লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মামলা

প্রতিকী ছবি

ছবির উৎস, towfiqu ahamed/Getty

ছবির ক্যাপশান, দশ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জোর করে চুল কেটে দেয়ার একটি ঘটনা আলোচনায় এল (প্রতিকী চিত্র)
Published

লক্ষ্মীপুরের একটি মাদ্রাসায় ৭ জন ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হবার পর একজন ছাত্রের অভিভাবক থানায় মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে বলে জানাচ্ছে রায়পুর থানার পুলিশ।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রদের চুল কাটা নিয়ে প্রথমে তাকে আটক করা হয়।

"পরে এই বিষয়ে একজন ছাত্রের অভিভাবক শিশু আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে"।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজির দিঘীরপাড় এলাকা থেকে শিক্ষক মঞ্জুর কবিরকে আটক করে রায়পুর থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন:

চুলে কোন ফ্যাশনেবল ছাঁট দেয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় কড়া নির্দেশ জারি করা হয়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোনরকম শারিরীক নির্যাতন আইনত নিষিদ্ধ। (প্রতিকী চিত্র)

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটাতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি কয়েকজন ছাত্রের চুল কেটে দিচ্ছেন। একজন ছাত্রের অনিচ্ছা সত্বেও তার মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি।

ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে, মামলার বাদী শাহেদা বেগম, যিনি ওই ভিডিওতে থাকা একজন ছাত্রের মা, তিনি বিবিসিকে বলেন, "আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। তার চুল তো শিক্ষক কেটে নিতে পারে না। আমি সেই কারণে মামলা করেছি"।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ কামাল জানান, ঘটনাটি ঘটে সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ঐ চুল কাটার একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।

মি. কামাল জানান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ শিক্ষক চুল কাটার কথা স্বীকার করেছেন।

মি. কামালের ভাষ্য অনুযায়ী, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ শিক্ষক বলেন-আমি ছাত্রদের বলেছি বড় চুল দেখতে ভালো লাগে না। চুল যেন তারা কেটে ফেলে। কিন্তু তারা কাটেনি। এরপর আমি নিজেই কেটে দিয়েছি আর বলেছি সেলুনে যেয়ে বাকিটা কেটে নিতে"।

সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলীয় সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের ১৪জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেবার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ওই পদ থেকে ২৮শে সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর যেকোন ধরণের নির্যাতন আইনত নিষিদ্ধ।