রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এক ছাত্রের বিষপানের দাবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
ছবির ক্যাপশান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালযয়ের একজন শিক্ষিকা মাস খানেক আগে ১৪জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার পর থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রকাশ্যে একজন শিক্ষার্থী বিষপান করেছেন বলে তার সহপাঠীরা দাবি করছেন।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী রাকিব খন্দকার দাবি করেন, "শামীম হোসেন নামের ঐ ছাত্রটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন । এসময় হঠাৎ পকেট থেকে একটি বিষের বোতল বের করে প্রকাশ্যে তিনি পান করেছেন।"

শামীম হোসেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

এরপর ঐ শিক্ষার্থীকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় চিকিৎসার জন্য।

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাকিব হাসনাত বিবিসি বাংলাকে বলেন, "শামীম হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।"

আরো পড়ুন:

২০১৯ সালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের একটি ক্লাশরুম
ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের একটি ক্লাশরুম

তবে ঐ শিক্ষার্থী কী ধরনের বিষ পান করেছেন সেটা বলেননি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "তার (শামীম হোসেন) শরীরে বিষের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখনো দেখা যায়নি। আমরা ২৪ ঘণ্টা (তাকে) পর্যবেক্ষণে রাখব। প্রয়োজন হলে সদর হাসপাতাল বা বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে।"

শামীম হোসেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় অনশন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাত থেকে দ্বিতীয় দফায় ফের অনশনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষিকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ অনশন শুরু করেছেন তারা।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ঘটনা সম্পর্কে আমি জেনেছি। তবে আমার মনে হয় ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খেয়েছে।

"এছাড়া যে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। কিন্তু আরো কিছু তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে সময় নেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অধৈর্য হয়ে পড়েছে," জানান আব্দুল লতিফ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার এবং শিক্ষকরা গেলে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, "শিক্ষকরা সেখানে গেছে ছাত্রদের বোঝানোর জন্য। আশা করছি এর একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।"

তিনি আরো জানান যে, আরো ২৭ দিন পর আরেকটি সিন্ডিকেট বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন ঘটনার প্রায় একমাস পর সিন্ডিকেট সভা হয়, কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা মূলতবি ঘোষণা করে শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত ঐ শিক্ষিকা বর্তমানে অস্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত অবস্থায় আছেন।। কিন্তু শিক্ষার্থীরা চাইছেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক।

এদিকে ঐ ছাত্রের বিষপানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে ঢাকা -পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ঘণ্টাখানেক। এতে করে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: