এটা আমার বোধগম্য নয়। আমরা সমস্যার সমাধান চাই তবে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে নয়।''

আন্দোলন করে হাফ ভাড়া সংক্রান্ত দাবি আদায় সম্ভব হলেও, আন্দোলন করে সড়ক নিরাপদ করা যাবে কি না, তা একটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন বটে মিঃ মোমেন উদ্দিন।

তিন বছর আগে এর চেয়ে ব্যাপক একটি আন্দোলন হয়েছিল, যা এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছিল। তখন একটি আইন তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সড়ক নিরাপদ করতে হলে যেমন গাড়ি চালক, বাস চালক, মোটারসাইকেল চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চালাতে হবে, তেমনি শিক্ষার্থী সহ সকল পথচারীকেও ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তা পারাপার হতে হবে।

এবারে আমাদের একটি বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে চিঠি। সংসার ভেঙ্গে গেলে একজন নারী কত বড় মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যায়, তা নিয়ে মুন্নী আক্তারের প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:

''আমাদের সমাজে তালাক নিয়ে নারীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যে কেমন, তা মুন্নী আক্তারের প্রতিবেদনে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তালাক বা ধর্ষণের ক্ষেত্রে আমরা নারীদেরকে সবসময় বাঁকা চোখে দেখি। অনেকে এই ক্ষত সহ্য করতে না পেরে মানসিক ট্রমায় ভোগেন; যা কাটিয়ে ওঠা অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে।

''তালাক বা ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি আমাদের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। বিশ্বায়নের যুগে এসেও নারীদের প্রতি এরূপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি, তবে প্রকৃত নারী মুক্তি বা নারীর ক্ষমতায়ন যে সুদূর পরাহত, তা বলাই বাহুল্য।''

এক দিক থেকে আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ হক, সংসার যদি স্বামীর দোষেও ভাঙ্গে, সমাজ নারীকেই দোষারোপ করে। তবে আপনি ধর্ষণ আর তালাক এক সাথে দেখছেন কেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। নারী যখন ধর্ষণের শিকার হন, তখন তিনি ভিকটিম, শতভাগ ভিকটিম।

ধর্ষণ একটি শাস্তি-যোগ্য জঘন্য অপরাধ। কিন্তু বাংলাদেশে তালাক সামাজিক ভাবে খারাপ চোখে দেখা হলেও, সেটা কোন অপরাধ না, তালাকের জন্য কাওকে জেলে যেতে হয় না। আর তালাক শুধু পুরুষ দেয় না, নারীরাও প্রচুর তালাক দিয়ে থাকেন। অন্তত ঢাকা শহরে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি তালাক দিয়ে থাকেন।

তবে মুন্নীর প্রতিবেদনে যেটা দেখা গেছে, তালাক যেই দিক, দোষ যারই থাকুক না কেন, তালাকের পর নারীই সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, মানসিক ট্রমায় ভোগেন আর আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন নারী।

সামাজিক পরিবর্তের আরেকটি বিষয় পাঠকদের নজর কেড়েছে, তা হল লিভ টুগেদার নিয়ে আমার অনলাইনের প্রতিবেদন। কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা প্রশ্ন করে লিখেছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

''গত ৩০শে নভেম্বর বিবিসি বাংলার ফেইবুক পাতায় বিয়ে না করে লিভ টুগেদার করার বিষয়ে রিপোর্টটি পড়লাম। রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের সম্পর্ক খুবই সীমিত পরিসরে এবং গোপনে রয়েছে।

''লিভ টুগেদার বা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ককে আমাদের দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিতে চরমভাবে ঘৃণিত ও অগ্রহণযোগ্য কাজ বলে বিবেচনা করা হয় এবং অধিকাংশ মানুষ এটাকে পশ্চিমা অপসংস্কৃতির অংশ মনে করে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে বিবিসি বাংলা এটা আমাদের দেশে প্রমোট করার চেষ্টা করছে।

''এমনিতেই আমাদের দেশে মাদক, ধর্ষণ, ইভটিজিং, এসিড নিক্ষেপ, নারী নিগ্রহ, গ্যাং কালচার ইত্যাদি নানা সমস্যায় তরুণ সমাজ জর্জরিত। সেখানে লিভ টুগেদারের মতো অপসংস্কৃতি প্রমোট করা কতটা যৌক্তিক? আমার প্রশ্ন হল, এ ধরনের অপসংস্কৃতি আমাদের দেশে চালু করা কি বিবিসির দায়িত্ব?''

কোথাও কোন কিছু চালু করা বা প্রমোট করা বিবিসির দায়িত্ব না মিঃ হক, এবং সে দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেবার কোন ইচ্ছাও আমাদের নেই।

বিবিসি বাংলাদেশে লিভ টুগেদার কালচার শুরু করতে চাইছে না। কারণ, এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই চালু হয়ে আছে। এ'ধরনের জীবন-যাপন যেহেতু বাংলাদেশে ঘটছে, তাই বিবিসি তার ওপর একটি ফিচার প্রকাশ করেছে। এখানে উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হল সমাজের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে পরিবর্তনের দিকগুলো তুলে ধরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে যে ধরণের নতুন কৃষি বা জীবনযাত্রা বেছে নেয়া হচ্ছে, তার ওপর বিবিসি বাংলার ধারাবাহিক রিপোর্টিং দেখে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, কৃষি, সৌর বিদ্যুৎ ইত্যাদির উপর সানজানা চৌধুরীর কয়েকটি প্রতিবেদন পড়লাম, যা ভাল লেগেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মানুষ এবং গবাদি পশুর জীবন রক্ষার জন্য মুজিব কেল্লা নির্মা সম্পর্কে জানলাম।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ বিল্লাল, আপনার ফিডব্যাক আমি সানজানাকে পৌঁছে দেব। আপনার চিঠিতে আপনি কয়েকটি প্রশ্নও করেছিলেন তবে আমি খেয়াল করলাম, সব প্রশ্নের উত্তর সানজানার প্রতিবেদনেই ছিল।

সব শেষে, শ্রোতা জরিপ নিয়ে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন সাতক্ষিরা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''বিবিসির খবর শোনার শ্রোতার সংখ্যা বিশেষ করে বাংলা খবর শোনার শ্রোতা জরিপ কত আগে হয়েছে? পরপর কি শ্রোতা বাড়ছে না কমছে? পুরানোরাই আছেন না নতুনরা আসছে?''

বাংলাদেশে আমাদের সর্বশেষ জরিপ হয়েছিল ২০১৮ সালে মিস আক্তার। সেই জরিপে আমাদের রেডিওর শ্রোতা সংখ্যা বেশ কমে গিয়েছিল। এই মুহূর্তে আমরা যত দূর জানি, আমাদের ডিজিটাল, অর্থাৎ অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যম মিলে ডিজিটাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা রেডিও শ্রোতা সংখ্যার চেয়ে বেশি।

তবে আগামী বছর বাংলাদেশে নতুন জরিপ হবে, তখন আমরা আমাদের রেডিও এবং টেলিভিশন শ্রোতা-দর্শক সংখ্যার নতুন চিত্র দেখতে পাবো।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

সম্পদ কুমার পোদ্দার, শেরপুর, বগুড়া।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।

আফিয়া খানম জুলী, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

আব্দুর রহিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, পার্বতীপুর দোলাপাড়া উপশহর, রংপুর।

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।

এ.কে.এম একরামুল হক, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।

শহীদুল ইসলাম, তালগাছিয়া, ঝালকাঠি।