সিলেটে নো ম্যান্স ল্যান্ডে পড়ে আছে দু'জন বাংলাদেশির লাশ, পুলিশ বলছে বিএসএফের গুলিতে নিহত

বাংলাদেশে পুলিশ বলছে, সিলেটের কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে দু'জন বাংলাদেশির লাশ পড়ে আছে। পুলিশ বলছে, বিএসএফের গুলিতে ওই দু'জন নিহত হয়েছেন।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, লাশ দু'টি এখনো নো ম্যান্স ল্যান্ডেই আছে, এখনো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
তিনি বলেছেন, রাতে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে একজন আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসেছেন। বাকি দু'জন নো ম্যান্স ল্যান্ডে মারা গেছেন।
মি. ইসলাম বলেছেন, ঘটনাটি ঘটেছে রাতে, কিন্তু ঘটনাস্থল প্রত্যন্ত পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পুলিশ আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে।
আহত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিই নিহত দু'জনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত দু'জনের বাড়ি কানাইঘাটের এরালিগুল গ্রামে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বেআইনিভাবে সীমান্ত পথে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফ গুলি চালিয়েছে।
মি. ইসলাম বলেছেন, যেহেতু লাশ নো ম্যান্স ল্যান্ডে আছে, সে কারণে পতাকা বৈঠকের পর মরদেহ বাংলাদেশে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর মধ্যে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অন্যতম।
সীমান্তে হত্যা শূন্যতে নামিয়ে আনা আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার ব্যাপারে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকবার সমঝোতা হয়েছে।
কিন্তু কার্যত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়নি এখনো।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি সীমান্তে গুলিতে নিহত হয়েছে।
আহত হয়েছে আরও চার জন, আর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিন জনকে।

ছবির উৎস, Getty Images
আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সীমান্তে গুলিতে নিহত হয়েছে ৪২ জন বাংলাদেশি।
আর নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে ৬ জন।
তার আগে ২০১৯ সালে বিএসএফ'র হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন গুলিতে।
আর বাকি ৬ জনকে নির্যাতন করে মারা হয় বলে জানা গেছে।









