যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৯/১১ হামলার আইডিয়া দিয়েছিলেন যে খালিদ শেখ মোহাম্মদ - তার বিচার কেন এখনো শেষ হচ্ছে না

ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ২০ বছর আগে ভয়াবহ হামলা চালানোর মূল পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে, তিনি আমেরিকার কারাগারে আটক রয়েছেন। সেখানে তার বিচার চলছে। কিন্তু তাকে কি হামলার আগেই থামিয়ে দেওয়া যেত?

"সে আমার লোক ছিল।"

ফ্র্যাঙ্ক পেলিগ্রিনো যখন টেলিভিশনের পর্দায় বিমানগুলোকে টুইন টাওয়ারের ওপর আছড়ে পড়তে দেখলেন, তখন তিনি মালয়েশিয়ার একটি হোটেলের কক্ষে বসে ছিলেন। দেখার সাথে সাথেই প্রথম যে কথাটি তার মাথায় এসেছিল তা হল: "মাই গড, এটা নিশ্চয়ই খালিদ শেখ মোহাম্মদের কাজ।"

পেলিগ্রিনো যে পদে চাকরি করতেন তার কারণে এই হামলার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর গোয়েন্দা কর্মকর্তা পেলিগ্রিনো প্রায় তিন দশক ধরে লেগেছিলেন খালিদ শেখ মোহাম্মদের পেছনে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার মূল-হোতার বিচার শেষ হয়নি।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের একজন আইনজীবী ডেভিড নেভিন বিবিসিকে বলেছেন, এই মামলার বিচারকার্য শেষ হতে আরো ২০ বছর লেগে যেতে পারে।

আরো পড়তে পারেন:

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার সাথে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জড়িত তার নাম ওসামা বিন লাদেন। সেসময় তিনি ছিলেন আল কায়দার নেতা। কিন্তু এই হামলার ব্যাপারে তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের যে কমিশন সেই '৯/১১ কমিশনের' মতে খালিদ শেখ মোহাম্মদ, যিনি সংক্ষেপে কেএসএম নামে পরিচিত, তিনিই ছিলেন হামলার "মূল পরিকল্পনাকারী।"

তিনিই সেই ব্যক্তি - যিনি বিমান দিয়ে এভাবে হামলার ধারণা দিয়েছিলেন এবং সেটা আল-কায়দার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তার জন্ম কুয়েতে। পড়াশোনা করেছেন আমেরিকায়। পরে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করেছেন। ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার কয়েক বছর আগে থেকেই এফবিআই-এর গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক পেলিগ্রিনো এই জিহাদিকে অনুসরণ করছিলেন।

বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে ১৯৯৩ সালের বোমা হামলার ঘটনায় এফবিআই পেলিগ্রিনোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কর্তৃপক্ষ তখনই এই নামটির কথা প্রথম জানতে পারে। কারণ তদন্তে দেখা যায় যে ওই হামলার সাথে জড়িত এক ব্যক্তির কাছে তিনি অর্থ প্রেরণ করেছিলেন।

এফবিআই-এর এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা খালিদ শেখ মোহাম্মদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে কিছু ধারণা করতে পেরেছিলেন - যখন ১৯৯৫ সালে একটি পরিকল্পনার সাথে তার জড়িত থাকার কথা জানা গিয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পেলিগ্রিনো ১৯৯০-এর দশকে যখন তাকে অনুসরণ করছিলেন, সেসময় তাকে একবার প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন।

তিনি এবং আরো একটি দল ওমানে যান। খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ধরার জন্য তাদের পরিকল্পনা ছিল যে তারা কাতারে চলে যাবেন। তাকে ধরে নিয়ে আসার জন্য একটি বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কূটনীতিক এই পরিকল্পনায় বাধা দেন।

পেলিগ্রিনো কাতারে যান এবং সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলেন যে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিমান দিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ রয়েছে তার কাছে। তিনি বলেন, সেসময় তারা খুব সতর্ক হয়ে পড়ে এবং মনে করে যে সেরকম কিছু হলে সেটি সমস্যা তৈরি করবে।

পেলিগ্রিনো বলেন, "আমার মনে হয় তারা ভেবেছিল যে এটা হয়তো নৌকা দোলানোর মতো কোনো ঘটনা।"

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত পেলিগ্রিনোকে জানান কাতারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে তারা খালিদ শেখ মোহাম্মদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। "সেখানে উৎকণ্ঠা ছিল, রাগ ছিল, ছিল হতাশা। আমরা জানতাম যে তাকে ধরার একটা সুযোগ আমরা হারিয়ে ফেললাম," বলেন তিনি।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে নব্বই-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদকে বড় ধরনের টার্গেট হিসেবে দেখা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের 'শীর্ষ দশ ফেরারির' তালিকাতেও তার নাম ছিল না। সেখানে কেএসএমের নামও লেখাতে পারেন নি তিনি। "আমাকে বলা হয়েছিল যে আরো অনেক সন্ত্রাসী রয়ে গেছে," বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র যে তাকে ধরতে চাইছে সম্ভবত এই তথ্য কেএসএমকে কেউ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি কাতার ছেড়ে আফগানিস্তানে চলে যান।

আরো পড়তে পারেন:

এর পরের কয়েক বছর ধরে তার নাম বারবারই আসতে থাকে। সারা বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে যাদের ধরা হয়, তাদের অনেকের কাছে কেএসএমের নাম পাওয়া যায়। সেখান থেকেই ধারণা স্পষ্ট হয় যে তার সঙ্গে অনেকের যোগাযোগ রয়েছে।

এর মধ্যেই কোনো এক সময়ে তিনি ওসামা বিন লাদেনের কাছে একটি পরিকল্পনা নিয়ে যান। তাতে পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিমান উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কিছু ভবনের ওপর হামলা চালানোর ধারণা দেওয়া হয়।

এবং তার পরেই ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় কেএসএমের জড়িত থাকার ব্যাপারে পেলিগ্রিনোর সন্দেহ তখনই প্রমাণিত হয় যখন হেফাজতে থাকা আল-কায়দার গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা তাকে চিনতে পারেন। "সবাই তখন উপলব্ধি করলো যে এটা করেছে সে ফ্র্যাংকেরই লোক ছিল।"

"আমরা যখন জানতে পারলাম যে সেই-ই ওই ব্যক্তি, তখন আমার চেয়ে বেশি দুঃখ আর কেউ পায়নি।"

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালে খুঁজে বের করার পর তাকে পাকিস্তানে গ্রেফতার করা হয়।

পেলিগ্রিনো আশা করেছিলেন কেএসএমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন তাতে তার বিচার হবে। কিন্তু এর পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তাকে এমন একটি গোপন জায়গায় নিয়ে যায় যেখানে "জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে আরো উন্নত কৌশল" ব্যবহার করা হয়।

"আমি জানতে চেয়েছিলাম সে কী জানে, এবং সবার আগে আমি এটাই জানতে চেয়েছিলাম," সিআইএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেসময় একথা বলেছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় খালিদ শেখ মোহাম্মদের মাথা অন্তত ১৮৩ বার পানির ভেতরে ডুবিয়ে রাখা হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় 'ওয়াটারবোর্ডিং' এবং একসময় ওই ব্যক্তির পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। পায়ুপথ দিয়ে পানি প্রবেশ করানো হয়। শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয়, নগ্ন করে রাখা হয় এবং তাকে বলা হয় যে সন্তানদের হত্যা করা হবে।

এসময় তিনি বেশ কয়েকটি ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু পরে সেনেটের এক রিপোর্টে দেখা যায় যেসব গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার বেশিরভাগই আটক ব্যক্তির তৈরি করা।

সিআইএর বন্দী করে রাখার কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের মতো "মূল্যবান বন্দীদেরকে" ২০০৬ সালে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানে এফবিআইকে যেতে দেওয়া হয়।

ফ্র্যাংক পেলিগ্রিনো যার পেছনে এতো দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি তার সঙ্গে মুখোমুখি হন।

তারা দু'জন বসেছিলেন টেবিলের দু'পাশে।

"আমি তাকে জানাতে চেয়েছিলাম যে নব্বই-এর দশকে তাকে অভিযুক্ত করার সাথে আমি জড়িত ছিলাম," বলেন তিনি। তার উদ্দেশ্য ছিল ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে তথ্য বের করতে তার সঙ্গে আলোচনার একটা পথ খুলে দেওয়া।

সেসময় কী আলোচনা হয়েছিল - এফবিআই-এর সাবেক এই কর্মকর্তা সেবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, "আলোচনায় সে ভালভাবেই অংশ নিয়েছিল। বিশ্বাস করবেন কীনা জানি না , তার রসবোধ বেশ তীব্র ছিল।"

কেএসএমকে প্রায়শই গুয়ান্তানামো বে কারাগারের শুনানিতে দেখা গেছে এবং পেলিগ্রিনো সন্দেহভাজন এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে "কারদাশিয়ান" বলে অভিহিত করেছেন তার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য, কিন্তু তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায়নি।

"আমি নিশ্চিত সে মনে করে যে ঠিক কাজটাই সে করেছে," বলেন তিনি।

পেলিগ্রিনো বলেন, খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ছয়দিন কথা বলার পর তার মনে হয়েছে যথেষ্ট হয়েছে।

এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলার বিচারের জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটা হয়নি। নিউ ইয়র্কেও একটি বিচার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে সেটিও হতে পারেনি। "সবাই চিৎকার করে বলছিল এই লোকটিকে আমি আমার বাড়ির আঙ্গিনায় দেখতে চাই না। তাকে গুয়ান্তানামোতেই রেখে দেওয়া হোক," বলেন পেলিগ্রিনো, যিনি নিজেও নিউ ইয়র্কের একজন বাসিন্দা।

পরে গুয়ান্তানামোতে তার সামরিক বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা প্রক্রিয়ার কারণে এটিও বিলম্বিত হয়। কোভিড মহামারির কারণে গুয়ান্তানামো বন্ধ হয়ে গেলে এই বিচার অনুষ্ঠান আরো জটিল হয়ে পড়ে। এ-সপ্তাহে আরো অনেক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু বিচার শেষ হতে এখনও বহু পথ বাকি।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের আইনজীবী মনে করেন এখন যেসব শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেগুলো আসলে করা হয়েছে হামলার ২০তম বার্ষিকীতে কিছু একটা যে হচ্ছে সেটা মিডিয়াকে দেখানোর জন্য। ডেভিড নেভিন বিবিসিকে বলেন - তিনি আশা করছেন, "২০ বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ব্যাপারে কাজ হবে।"

আরো পড়তে পারেন:

এই আইনজীবী ২০০৮ সালে মামলাটি শুরু হওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আসল পরিকল্পনা ছিল সাথে সাথেই বিচারকার্য শুরু করা। কিন্তু তিনি বলেন যে তারা এখনও সেটা শুরুই করতে পারেন নি। তিনি বলেন, নতুন একজন বিচারকও নিয়োগ করা হয়েছে, "এই বিচারে যিনি সম্ভবত হবেন অষ্টম কী নবম বিচারক।"

বিচারককে প্রথমে আগের শুনানিগুলোর ৩৫,০০০ পাতার বিবরণ পড়ে দেখতে হবে। এর সঙ্গে রয়েছে হাজার হাজার নির্দেশনা। নেভিন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই ফৌজদারি অপরাধের সবচেয়ে বড় বিচার।"

এবং সবচেয়ে বিতর্কিত।

কারণ পাঁচজন বিবাদীর সবাইকে সিআইএর গোপন বন্দী শিবিরে আটক করে রাখা হয়েছে যেখানে তাদের উপর "জিজ্ঞাসাবাদের উন্নত কৌশল" ব্যবহার করা হয়েছে।

এর ফলে তথাকথিত এসব "গোপন জায়গায়" যেসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইনজীবী নেভিন বলেন, "এসব লোকের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এসব আয়োজন ও বাস্তবায়ন করেছে।" এর ফলে যেকোনো সাজার বিরুদ্ধে আপিলের প্রচুর সুযোগ রয়েছে - যা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত একজন বিবাদীকে আইনজীবী নেভিন কিভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন - সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, শুরুর দিকে তার মক্কেল আমেরিকার একজন আইনজীবীকে নিতে চাননি। ফলে দু'জনে দু'জনকে চেনার প্রক্রিয়া ছিল বেশ দীর্ঘ।

তিনি বলেন, খালিদ শেখ মোহাম্মদকে যখন নৌ-ঘাঁটির অত্যন্ত গোপন একটি জায়গায় আটকে রাখা হয়, তখন আইনজীবীদেরকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে ৪৫ মিনিট চালানো হয় যাতে তারা বুঝতে না পারেন যে তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় গাড়ির জানালাও বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন তার মক্কেলকে ক্যাম্প ফাইভে রাখা হয়েছে যা খুব বেশি গোপন নয়।

এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলায় যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারের আবেগ অনুভূতির ব্যাপারে আইনজীবীদের দলটি অবগত আছেন। ট্রাইব্যুনালের শুনানির সময় তাদেরকে নিয়ে আসা হয়। অনেক সময় তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কিছু কিছু পরিবারের সদস্য নেভিনের মতো আইনজীবীকে চ্যালেঞ্জ করেন যে কেন তারা এরকম বিবাদীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আবার অনেকেই কিভাবে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে সে বিষয়ে জানতে তাদেরকে প্রশ্ন করেন।

"গত কয়েক বছর ধরে তারা যে ধরনের দুঃখ ও যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন সেটা যাতে আরো তীব্র না হয় সেভাবেই আমরা কাজ করি," বলেন নেভিন।

নেভিন মনে করেন এই মামলার সাজা মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় তা বিচার প্রলম্বিত হওয়ার পেছনে আরো একটি কারণ। কারণ এতে ঝুঁকি রয়েছে।

"সরকার যদি এসব ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে না চাইতেন, তাহলে অনেক আগেই বিচার শেষ হয়ে যেত," বলেন তিনি।

পেলিগ্রিনো এফবিআই থেকে অবসর নিতে তিন বছর দেরি করেন। কারণ তিনি আশা করেছিলেন যে এই সময়ের মধ্যে সামরিক ট্রাইব্যুনালে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শেষ হয়ে যাবে, যাতে তিনি সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করেছিলেন। "চাকরিরত অবস্থায় এসব দেখতে পেলে ভাল হতো," বলেন তিনি।

কিন্তু পরে তিনি অবসর নেন।

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ধরতে বিশ্ব পাড়ি দেওয়া এই ব্যক্তির মধ্যে এখন ব্যর্থতার তীব্র এক বোধ কাজ করে। তিনি মনে করেন, নব্বই-এর দশকে তাকে ধরতে পারলে এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলা হয়তো এড়ানো যেত।

"তার নামটি প্রত্যেকদিন আমার মাথায় চলে আসে এবং এই চিন্তা খুব একটা সুখকর নয়," বলেন তিনি।

"সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এটা একই রকম আছে।"

বিবিসি বাংলায় আরো খবর: