খালেদা জিয়া: অসুস্থ চেয়ারপার্সনকে বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে গণঅনশন করছে বিএনপি

বিএনপির অসুস্থ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার দাবিতে ঢাকা, জেলা ও মহানগরগুলোয় অনশন কর্মসূচী করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অনশন চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচীতে বসেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সেখানে রাস্তার দুইপাশে বিএনপির কর্মীরা অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

সেখানে শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ''বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আজকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি লড়াই করছেন। কিন্তু এই সরকার এখন পর্যন্ত তাকে সেই (বিদেশে) চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করছে না। আজকে এই গণঅনশন কর্মসূচি হচ্ছে আমাদের নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিতে।''

শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির এই অনশন কর্মসূচী ঘিরে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি জলকামান ও প্রিজন ভ্যানের উপস্থিতিও দেখা গেছে।

খালেদা জিয়া বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তা৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি এবং ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতা ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে।

এখন উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এবং জ্বরের কারণে তাকে হাসপাতালে সিসিইিউতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাঁর একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সিসিইউতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার।

তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, মিসেস জিয়ার এখন বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন-চিকিৎসকরা এখন এই একটাই পরামর্শ দিচ্ছেন।

সেজন্য তাদের ভাইবোনদের পক্ষ থেকে আবারও সরকারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

"এটাই আমাদের আবেদন সরকারের কাছে যে তাঁকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি ওনারা (সরকার) যেন দেয়" বলেন মিসেস জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম।

তবে বৃহস্পতিবার সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়ার করা আবেদনটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় তাকে বিদেশে যেতে অনুমতি দেয়ার আইনি কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের আইনের বইয়ে এটা নেই।

এর আগে বুধবার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে তার পরিবারের করা আবেদন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "আমরা অমানুষ না। অমানুষ না বলেই তাকে অন্তত তার বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু, নির্বাহী ক্ষমতা আমার হাতে যতটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। আর কত চান?"

খালেদা জিয়াকে যে বাসায় থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে, বাসায় রেখে চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে- এটাই কি বেশি নয়? এমন মন্তব্য করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। চিকিৎসকরা জানিয়ছেন, এ দেশের যা কিছু চিকিৎসা, তা দেয়া হয়েছে। এখানে আর সম্ভব নয়। এখন তাঁকে বিদেশে নিতে হবে।

''খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হবে না, এটা অমানবিক। আমরা অনতিবিলম্বে তার জীবন রক্ষার জন্য, বিদেশে বিচিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।''

সেদিন তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার গণ-অনশন কর্মসূচীর ঘোষণা দেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: