আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই ৯/১১-র আক্রমণের সাথে সৌদি সংশ্লিষ্টতার দলিলপত্র প্রকাশ করতে শুরু করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দু'জনের সাথে কিছু সৌদি নাগরিকের যোগাযোগের নতুন দলিলপত্র প্রকাশ করেছে এফবিআই।
ছিনতাই করা বিমান দিয়ে চালানো ওই আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। নিহতদের স্বজনদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন এসব গোপনীয় দলিল 'ডিক্লাসিফাই' অর্থাৎ প্রকাশ করার জন্য।
তাদের যুক্তি ছিল, সৌদি কর্মকর্তারা এ আক্রমণ সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিলেন কিন্তু তা ঠেকানোর কোন চেষ্টা করেননি।
সদ্য-প্রকাশিত ১৬ পৃষ্ঠার এ দলিলে ৯/১১র বিমান ছিনতাইকারীদের দু'জনের সাথে বেশ কয়েক সৌদি নাগরিকের যোগাযোগের কথা আছে, তবে এর সঙ্গে সৌদি সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই।
এগারোই সেপ্টেম্বরের ১৯ জন বিমান ছিনতাইকারীর মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক।
আরো পড়তে পারেন:
ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাস এসব গোপনীয় দলিল প্রকাশকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে ওই বিমান ছিনতাইকারী ও সৌদি রাজতন্ত্রের মধ্যে কোন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে তারা এসব দাবিকে 'মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ' বলে আখ্যায়িত করেছে।
দলিলে কী আছে?
দলিলটি মোট ১৬ পাতার এবং এর বহু অংশই কালি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।
এটির ভিত্তি হচ্ছে একজন সূত্রের সাক্ষাৎকার - যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, এবং তাকে শুধু পিএলএল নামে উল্লেখ করা হয়েছে ।
এতে ৯/১১-র দু'জন বিমান ছিনতাইকারী নওয়াফ আল-হাজমি এবং খালিদ আল-মিদারের সাথে বেশ কয়েকজন সৌদি নাগরিকের যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।
এই ছিনতাইকারীরা ২০০০ সালে ছাত্র পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। এফবিআইয়ের মেমোতে বলা হচ্ছে - তার পর তারা ওমর আল-বাইউমির কাছ থেকে বড় রকমের 'লজিস্টিক' সহায়তা পান।
সে সময় মি. আল-বাইউমির আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ছিল যে তিনি একজন ছাত্র। কিন্তু তা সত্বেও লস এঞ্জেলেসের সৌদি কনস্যুলেটে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল।
সূত্রটি এফবিআইকে বলেছে, কনস্যুলেটে মি. আল-বাইউমির মর্যাদা ছিল অত্যন্ত উঁচু।
মেমোতে বলা হয়: " হামজি ও মিদা-কে বাইউমি যে সহায়তা দেন - তার মধ্যে ছিল, অনুবাদ, ভ্রমণ, থাকার জায়গা দেয়া এবং অর্থায়ন। "
এফবিআইয়ের দলিলে আরো বলা হয়, লস এঞ্জেলেসের কিং ফাহাদ মসজিদের একজন রক্ষণশীল ইমাম ফাহাদ আল-থুমাইরির সাথেও এই দুই ছিনতাইকারীর যোগাযোগ ছিল। সূত্রটি বর্ণনায় এই ইমাম "চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।"
মি. বাইউমি এবং মি. থুমাইরি - দু'জনই ৯/১১-র আক্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
এ ছাড়া ৯/১১তে নিহতদের স্বজনদের একজন আইনজীবী জিম ক্রাইন্ডলারকে উদ্ধৃত করে এপি আরো জানিয়েছে যে - ৯/১১র আক্রমণের ব্যাপারে সৌদি সরকারের দায় সম্পর্কে এক মামলায় তারা যে সব যুক্তি দিয়েছিলেন - প্রকাশিত এই দলিলপত্রে এর সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে।
গত মাসে নিহতদের স্বজনদের করা এক মামলার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সাবেক সৌদি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
একাধিক প্রেসিডেন্ট এ দলিল প্রকাশ করেননি
জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা. ডোনাল্ড ট্রাম্প - এই তিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনই এর আগে "জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের" কারণ দেখিয়ে এসব দলিলপত্র প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন।
তবে জো বাইডেন গত সপ্তাহে এক আদেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এগুলো পুনর্বিবেচনা ও প্রকাশ করতে বলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ৯/১১র ঘটনার সাথে সৌদি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ব্যাপারে জল্পনা ছিল - যেহেতু আক্রমণকারীদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের সংখ্যা এত বেশি এবং আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনও একজন সৌদি।
তবে ৯/১১ কমিশনের রিপোর্টে ওই ঘটনার সাথে কোন উর্ধতন সৌদি কর্মকর্তা বা সৌদি সরকারের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ - যদিও তাদের সম্পর্ক কখনো কখনো চাপের মুখে পড়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সম্পর্ক জোরদার করেছিলেন, কিন্তু জামাল খাসোগজি হত্যাকাণ্ডের পর জো বাইডেন সৌদি আরবকে 'একঘরে' বলে উল্লেখ করেছিলেন।
বিবিসির ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, সম্প্রতি অবশ্য মি. বাইডেন সৌদি আরবের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যাপারে তার অবস্থান নমনীয় করেছেন, যাতে সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক যে কত গুরুত্বপূর্ণ - সেই রুঢ় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে।