ক্রিকেট: পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের ভাবনা কী?

    • Author, রায়হান মাসুদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সমালোচনা এবং সমর্থকদের মধ্যে হাসিঠাট্টা এবং ক্ষোভ দেখা গেছে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে বাংলাদেশের শোচনীয় ব্যর্থতার পরে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দ্রুতগতির বোলারদের বলে বিপর্যস্ত ব্যাটিং করেছে।

বিশেষত অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলারদের সামনে অসহায় লেগেছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের।

এমনকি স্পিনেও অ্যাডাম জাম্পা একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে নিয়েছেন।

এতে করে বাংলাদেশের ধীরগতির উইকেটে টানা দুই সিরিজ খেলার পর বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে সমালোচনা আরো জোরালো হয়।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান মনে করেন না, যে এই উইকেটের কারণেই বাংলাদেশ খারাপ খেলেছে।

"নানা বিষয় আছে, শুধু উইকেট হলে হতো না এমন। টেকনিক্যাল কারণে খারাপ খেলেছে, স্কিল অনুযায়ী খেলতে পারেনি অনেকে।"

ক্রিকেট নিয়ে আরো পড়ুন:

যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবেশে ভারতের ক্রিকেটাররা প্রায় এক মাস ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলেও সুপার টুয়েলভ পর্বেই বাদ পড়ে গেছে, প্রথম দুই ম্যাচে ১০ ও ৮ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে।

এখানে আকরাম খান মনে করেন, দক্ষতা ও ম্যাচ পরিস্থিতির সাথে সমন্বয় করে খেলাটা বাংলাদেশ খেলতে পারেনি। মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

তবে মিরপুরের উইকেট নিয়ে আকরাম খান বলছেন, প্রতি বছরই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে, বৃষ্টির পর পর মিরপুরের উইকেট স্যাঁতস্যাতে থাকে মাটি নরম থাকে যে কারণে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই তুলনামূলক শুষ্ক সময়টাতে উইকেট ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

"এই সময়টাতে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) আমরা বিপিএল করি, অন্যান্য বড় খেলা থাকে, এই সময়ে উইকেট তো ভালোই থাকে, তেমনই থাকবে। এখানে আমরা কোন উইকেট করি সেটা নির্ভর করে সময়ের ওপর।"

আকরাম খানের মতে, শীতকালে শুষ্ক উইকেটে তুলনামূলক ব্যাটিং সুবিধা ভালো পাওয়া যায়।

একই ভেন্যুতে অনেক ম্যাচের কথাটাও তিনি তুলে আনেন।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রায় ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ একই মাঠে টানা খেলা হয়েছে বাংলাদেশে।

আকরাম খান মনে করেন এতে উইকেটের ওপর দিয়ে ধকল যায়।

"এবারে খেলা চট্টগ্রামেও হবে। এতে করে উইকেট বিশ্রাম পাবে। আরও ভালো খেলা দেখা যাবে আশা করি।"

নিয়মিত ক্রিকেট অনুসরণ করেন ফারিয়া উলফাত সৈয়দ, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "গ্রিন গ্রীন আর ডাস্টি পিচের মাঝামাঝি একটা ভার্সন। ফাস্ট বোলারদের জন্যও ভালো হবে। বল টার্নিং ও হবে হাল্কা। স্লো, ড্রাই উইকেট একদমই চাই না"।

তবে যে ধরনের উইকেটেই খেলা হোক বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে পিচ দিয়ে কোনও সুবিধা পাবে না বলেই মনে করেন ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দরকার ভালো খেলায় মনোযোগ দেয়া। পাকিস্তানের সাথে কোনও উইকেটে সুবিধা নেয়ার সুযোগ নাই। ওদের ব্যাটিংটা ভালো। এই পরিবেশে কীভাবে ব্যাট করতে পারে বল করতে পারে তারা জানেন।

মি. ফাহিম মনে করেন, যেকোনও পরিবেশেই পাকিস্তান ভালো বল করতে পারে, এটা প্রমাণিত।

"আমরা যদি এগুলো নিয়ে অনেক ভাবি নৈতিক মনোবল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তখন কেবল সুবিধা নেয়ার কথাটাই ভাবা হয়।"

নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, যেহেতু একদল নতুন ক্রিকেটার এই দলটায় এখন আছে এবং বেশ কিছু পরিবর্তন আছে সেখানে ভালো খেলাটায় ফোকাস করাটাই দরকার।